সুপারমডেলের শীতফ্যাশন

নিজের সংগ্রহের পোশাক পরেই নকশার জন্য ছবি তুললেন আসিফ আজিম। ছবি: কবির হোসেন
নিজের সংগ্রহের পোশাক পরেই নকশার জন্য ছবি তুললেন আসিফ আজিম। ছবি: কবির হোসেন

শীত পোশাকের ট্রেন্ড এবার কেমন হবে, এটা জানানোর জন্য বোধহয় তিনিই উপযুক্ত। ‘ছয় মাস আগেই আমরা জেনে ফেলি কেমন ট্রেন্ড আসছে।’ নিজেই বললেন আসিফ আজিম। জানবেনই তো, যে ডিজাইনাররা ট্রেন্ড তৈরি করবেন, তাঁদের নতুন পোশাকগুলো তুলে ধরবেন মডেলরাই।
মুম্বাইয়ের সুপারমডেল আসিফ আজিম সম্প্রতি ঘুরে গেলেন বাংলাদেশ। উপলক্ষটা একদম পারিবারিক হলেও ২১ নভেম্বর নকশার জন্য একফাঁকে ঠিকই সময় বের করে নিলেন। নিজের স্টাইল নিয়ে, এ বছরের শীতফ্যাশনের ট্রেন্ড নিয়ে তো জানালেনই। বাড়তি পাওনা, খোদ সুপারমডেলের কাছ থেকেই টিপস-মডেল হতে চাইলে কী করতে হবে।
‘কেমন পোশাক আপনার পছন্দ’—এ প্রশ্নটা দিয়ে কিছুতেই আলাপ শুরু করা যাবে না। যতই ফরমাল পোশাক পরা হোক, ‘স্পোর্টি আর ক্যাজুয়াল’ ধাঁচের পোশাকই যে তাঁর ভালো লাগে এটা তো অনেকবারই জানিয়ে দিয়েছেন আসিফ আজিম। পরের প্রশ্নটাই তাই আগে করতে হলো। অন্যদের জন্য তাঁর পরামর্শ কী? সবাই সুপারমডেল নয় যে, যা-ই পরা হোক মানিয়ে যাবে। সবার সব রকম পোশাক ‘ক্যারি’ করার আত্মবিশ্বাসও থাকে না।

নিখুঁত ফিটিংয়ের পোশাক আসিফের ফ্যাশনের মূলমন্ত্র
নিখুঁত ফিটিংয়ের পোশাক আসিফের ফ্যাশনের মূলমন্ত্র

তাই বলে কি তাঁরা পিছিয়ে থাকবেন চলতি ট্রেন্ড থেকে? না, এ কথা মোটেও সমর্থন করছেন না আসিফ আজিম। তবে ফ্যাশন, রং, পোশাকের ধরন, সবকিছুর আগে তাঁর কাছে একটা ব্যাপার গুরুত্বপূর্ণ তা হলো পোশাকের ফিটিং। ‘যার যেমন শারীরিক গঠন, সে অনুযায়ী পোশাক বেছে নেওয়াটা খু্ব জরুরি। এ কথা অনেকেই মাথায় রাখেন না। শারীরিক গঠনের অনুপাতটাও বুঝতে হবে। একটা শার্ট হয়তো কারও কাঁধের অংশে খুব ভালো ফিট করছে, সেটা পেটের কাছে এসে ঝুলে যেতে পারে। তখন সেটা কোনোভাবে সামাল দিতে হবে, যাতে দৃষ্টিকটু না দেখায়।’ বললেন আসিফ আজিম।
আর দশটা সাধারণ মানুষের চেয়ে খুব আলাদা নয় বলেই মনে হলো তাঁর ফ্যাশন-দর্শন। যা পরবেন তা যেন আরামদায়ক হয়। আরাম আর স্বস্তির অনুভূতিটা এনে দেয় খুব ভালো ফিট হয় এমন পোশাক। তবে বেশির ভাগ মানুষ যখন আরামদায়ক পোশাক বলতে ঢিলেঢালা ক্যাজুয়াল পোশাককেই বোঝেন, সেখানেই আসিফের মনোভাবের পার্থক্য। ‘খুব শার্প ডিজাইন, খুব ভালো ফিটিং—এই আমার পোশাকের বৈশিষ্ট্য।’ বললেন আসিফ আজিম। স্যুট, ব্লেজার হলে তো কথাই নেই। সোয়েটার, পুলওভার, জ্যাকেট যেটাই পরুন তার ফিটিং হতে হবে শতভাগ নিখুঁত। যেকোনো পোশাক পরলেই ফুটে ওঠা চাই ব্যক্তিত্ব, আত্মবিশ্বাস। আর সেটা এনে দিতে পারে ফিটেড পোশাক।
‘রং আর পোশাকের টেইলরিং খুব গুরুত্বপূর্ণ। শৌখিনেরা এ জন্য পোশাক বানিয়ে নিতেই পছন্দ করেন। আজকাল তো প্যাড ব্যবহার করে খুব ভালো টেইলরিং করা যায়।’ বলেন তিনি। সুপারমডেলের মতো দেখতে তো নই আমি, এটা ভেবে তাই মন খারাপ করার প্রয়োজন নেই আর। বরং মনোযোগ দিন নিজের গঠন অনুযায়ী পোশাক বেছে নেওয়ার দিকে।
এ বছর মেয়েদের ফ্যাশনে একটু সাদামাটা রং চললেও, ছেলেরা অনেকেই জেনে খুশি হতে পারেন যে তাঁদের ক্ষেত্রে দেখা যাবে উজ্জ্বল রঙের চল। ‘প্রায় সব উজ্জ্বল রংই চলবে, এমনকি হলুদও।’ বললেন আসিফ। এটুকু পড়ে যাঁরা ভাবছেন, ‘আমি তো তেমন ফ্যাশনেবল নই, আমাকে কি উজ্জ্বল রং মানাবে?’ তাঁরা আরও একটু পড়ুন, আসিফের কথায়,

যেকোনো পোশাকই মানিয়ে যাবে শারীরিক গঠন ভালো হলে
যেকোনো পোশাকই মানিয়ে যাবে শারীরিক গঠন ভালো হলে

‘আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষের মতো ট্যানড ধাঁচের ত্বকে উজ্জ্বল রং খুব ভালো মানায়। আমার নিজের বেলায়ও এটা সত্যি। আমি তো এমনকি গোলাপি রংও পরি। আর উজ্জ্বল রং পরলে কেন জানি মনটাও বেশ ফুরফুরে লাগে।’ বাদামি, কালো জ্যাকেটগুলোর বদলে এবার তাই সাহস করে কিনেই ফেলুন একটা নীল বা হলুদ ব্লেজার। মেরুন, চড়া সবুজও চলতে পারে।
শার্ট আর স্যুট—মডেল হিসেবে তো পরতেই হয়, তবে আসিফের পছন্দের পোশাক এ দুটো নয়। তাঁর পছন্দ—পুলওভার। ‘সব সময় সঙ্গেই থাকে একটা পুলওভার—বিশেষ ভ্রমণের সময়ে তো বটেই। এর সঙ্গে জিনস প্যান্ট, পাতলা টি-শার্ট, বুট আর কোমরে বেল্ট।’ মডেল বা অভিনেতা যখন নন, তখন আসিফকে এ রকম পোশাকেই দেখা যায়।

মডেল হতে চাইলে
বাংলাদেশের মেহেরপুরের ছেলে আসিফ আজিম কীভাবে চলে গেলেন মুম্বাই। আর রীতিমতো দাপট শুরু করলেন সেখানকার ফ্যাশনমঞ্চে, সে গল্প তো জানাই আছে। এ বছরই ২৫ জানুয়ারি প্রথম আলোর ছুটির দিনের প্রচ্ছদ প্রতিবেদন হয়েছিল তাঁকে নিয়ে। তাঁর পথ ধরে আরও অনেকের স্বপ্নের সীমাই বেড়েছে। অনেকেই চেষ্টা করছেন আন্তর্জাতিক ফ্যাশন অঙ্গনে নিজেকে মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার। তাঁদের জন্য পরামর্শ দিয়েছেন আসিফ আজিম।
‘একজন মডেলের সেরা সম্পদ হতে পারে তার শারীরিক গঠন। নইলে যেকোনো পোশাকে তাকে ভালো দেখানো মুশকিল। তবে তার মানে খুব মাসল ফুলিয়ে বিশাল বডি বানাতে হবে, ব্যাপারটা তা-ও নয়। বডি বিল্ডিংয়ের চেয়ে ফিট বডির অধিকারী হওয়াটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’ জানালেন আসিফ।

যেকোনো পোশাকই মানিয়ে যাবে শারীরিক গঠন ভালো হলে
যেকোনো পোশাকই মানিয়ে যাবে শারীরিক গঠন ভালো হলে

আজ থেকেই জিমে ভর্তি হওয়ার পরিকল্পনা যাঁদের তাঁরা জেনে রাখুন, আসিফের নিজের কিন্তু কোনো ট্রেইনার নেই। এমনকি সালমান খানের সঙ্গে শখ্য থাকলেও তাঁর কাছ থেকে টিপস নেওয়ার প্রয়োজন অনুভব করেননি তিনি। নিজের তৈরি রুটিন অনুযায়ীই শরীরচর্চা করেন আসিফ। আর জিমে যাওয়ার প্রয়োজনটাও তাঁর মতে কমই। কারণ সবচেয়ে উপকারী ব্যায়াম বলতে তিনি মানেন সাঁতার কাটা, দড়ি লাফ, দৌড়ানো, বুকডন দেওয়া এগুলোকেই। আর এর কোনোটার জন্যই জিমের প্রয়োজন নেই। রোজ পনেরো মিনিট শরীরচর্চায় সময় দিয়েই শুরুটা করতে পারেন। এরপর প্রয়োজনমতো সময় বাড়িয়ে নিন।
এসবের পাশাপাশি পেটের কিছু ব্যায়াম প্রতিদিনই করা দরকার বলে মনে করেন তিনি। কারণ খুব সহজেই পেটে মেদ জমে যেতে পারে। আর সেটা যে কতটা দৃষ্টিকটু তা বোধ হয় বলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। ‘জানেন, বিপাশা বসু নাকি বছরে একবার ভাত খান। সেটা তাঁর নিজের জন্মদিনে।’ হাসতে হাসতে বললেন তিনি। ‘আমিও ভাত কমই খাই।’
শরীরচর্চার পরেই আসে ত্বক আর চুল ভালো রাখার কথা। তবে সেখানে নিয়মিত ব্যায়ামের কথা এসেই পড়ে। ‘ব্যায়ামে ঘাম হয়, সেটা ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। রোজ ব্যায়াম করলে আর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে ত্বকের জন্য আর আলাদা করে কিছু না করলেও চলে।’ বললেন তিনি। ‘চুলে জেল দিলে একটা করপোরেট লুক এসে যায়। সেটা আবার আমার তেমন পছন্দ নয়। আমি ব্যবহার করি ওয়্যাক্স। উপলক্ষ অনুযায়ী ওয়্যাক্স দিয়ে চুল সেট করে নিই।’ জানান আসিফ।