সে আমাকে ভালোবাসে

.
.

দুপুরের খাবার শেষে বিছানায় কিছু সময় গা এলিয়ে দেওয়া আমার নিত্যদিনের অভ্যাস। আজও ব্যতিক্রম হয়নি। কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম...। ফোন বেজে ওঠায় ঘুম ভাঙল। কেটে দিলাম। কিন্তু আবারও বেজে উঠল। খানিকটা বিরক্তিভাব নিয়ে ফোনটা রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে—
‘হ্যালো, সিয়াম সাহেব বলছেন?’
‘জি, কে বলছেন প্লিজ!’
‘সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস, জিন্দাবাজার থেকে বলছি, আপনার একটা পার্সেল এসেছে, নিয়ে যাবেন।’
‘ওকে’।
কথা না বাড়িয়ে ফোনটা রেখে দিলাম।
কিন্তু ভাবনায় পড়ে গেলাম। আমাকে আবার কে কী কুরিয়ার করল? আর কীই-বা হবে? নানা চিন্তা করেও তল পেলাম না।
বিকেলে তৈরি হয়ে চলে যাই জিন্দাবাজার। তথ্য দেওয়ার পর তারা পার্সেলটা আমার হাতে দিল।
এত বড় প্যাকেট? কী আছে তাতে সে চেষ্টা আর করলাম না সেখানে। বাসায় এসে সোজা আমার ঘরে চলে যাই। তড়িঘড়ি করে খুলতে যাব, কিন্তু একি? প্রেরকের পরিচয় নেই। শুধু আগপাড়া, কানাইঘাট লেখা। সেটা নিয়ে না ভেবে প্যাকেট খুলে নিলাম। একটা পাঞ্জাবি, একটা ডায়েরি আর কিছু চকলেট। পাঞ্জাবি সচরাচর আমি যেমন পরি একদম সে রকম। ডায়েরিটা তো চমৎকার, পাতা ওল্টাতেই আটকে গেলাম এক জায়গায়। যেখানে লেখা—
‘প্রিয়জন সিয়াম!
নিশ্চয়ই অনেক ভালো আছিস! আমার কথা তোর মনে আছে কি না জানি না, তবে আমি তোকে আগের মতোই মনে রেখেছি।
আচ্ছা তোর কি মনে আছে? যখন একসঙ্গে প্রাইমারি স্কুলে যেতাম, সাফিদের পুকুরপাড়ের বরইগাছে ঢিল ছুড়ে প্রতিদিন বরই খাওয়া। বৃষ্টির দিনে ছাতা নিয়ে মারামারি। আর মাঝেমধ্যে পা পিছলে হোঁচট খাওয়া, কেউ একজন পড়ে গেলেই তাকে নিয়ে সে কী হাসি!
আর ক্লাসে স্যাররা না থাকলেই কাগজের টুকরো ছোড়াছুড়ি। একদিন তোর নাকি অন্য কারও ছোড়া এক টুকরো কাগজ এসে আমার চোখে লাগে, কিন্তু আমি তোকেই সন্দেহ করে কতই না বকাঝকা করছিলাম। তুই কিছু বলিসনি। তবু আমি তোর গালে দু-চারটা চড়ও দিয়েছিলাম। তোর কি মনে পড়ে? হয়তো এখন আর ওসব মনে নেই। কিন্তু প্রাইমারি শেষ করে আমরা আর একসঙ্গে থাকতে পারিনি। তোরা চলে গেলি শহরে। তারপর তো আর দেখা হয়নি। তাই না? অনেক ইচ্ছে ছিল দেখা করার কিন্তু কী আর করা! ওহ্ দুঃখিত! অনেক কথাই বলে ফেললাম। তুই অনেক বড় হবি সেই কামনা করি, ভালো থাকিস।
ইতি
তোর প্রাইমারি বন্ধু সাইমা
সব কৌতূহলের অবসান হলো ডায়েরির পাতায় তার লেখা পড়ে। লেখাগুলো পড়তে গিয়ে আমি হারিয়ে গেলাম একদম ছোট্টবেলায়। কতই না আনন্দের ছিল তখনকার সময়টা। আর এখন...?
এত দিন পার হয়ে গেল। গ্রামে যাওয়া হয়নি তাই ওর সঙ্গে দেখা করা সম্ভব হয়নি।
তবু সে আমাকে ভালোবাসে...!
রুমান হাফিজ
পূরবী আবাসিক এলাকা,
ইসলামপুর, সিলেট।