সেরা পাঁচ সুপারকম্পিউটার
ল্যাপটপ পেরিয়ে এখন তো ট্যাবলেটের যুগ। তার পরও বড় বড় গবেষণা, বিশাল আকারের তথ্য-উপাত্ত, আবহাওয়া ইত্যাদির বিশ্লেষণে সুপারকম্পিউটারের ব্যবহার দেখা যায়। আর সে ক্ষেত্রেও এগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র। সুপারকম্পিউটার ‘সেকোইয়া’ তৈরির মাধ্যমে বিশ্বের দ্রুতগতির সুপারকম্পিউটার প্রস্তুতের দৌড়ে প্রথম স্থানটি দেশটির দখলে। ২০১০ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ‘জাগুয়ার’কে দ্বিতীয় অবস্থানে ঠেলে দিয়ে তালিকায় শীর্ষে উঠে আসে চীনের ‘তিয়ানহে’। পরের দুই বছর তালিকার শীর্ষ অবস্থান দখল করে রাখে বিশ্বের প্রথম ১০ পেটাফ্লপ গতির সুপারকম্পিউটার জাপানের ‘কে কম্পিউটার’। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র তো দমে যাওয়ার পাত্র নয়। গত জুনে প্রকাশিত তালিকার প্রথম স্থান অর্জনকারীর স্থানটি যুক্তরাষ্ট্রের কবজায়।তালিকার প্রথম পাঁচের দুটিই হলো যুক্তরাষ্ট্রের। অন্য তিনটি হলো জাপান, জার্মানি ও চীনের তৈরি সুপারকম্পিউটার। টপ ৫০০ প্রকল্পের জরিপে বেরিয়ে আসে প্রযুক্তির নানা শীর্ষ তালিকা। সেকোইয়াইন্টারন্যাশনাল বিজনেস মেশিন (আইবিএম) করপোরেশনের তৃতীয় প্রজন্মের ব্লু জিন/কিউ প্রযুক্তিতে তৈরি এই সুপারকম্পিউটার বসানো হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের লরেন্স লিভারমোর ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিতে। কম্পিউটারটি পারমাণবিক বোমার রক্ষণাবেক্ষণ ও দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য সিমিউলেশন তৈরির কাজে ব্যবহার করা হবে। এটি প্রতি সেকেন্ডে ১৬.৩২ পেটাফ্লপ গতিতে কাজ করে। ফ্লপস (FLOPS) হলো ফ্লোটিং-পয়েন্ট অপারেশনস পার সেকেন্ড। এটি কম্পিউটারের কাজ করার দক্ষতা নির্ণয়ের একক। আগে এই এককের নাম ছিল ইনস্ট্রাকশন পার সেকেন্ড। অর্থাৎ, কম্পিউটার এক সেকেন্ডে কতটি নির্দেশনা পালন করতে পারে। আর এক পেটাফ্লপস = ১০১৫ ফ্লপস।সেকোইয়া চলে ৭.৯ মেগাওয়াট বিদ্যুতে। লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমে চলা কম্পিউটারটির ৯৬ তাকে ১.৬ পেটাবাইট মেমোরি ও ১৫ লাখ ৭২ হাজার ৮৬৪টি প্রসেসর কোরের সমন্বয়ে ৯৮ হাজার ৩০৪টি কম্পিউটার নোড রয়েছে।কে কম্পিউটারজাপানি শব্দ ‘শবর’ থেকে কে-এর উৎপত্তি। এর অর্থ ১০ কোয়াড্রিলিয়ন বা ১০ পেটাফ্লপ। ১০ পেটাফ্লপ গতির মাইলফলক ছোঁয়া প্রথম সুপারকম্পিউটার এটি। ফুজিৎসুর কারিগরি সহায়তায় কম্পিউটারটি বসানো হয়েছে গবেষণা সংস্থা রিকেন অ্যাডভান্সড ইনস্টিটিউট ফর কম্পিউটেশনাল সায়েন্সে। প্রতি সেকেন্ডে ১০.৫১ পেটাফ্লপ গতির এই কম্পিউটার মহাকাশ গবেষণা, জলবায়ু পরিবর্তন, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, ভূমিকম্পের পূর্বাভাস, পারমাণবিক গবেষণা, জ্বালানি শক্তি অনুসন্ধানসহ অনেক কাজে ব্যবহার করা হবে বলে জানা যায়। ১০ লাখ ডেস্কটপ কম্পিউটারের সমন্বিত গতিতে চলে এই সুপারকম্পিউটার।মিরাযুক্তরাষ্ট্রের নতুন এই সুপারকম্পিউটার টপ ৫০০-এর তালিকার ৩ নম্বর স্থানে আছে। ইলিনয়ের অ্যারগন ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিতে কম্পিউটারটি প্রতি সেকেন্ডে ৮.১৬ পেটাফ্লপ গতিতে কাজ করে। লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমে এটি চলে। উচ্চ প্রযুক্তির প্রসেসর, নকশা, কম্পিউটার নোডগুলোর মধ্যে অন্তঃসংযোগ মিরাকে দিয়েছে অনন্য গতি। মিরা সম্পর্কে বলা হয়েছিল, যদি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি মানুষ এক বছর ধরে প্রতি সেকেন্ডে একটি করে গণনা করে, তবে তা শেষ করতে মিরার লাগবে মাত্র এক সেকেন্ড।সুপার এমইউসিআইবিএমের তৈরি জার্মান এই সুপারকম্পিউটার লিবনিজ সুপারকম্পিউটিং সেন্টারে বসানো হলে সেটি ইউরোপীয় গবেষকদের জন্য তীর্থস্থানে পরিণত হবে। এতে ব্যবহার করা হচ্ছে ইন্টেলের জিওন প্রযুক্তির ১৮ হাজার ৪৩২টি ৮-কোর প্রসেসর, ২৮৮ টেরাবাইট মূল মেমোরি এবং ১২ পেটাবাইট হার্ডডিস্ক। লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমে চালিত কম্পিউটারটি সেকেন্ডে ২.৮৯ পেটাফ্লপ গতিতে চলতে পারে। এতে আইবিএমের উদ্ভাবিত নতুন শীতলীকরণ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, যেখানে যন্ত্রাংশ শীতল করতে ব্যবহূত হবে গরম পানি।তিয়ানহে-১এপূর্ববর্তী বিশ্ব রেকর্ডধারী এই চীনা সুপারকম্পিউটার নির্মাণ করেছে ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব ডিফেন্স টেকনোলজি। স্থাপন করা হয়েছে তিয়ানজিনের ন্যাশনাল সুপারকম্পিউটিং সেন্টারে। ইন্টেলের জিওন প্রসেসরের সঙ্গে এনভিডিয়া টেসলা গ্রাফিকস প্রসেসর কম্পিউটারটিকে দিয়েছে প্রতি সেকেন্ডে ২.৫৬ পেটাফ্লপ গতি।আরও কিছু চমকপ্রদ খবর বেরিয়ে এসেছে টপ ৫০০-এর জরিপে। শীর্ষ ৫০০ সুপারকম্পিউটারের মধ্যে শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই রয়েছে ২৫৩টি। এশিয়া মহাদেশে আছে ১২১টি। এর মধ্যে চীনে ৬৮টি এবং জাপানে রয়েছে ৩৪টি সুপারকম্পিউটার। সুপারকম্পিউটারের বাজারে একচেটিয়া আধিপত্য আইবিএমের। ৫০০টির মধ্যে ২১৩টি স্থাপন করেছে তারা।