স্টেশনে পৌঁছাতে না-পৌঁছাতেই...

স্টেশনে পৌঁছাতে না–পৌঁছাতেই ট্রেন ছেড়ে দিল। স্কুলজীবনে অনেকবার পড়েছি লাইনটা। এবার হলো তার অভিজ্ঞতা। জয়দেবপুর স্টেশন থেকে ট্রেন ছাড়ার কথা তিনটা ২০ মিনিটে, কিন্তু আমি পৌঁছালাম আট মিনিট পর। রিকশা থেকে দেখলাম, ট্রেন প্ল্যাটফর্মে। ভাবলাম ভাগ্য সুপ্রসন্ন। কিন্তু রিকশা থেকে নামতে না– নামতেই ট্রেন ছেড়ে দিল। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস। কর্তব্যরত স্টেশন মাস্টারের কাছ থেকে জানতে পারলাম, ঢাকার দিকে পরবর্তী ট্রেন প্রায় দুই ঘণ্টা পরে। অসহায় অবস্থায় প্ল্যাটফর্মে আফসোস করছি, এমন সময় আমার মতোই আরেকজন লোক স্টেশনে উপস্থিত হলো। সবকিছু শুনে লোকটি জানাল, ট্রেন ধরার নাকি একটি উপায় আছে, এখন দ্রুত ধীরাশ্রম স্টেশনে যেতে হবে। এই ট্রেন নাকি ওখানে নিয়মিত ক্রসিংয়ে পড়ে। প্রথমে আমি লোকটির কথা উড়িয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু লোকটির অভিজ্ঞতার কথা শুনে ও আত্মবিশ্বাস দেখে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিলাম। চেপে বসলাম একটি ব্যাটারিচালিত রিকশায়। রিকশা নিয়ে আমরা ট্রেনের পিছে ছুটছি। টানটান
উেত্তজনা যাকে বলে। মনে মনে ওপরওয়ালাকে ডাকছি। আমাদের রিকশাচালক ভাইও চরম বিনোদন পাচ্ছিলেন। রেললাইনের পাশ দিয়ে চলে গেছে পিচঢালা রাস্তা। রিকশা ছুটছে পিঙ্খরাজের মতো। ছুটতে ছুটতে ধীরাশ্রম স্টেশনে পৌঁছে দেখি, সত্যি সত্যি কাঙ্ক্ষিত ট্রেন প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে। হুড়মুড় করে আমরা দুজন ট্রেনে উঠলাম। উঠতে না–উঠতেই ট্রেন ছেড়ে দিল।
ফজলে রাব্বি
শান্তিনগর, ঢাকা।