হৃদয়ঘটিত সমস্যা?

.
.

রক্তে কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে। তাই স্ট্যাটিন খেতে হয়, এটা কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ। সমস্যা দেখা দেয় যখন কোনো রোগী স্ট্যাটিন খেতে পারেন না বা চান না। তখন কী করবেন? এর একটা উপায় হতে পারে হৃদযন্ত্র স্ক্যান করে দেখা যে তাঁদের হার্টে ব্লক আছে কি না, থাকলে ঝুঁকি কতটা, কোলেস্টেরল কমানোর জন্য স্ট্যাটিন খাওয়ার প্রয়োজনীয়তা কতটা। চিকিৎসা নির্দেশিকা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে ৪০ বছরের বেশি বয়সের অন্তত পাঁচ কোটি ব্যক্তি হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে স্ট্যাটিন সেবন করেন। কিন্তু সম্প্রতি এক জরিপে দেখা গেছে, তাঁদের অর্ধেকেরই হার্টে ব্লক নেই এবং আগামী ১০ বছরেও হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা নেই। তাঁদের স্ট্যাটিন না খেলেও চলে। তাহলে কি হার্ট স্ক্যান করে দেখা ভালো? এ বিষয়ে সম্প্রতি কিছু নতুন চিন্তাভাবনা চলছে।
১. আসুন আমরা প্রথমে দেখি হার্ট অ্যাটাক কী। হার্টে চারটি কুঠুরি আছে। ভাল্বের মধ্য দিয়ে রক্ত এক দিকে চলাচল করে। হার্ট তার ডান অংশ থেকে রক্ত পাম্প করে ফুসফুসে পাঠায় এবং সেখান থেকে অক্সিজেন সংগ্রহ করে রক্ত ফিরে আসে হার্টের বাঁ অংশে। এরপর হার্ট পাম্প করে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত সারা শরীরে পাঠায়। পাম্প করার জন্য হার্টের দরকার শক্তি। হার্টের পেশিতে ধমনির (করোনারি আর্টারি) মাধ্যমে বিশুদ্ধ রক্ত আসে, যা হার্টকে পাম্প করার শক্তি দেয়। এই ধমনিতে ব্লক থাকলে হার্ট অ্যাটাক হয়।
২. রক্তে কোলেস্টেরল, বিশেষত এলডিএল বা ক্ষতিকর কোলেস্টেরল বেশি থাকলে ব্লক হতে পারে। শুরুতে করোনারি আর্টারিতে একটি ছোট গুটি দেখা দেয়। পরে ধীরে ধীরে গুটিটি মোমের মতো জমাট বেঁধে শক্ত ও বড় হয় এবং সেখানে ক্যালসিয়াম জমে। সিটি স্ক্যানে করোনারি আর্টারিতে ছোপ ছোপ অংশের মতো ক্যালসিয়ামের অস্তিত্ব ধরা পড়ে।
৩. কোলেস্টেরল সীমিত মাত্রায় রাখার জন্য স্ট্যাটিন ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখে। কিন্তু এই ওষুধের কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। লিভার এনজাইম বেড়ে যেতে, এটাই বড় সমস্যা। সিপিকে এনজাইম বাড়ে বলে মাংসপেশিতে ব্যথা হতে পারে। তাই অনেকে স্ট্যাটিন নিতে চায় না। অথচ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে না রাখলেও বিপদ হতে পারে।
৪. এ ক্ষেত্রে হার্ট স্ক্যান করে দেখা যেতে পারে ব্লক আছে কি না এবং সেখানে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ কতটা বিপজ্জনক মাত্রায় রয়েছে। যদি ক্যালসিয়ামের উপস্থিতি কম থাকে, তাহলে স্ট্যাটিন না খেলেও চলে বলে হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞদের অনেকে মনে করেন। এখানে সমস্যা হলো, হার্ট স্ক্যানে ব্যয় বেশি। অবশ্য এখন কমে আসছে।
৫. অনেক বিশেষজ্ঞ অবশ্য ভিন্নমত পোষণ করেন। তাঁদের মতে, ক্যালসিয়াম না জমলেও ব্লকের কারণে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিওলজি বিভাগের চেয়ারম্যান সজল ব্যানার্জি বলেন, হৃদ্রোগের লক্ষণ থাকলে স্ট্যাটিন খাওয়া ভালো।
সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, ৫ অক্টোবর ২০১৫