১০ 'ফালতু' চিন্তা এখনই ঝেড়ে ফেলুন

দুশ্চিন্তা দূর করে জীবনকে আনন্দময় করা সম্ভব। ছবি: এএফপি
দুশ্চিন্তা দূর করে জীবনকে আনন্দময় করা সম্ভব। ছবি: এএফপি
>ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধজয়ী পুরস্কারপ্রাপ্ত মার্কিন ব্লগার ও লেখক র‍্যাচেল ইয়াহনে ১০টি ক্ষুদ্র দুশ্চিন্তার কথা তুলে ধরে তা থেকে মুক্তির উপায় বলেছেন। বলেছেন জীবনকে আনন্দময় করে তোলার কৌশল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘হাফপোস্ট’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন এখানে তুলে ধরা হলো:

সকালে ব্যাংকে গিয়ে বিদ্যুৎ বিল জমা দিতে হবে। কাল ঘরের জন্য কিছু বাজারও করা দরকার। কোনটা আগে করলে সুবিধা হয়—বাজার নাকি ব্যাংকে যাওয়া। নাকি সকালে বাজার বাদ দেবেন। নাকি ব্যাংকে যাওয়াই বাদ দেবেন! আগের দিন রাত থেকেই মনে মনে এই হিসাব কষতে কষতে সিদ্ধান্তহীনতা নিয়েই ঘুমাতে গেলেন। সকালে ঘুম ভেঙেও কিছুক্ষণ এ নিয়ে ভাবলেন। মাঝেমধ্যে বিরক্ত হন এই ভেবে যে বড় বড় দুশ্চিন্তার মধ্যে এসব ‘আজাইরা টেনশন’ এসেও ভর করে।

কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি স্ট্যাটাস দিলেন, তাতে কোনো একজন আপনাকে খোঁচা মেরে একটি মন্তব্য করলেন। আর ওই একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দিনভর আপনার মেজাজ বিগড়ে রইল।

আপনার এই ‘আজাইরা টেনশনকে’ সত্যিকারভাবে বিশেষজ্ঞরাও ‘আজাইরা টেনশন’ বা ‘ফালতু চিন্তা’ বলছেন। তবে তাঁরা এটাকে পরিশীলিত ভাষায় বলছেন ‘সিলি স্ট্রেসেস’। তাঁদের ভাষায়, এই দুশ্চিন্তাগুলো প্রকৃত অর্থে অসম্ভব রকমের সাধারণ ও ক্ষুদ্র। তাই খুব সহজে এগুলো এড়ানোও সম্ভব। আপনার প্রতিদিনের দায়িত্ব খুব ভালোভাবেই পালন করতে পারেন এসব দুশ্চিন্তাকে সরিয়ে। এর জন্য দরকার শুধু আপনার ইচ্ছাশক্তি।

ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধে জয়ী পুরস্কারপ্রাপ্ত মার্কিন ব্লগার ও লেখক র‍্যাচেল ইয়াহনে ১০টি ক্ষুদ্র দুশ্চিন্তার কথা তুলে ধরে তা থেকে মুক্ত হওয়ার উপায় বলেছেন—

সময়

সময়ের নিয়ন্ত্রণে থাকার জন্য আপনি সব সময় লড়াই করে চলেছেন। এর চেয়ে বরং এগিয়ে চলুন। অতীতে যা হয়েছে, তা ঝেড়ে ফেলুন, সেসব আপনার জন্য ভালো কিছু বয়ে আনে না। সময়ের মোহ আমাদের অযাচিত প্রত্যাশায় ডুবিয়ে রাখে (বিশেষ করে বয়স হচ্ছে এমন নারীদের) এবং এটা আমাদের ন্যূনতম ক্ষমতায়িতও করে না।

আপনার মূল্য

আপনি সব সময় নিজেকে বলে যান যে আপনার কোনো দাম নেই। এই একটি ভাবনার কারণে আপনি ভালোবাসা, সফলতা, অর্থ—এসব কোনো কিছুতেই নিজের মূল্য আছে, এই বোধ পান না। এসব চিন্তা থেকে দূরে থাকুন। এটা আপনাকে আঘাতই করে শুধু।

তুলনা

আপনার আনন্দ-উচ্ছ্বাসকে মাটি করার সবচেয়ে বড় ঘাতক হলো তুলনা। এর বিরুদ্ধে লড়াই করার সহজ একটি উপায় হচ্ছে নিজেকে, নিজের জীবন এবং নিজের উপহারগুলোকে অনন্য ধরে বিবেচনা করা। অন্য কারও কিছু নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে নিজের সেরাটা নিয়ে ভাবুন।

স্বত্ব

যখন ছোট ছিলাম, মায়ের দেওয়া পোশাক ‘বিশেষ উপলক্ষের’ জন্য যত্ন করে রেখে দিয়েছিলাম। আমি বড় হয়ে গেলাম। কিন্তু পোশাকটি পরার সেই উপলক্ষ আর এল না। তাই কোনো কিছু ধরে রাখার জন্য এত কষ্ট করবেন না। যখন যা থাকবে, তা নিয়ে আনন্দ করুন। আরেকটি বিষয় মনে রাখবেন, আপনি অন্যকে যা দিতে চান, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নিজের অধিকারে থাকতে পারে না।

সৌন্দর্য

নিজেকে সুন্দর ভাবতে আমরা সবাই ভালোবাসি। এতে দোষের কিছু নেই। তবে চেহারার চেয়ে আপনার অনেক কিছু দেওয়ার আছে এই পৃথিবীকে। তাই আপনার চেহারা ভালো কি মন্দ, তা নিয়ে মানুষ কী ভাবছে, সেটা নিয়ে মাথা ঘামাবেন না। এর চেয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে চিন্তা করার জন্য।

উপার্জন

এক জ্ঞানী ব্যক্তি বলেছিলেন, ব্যাংকে রাখা অর্থগুলো দেখে আসার জন্য আপনার সব সময় ব্যয় করে ফেলবেন না। একই কথা প্রযোজ্য যদি ব্যাংকে আপনার অর্থ না থাকে। আপনি সব সময় অর্থ থাকা নিয়ে বা অর্থ না থাকা নিয়ে চিন্তা করে সময় নষ্ট করে ফেলতে পারেন না। অর্থের প্রতি মোহ আমাদের জীবনের সাধারণ আনন্দ দেখার ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়।

অতীত

অতীত বাস্তব নয়, এটা আপনার সামনে নেই। তাই অতীত নিয়ে আর ভাববেন না। এটাকে ভয় পাওয়া বন্ধ করুন। এটার অজুহাতে কোনো ঝুঁকি নেওয়া, কাউকে ভালোবাসা দেওয়া থেকে নিজেকে বিরত রাখাও বন্ধ করুন। নিজেকে নিয়ে ভালো বোধ করুন।

ভয়

সব দুশ্চিন্তাই মূলত ভয়ে মোড়ানো। এই ভয় দুশ্চিন্তাগুলোকে আরও আতঙ্কিত ও শক্তিশালী করে তোলে। ভয় সেখানে থাকবেই, তাতে কী? ভয় থাকলে সেটির চারপাশ ঘিরেই কাজ করুন। থেমে যাবেন না।

জনপ্রিয়তা

ফেসবুকে ফটো দেওয়ার পর লাইক গোনা বন্ধ করুন। আপনি প্রকৃতভাবে অন্য মানুষদের মধ্যে কীভাবে অনুভূতি তৈরি করেন সেটা নিয়ে ভাবতে শুরু করুন। বিশ্বকে যা পরিবর্তন করে তা খুব কমই জনপ্রিয় হয়। আপনাকে নিজেকেই বাইরে বের হতে হবে। যদি আপনি কিছু করতে চান, সেটা লোকজন অপছন্দ করলেও করতে হবে।

শরীর

শারীরিক আকার-আকৃতি, শক্তিমত্তা, খুঁত...এসবই আমাদের নিরাপত্তাহীনতা। যদি একজনের বেড়ে ওঠার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে (১৭ বছর) তাঁকে কেমোথেরাপির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়, এ কারণে চুল পড়ে ন্যাড়া হতে হয়, তাহলে তার করার কী আছে! বিপরীতে যদি আপনার শরীরের কোনো একটি অংশ যদি সচল থাকে এবং তা আপনাকে পৃথিবীর একটি মুহূর্তও উপভোগ করার সুযোগ দেয়, তাহলে আপনাকে বলা যায় সৌভাগ্যবান। এ মুহূর্তে আপনার যে দেহ আছে, সেটি আপনার। জীবনে এটি আপনি একবারই পান। তো নিজের দেহ নিয়ে লজ্জা পাওয়া বন্ধ করুন। এটাকে সম্পদ ভাবুন।

ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধজয়ী র‍্যাচেল ইয়াহনের এই ভাবনাগুলো আপনি নিজের ওপর প্রয়োগ করে দেখতে পারেন। নিঃসন্দেহে তা আপনাকে উপকৃত করবে।