'নহি সামান্যা নারী'

স্কুল অব ওরিয়েন্টাল ডান্সের নৃত্যনাট্য চিত্রাঙ্গদার একটি দৃশ্যে শুভ্রা সেনগুপ্তা ও সহশিল্পীরা l প্রথম আলো
স্কুল অব ওরিয়েন্টাল ডান্সের নৃত্যনাট্য চিত্রাঙ্গদার একটি দৃশ্যে শুভ্রা সেনগুপ্তা ও সহশিল্পীরা l প্রথম আলো

মণিপুর রাজকূলে জন্ম হলো কন্যা চিত্রাঙ্গদার। শিবের বর সত্ত্বেও যখন পুত্রের বদলে কন্যার জন্ম হয়, রাজা তখন তাকে পুত্ররূপেই পালন করতে লাগলেন। রাজকন্যা শিখতে লাগলেন যুদ্ধবিদ্যা ও রাজনীতি। এভাবেই রাজেন্দ্র নন্দিনী চিত্রাঙ্গদা পুরুষের মানসিকতা নিয়ে বেড়ে উঠতে লাগল। এর মাঝে মহাবীর অর্জুন বারো বছরের ব্রহ্মচর্য ব্রত পালনের জন্য ভ্রমণ করতে এলেন মণিপুর রাজ্যে। এভাবেই শুরু হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিত্রাঙ্গদা নৃত্যনাট্যের কাহিনি। গত ২৯ মে সন্ধ্যায় নগরের জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে মঞ্চায়িত হয় এ নৃত্যনাট্য। স্কুল অব ওরিয়েন্টাল ডান্সের প্রযোজনায় এ নৃত্যনাট্যের নির্দেশনায় ছিলেন শুভ্রা সেনগুপ্তা।
নৃত্যনাট্যের কাহিনি–পরিক্রমায় দেখা যায়, মণিপুর রাজ্যে অর্জুনের আগমনের পর রাজকন্যা চিত্রাঙ্গদার হৃদয় প্রেমে উদ্বেলিত হয়। কিন্তু অর্জুন রূপহীন চিত্রাঙ্গদার প্রেমকে প্রত্যাখ্যান করে।
অপমানিত চিত্রাঙ্গদা প্রেমের দেবতা মদন এবং যৌবনের দেবতা বসন্তের আশ্রয় গ্রহণ করে। দুই দেবতার বর পেয়ে এক বছরের জন্য অপরূপ সুন্দরীতে রূপান্তরিত হয় রাজকন্যা চিত্রাঙ্গদা। এবার রাজকন্যার প্রেমে পড়ে অর্জুন। কিন্তু অর্জুনকে জয় করেও রাজকন্যার মন ক্ষতবিক্ষত হতে থাকে।
চিত্রাঙ্গদার মুখেও উচ্চারিত হয়, ‘আমি চিত্রাঙ্গদা, আমি রাজেন্দ্রনন্দিনী/ নহি দেবী, নহি সামান্যা নারী/ পূজা করি মোরে রাখিবে ঊর্ধ্বে/ সে নহি নহি/ হেলা করি মোরে রাখিবে পিছে/ সে নহি নহি।’
অর্জুনের মনে প্রশ্ন দেখা দেয়, নিজেও সে প্রকৃতপক্ষে কাকে ভালোবাসে? চিত্রাঙ্গদার বাহ্যিক রূপ, নাকি তার ভেতরের সবল সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছে অর্জুন?
এই নৃত্যনাট্য প্রসঙ্গে নির্দেশক শুভ্রা সেনগুপ্তা প্রথম আলোকে জানান, মাত্র ৩১ বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মহাভারতের ‘চিত্রাঙ্গদা’ উপাখ্যানটিকে রূপক ধরে ১৮৯২ সালে রচনা করেন কাব্যনাট্য চিত্রাঙ্গদা। এর প্রায় ৪৪ বছর পর এটিকে তিনি নৃত্যনাট্যের রূপ দেন। তিনি বলেন, ‘সম্পূর্ণ ভরতনাট্যম আঙ্গিকে পরিবেশিত হয়েছে এ নৃত্যনাট্য।’ চিত্রাঙ্গদা প্রযোজনাটিতে অংশ নিয়েছেন শুভ্রা সেনগুপ্তা, জি এম শরীফুল ইসলাম, মানস চৌধুরী প্রমুখ।