
থিয়েটার সব সময় প্রাণের কথা বলে, জীবনের কথা আর বিদ্রোহের কথা বলে। তাই নাটক হয়ে উঠেছে মানুষের কণ্ঠস্বর।
খ্যাতিমান নাট্যকার, নির্দেশক এবং অভিনেতা মামুনুর রশীদ থিয়েটার ইনস্টিটিউট চট্টগ্রামের (টিআইসি) লেকচার থিয়েটার মিলনায়তনে ১৮ ডিসেম্বর বিকেলে বক্তৃতাকালে এ কথা বলেন। তাঁর বক্তৃতার বিষয় ছিল ‘প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে থিয়েটারের বেঁচে থাকা’।
মামুনুর রশীদ বলেন মানব জাতির ইতিহাসে মানুষ যখন শিল্পভাবনায় তাড়িত হলো তখন থেকে থিয়েটারের ক্রমবিকাশমান ধারায় নব নব চেতনার উন্মেষ ঘটতে থাকল। প্রতিমুহূর্তে সৃষ্টি হতে থাকল এক বিস্ময়কর জাগরণ, যা থেকে আমরা এখনো উত্তাপ গ্রহণ করছি।
মামুনুর রশীদ বলেন, থিয়েটার অতিমাত্রায় গণতান্ত্রিক। এর চর্চা গণতন্ত্রকে যেমন উসকে দেয়, তেমনি মানুষের চেতনার অনুভবে জাগায় শিহরণ। থিয়েটার একটি জীবন্ত মাধ্যম বলেই কোন শাসকগোষ্ঠী এ মাধ্যমকে ভালো চোখে দেখে না।
তিনি বলেন, আমার বিস্ময় জাগে এত কিছু অসহযোগিতার পরেও থিয়েটার কীভাবে সপ্রাণে বেঁচে থাকতে পারে।
শিক্ষার বিকল্প হিসেবে থিয়েটার কাজ করছে বলে উল্লেখ করে মামুনুর রশীদ বলেন ব্যাপক সামাজিকায়নে থিয়েটারের প্রতি মানুষের উৎসাহ এবং অঙ্গীকারের কারণে অনন্তকাল বেঁচে থাকবে বলে আমার বিশ্বাস। প্রতিকূলতার মধ্যেই থিয়েটারের পুনর্জন্ম।
বাংলাদেশের থিয়েটার আন্দোলনের প্রসার ও ব্যাপ্তি মহান মুক্তিযুদ্ধের ফসল। স্বাধীনতা পরবর্তী যারা নতুন নতুন ভাবনায় থিয়েটারসহ শিল্প-সংস্কৃতি চর্চায় নিরীক্ষামূলক কাজ করেছেন নাট্যকার নির্দেশক ও অভিনেতা মামুনুর রশীদ তাদের মধ্যে অন্যতম। নাটক দেখা, নাটক করা ও নাট্য ভাবনার আলোকে তিনি এই বক্তব্য দেন দেন। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংলগ্ন থিয়েটার ইনস্টিটিউট চট্টগ্রাম আয়োজিত এই বিষয়ভিত্তিক আলোচনা অনুষ্ঠানটি সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল।