'বুয়েটামি'র কথা

আনোয়ার ইকবাল সুলেখক। তিনি বিস্তর ফিচার, কবিতা এবং গল্প লিখেছেন। গদ্যেই ঝোঁক বেশি। গল্প হলে তাতে চমক থাকে, সাসপেন্স থাকে, আর অবশ্যই মজা থাকে।
‘বুয়েটামি’ নামটাতেই মজাটা ধরা যায়। তাঁর বইয়ের পাণ্ডুলিপি স্বভাবতই আগ্রহ নিয়ে পড়া শুরু করেছিলাম। আমি নিজেও বুয়েটের সাবেক ছাত্র। কিন্তু তাঁর অভিজ্ঞতা এত ব্যাপক আর বিচিত্র যে, শুধু যে মজা পেয়েছি তা নয়, বিস্মিতও হয়েছি। কিছু ঘটনা কল্পনাকেও হার মানাবে। বহুদিন পাস করতে না পেরে যে ছাত্র বুয়েট ক্যাম্পাসে আটকে ছিলেন, তিনিই কিনা ফার্স্ট ইয়ার পাস করার সঙ্গে সঙ্গে স্বেচ্ছায় পাততাড়ি গুটিয়ে চলে গেলেন! বুয়েট ছেড়ে চলে গেলেও ভাগ্যলক্ষ্মী পুরান ঢাকার আব্বাস ভাইকে কিন্তু ছেড়ে যাননি। প্রাণবন্ত বর্ণনা। ছবির মতো সেই সত্তর দশকের শেষ এবং আশির দশকের শুরুর বুয়েটকে লেখক তুলে ধরেছেন। বুয়েটের স্থাপত্য বিভাগের স্টাডি ট্যুরে অ-বুয়েট গার্ল ফ্রেন্ডকে ইন্ডিয়ায় নিয়ে যেতে পারা চাট্টিখানি কথা নয়। আর সেই গার্ল ফ্রেন্ড কিনা আজতক তাঁর সহধর্মিণী! না, ব্যক্তিগত জীবন নয়, সময়টা উঠে এসেছে। সে সময়ের ঢাকা শহরটা উজ্জ্বল ভাবে উঠে এসেছে। আরও মজার ব্যাপার, সেই সুদূর সময়ের বুয়েটের, সে সময়ের ছাত্র-ছাত্রীদের চমৎকার সব ছবি থাকছে বইটিতে। লেখকের অবশ্যই একটি শিল্পী সত্তা রয়েছে। এ বইয়ের দারুণ প্রচ্ছদটির শিল্পী লেখক নিজেই।
যারা সেই সময়ের মানুষ, তাঁরা নির্ঘাত বইটি পড়ার পরে নস্টালজিক হয়ে ভাবালুতায় কয়েকটি সন্ধ্যা কাটাবেন। যারা নতুন প্রজন্মের, তাঁরা দারুণভাবে চমৎকৃত হবেন। বুয়েট নিয়ে এটা গতানুগতিক বই নয়, বুয়েট নিয়ে এটা একটা খুব মনোগ্রাহী বই। বইটি প্রকাশ করছে স্বর ‘অ’ প্রকাশনী। বই মেলায় পাওয়া যাবে ঐতিহ্যের প্যাভিলিয়নে। এই বইটি সব পাঠকের কাছে অনেক ভালো লাগবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।