মেধাবী কিশোর তানভীর মুহাম্মদ ত্বকি হত্যার ঘটনায় অভিযোগের আঙুল একটি ‘বিশেষ পরিবার’-এর দিকে। নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিক, ব্যবসায়ীসহ সব মহল এ অভিযোগ করলেও পুলিশ-র্যাব সে পথে হাঁটছে না। কেন? জানতে চাইলে তারা বলেছে, ওপরের নির্দেশ ছাড়া ওই পরিবারকে সন্দেহের তালিকায় আনা সম্ভব নয়।তানভীরের বাবা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রাফিউর রাব্বি, সরকারি দলের সাংসদ সারা বেগম কবরীসহ জেলার কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার ধারণা, নারায়ণগঞ্জের একটি ‘বিশেষ পরিবার’ এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। বিষয়টি তাঁরা পুলিশ-র্যাবকেও জানিয়েছেন।জেলা পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের কোনো সূত্র মেলেনি। কোনো প্রত্যক্ষদর্শীও নেই। এ জন্য অনেকেই একটি পরিবারকে দায়ী করছেন। কিন্তু এই পরিবারের কর্তারা সরকারি দলের অনেক প্রভাবশালী রাজনীতিক। ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে এঁদের ওঠাবসা। ফলে কোনো সূত্র না পেলে বা সরকারের উচ্চপর্যায়ের ইশারা ছাড়া ওই পরিবারটিকে সন্দেহের তালিকায় আনা সম্ভব নয়।জনবহুল শহর, তবু কেউ কিছু দেখেনি: বিকেল চারটা থেকে ছয়টার মধ্যে শহরের রাস্তাগুলো মানুষ আর যানবাহনে ভরে যায়। লেগে থাকে যানজট। এই সময়ের মধ্যে তানভীরকে অপহরণ করা হলেও কোনো প্রত্যক্ষদর্শী পাওয়া যায়নি।রফিউর রাব্বির অভিযোগ, নারায়ণগঞ্জ শহরে কয়েকটি নির্যাতন কেন্দ্র রয়েছে বিশেষ পরিবারটির। জেলার মানুষ এসব তথ্য জানে। তবে জানে না শুধু পুলিশ আর র্যাব। নিখোঁজ হওয়ার পর পুলিশ-র্যাব যদি ওইসব নির্যাতন কেন্দ্রে হানা দিত, তাহলে তাঁর ছেলেকে জীবিত উদ্ধার সম্ভব হতো।র্যাব-১১ এর সহকারী পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম বলেন, নিখোঁজ হওয়ার পর তানভীরের বাবা র্যাবের কাছে এসেছিলেন। কিন্তু তিনি কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা স্থানের নাম বলতে পারেননি। র্যাব তানভীরের কাছে থাকা মোবাইল ফোনটির সর্বশেষ অবস্থান প্রযুক্তির সাহায্যে খুঁজে বের করার চেষ্টা চালায়। কিন্তু ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলেন, এ হত্যার রহস্য উন্মোচনে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ছাড়াও পুলিশের দুটি দল কাজ করছে। এ ছাড়া ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল তাদের সার্বক্ষণিক সহায়তা করছে। ইতিমধ্যে সন্দেহের বিষয়গুলোকে সামনে রেখে বেশকিছু জায়গায় অভিযান চালানো হয়েছে এবং অনেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।কবরীর সন্দেহ: গতকাল দুপুরে রফিউর রাব্বির সঙ্গে দেখা করতে আসেন সাংসদ কবরী। এ সময় ক্ষোভ প্রকাশ করে কবরী বলেন, আশিকুল হত্যা রহস্য উন্মোচিত হলে আর এ হত্যাকাণ্ড হতো না। এই শহরের পাড়া-মহল্লার মানুষ ধারণা করতে পারেন, কারা এসব হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে। জানে না শুধু পুলিশ আর র্যাব। তিনি বলেন, ‘২০১১ সালে জেলার আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় যখন আশিকুল হত্যাকাণ্ডের কথা তুলেছিলাম, তখন কমিটির উপদেষ্টা সাংসদ নাসিম ওসমান বলেছিলেন, দুই-চারটা খুন শহরে হতেই পারে।’ তানভীরকে জীবিত উদ্ধারে ব্যর্থ হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কবরী বলেন, ছেলেটি যেদিন নিখোঁজ হলো সেদিন কেনো প্রশাসন তাকে উদ্ধার করতে পারল না। এখন তারা লোক দেখানো কমিটি আর মায়াকান্না কাঁদতে এসেছে।কবরী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলেই নারায়ণগঞ্জবাসীর কপাল পুড়ে। ক্ষমতায় এলে সেই পরিবারটি সিন্দাবাদের ভূতের মতো নারায়ণগঞ্জের ওপর চেপে বসে। আর দল ক্ষমতায় না থাকলে তারা এলাকা ছেড়ে পালায়।’ তিনি নারায়ণগঞ্জবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই পরিবারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।