প্রেস কাউন্সিলে প্রথম আলোর দায়ের করা মামলার রায়
ডেইলি সানকে সাংবাদিকতার নীতিমালা মেনে চলার নির্দেশ
গত ২২ এপ্রিল বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন ও ডেইলি সান পত্রিকার বিরুদ্ধে প্রথম আলোর সম্পাদকের করা তিনটি পৃথক মামলার রায় দেন। প্রথম আলো ও এর সম্পাদকের বিরুদ্ধে লাগাতার মিথ্যা, কুৎসাপূর্ণ ও মানহানিকর প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য এসব মামলা করেন প্রথম আলোর সম্পাদক। দ্য ডেইলি সান পত্রিকার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার রায়ের হুবহু বিবরণ ছাপা হলো আজ।রায়ের হুবহু বিবরণবাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলমামলা নং-৩/২০১২ফরিয়াদীজনাব মতিউর রহমান সম্পাদক, দৈনিক প্রথম আলো, ঢাকা।বনামপ্রতিপক্ষ১. অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, সম্পাদক২. জনাব মোস্তফা কামাল মহিউদ্দিন, প্রকাশক৩. নিজস্ব প্রতিবেদক দি ডেইলী সান, ঢাকা।জুডিশিয়াল কমিটির উপস্থিত সদস্যবৃন্দ:১. বিচারপতি বি. কে. দাস, চেয়ারম্যান২. জনাব শামসুজ্জামান খান, সদস্য৩. জনাব আকরাম হোসেন খান, সদস্য৪. জনাব মনজুরুল আহসান বুলবুল, সদস্য ফরিয়াদী পক্ষের পক্ষেজনাব মোঃ খায়রুল ইসলাম, এডভোকেটজনাব আফতাব উদ্দিন সিদ্দিকী, এডভোকেটপ্রতিপক্ষের পক্ষেব্যারিস্টার ইউসুফ খান রাজীবশুনানীর তারিখ : ৫/৯/১২, ১৯/১১/১২ ও ০৩/১২/২০১২।রায়ের তারিখ : ২২/০৪/২০১৩।রায়“দৈনিক প্রথম আলো” পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক জনাব মতিউর রহমান প্রেস কাউন্সিলে একটি মামলা দায়ের করে বলেন, “The Daily Sun” পত্রিকায় দুরভিসন্ধিমূলকভাবে লাগাতার ফরিয়াদীর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন, মিথ্যা, কাল্পনিক কুৎসাপূর্ণ, অপবাদমূলক ও মানহানিকর প্রতিবেদন প্রকাশ এবং “The Daily Sun” ইষ্ট ওয়েষ্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড-এর ইংরেজী দৈনিক পত্রিকা এবং সর্ব কনিষ্ঠ ও সাম্প্রতিক প্রকাশনা স্বত্ত্বেও সংবাদপত্রের নীতিভ্রষ্টতা ও সাংবাদিকের পেশাগত অসদাচারণে একই গ্রুপের অন্য দুই পত্রিকার সমকক্ষ ও সুদক্ষ দোসর রূপে ফরিয়াদী, ফরিয়াদীর পত্রিকা এবং পত্রিকা সম্পৃক্ত সম্মানিত ব্যক্তি ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কুৎসা ও অপবাদ প্রচারে ফরিয়াদীর অপুরণীয় ক্ষতি সাধনের দায়ে প্রতিপক্ষগণের দৃষ্টান্ত মূলক এবং নিবৃত্তমূলক দন্ড প্রদানের প্রার্থনা করেছেন। প্রতিপক্ষগণ অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে ফরিয়াদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভিত্তিহীন, কুৎসাপূর্ণ অপবাদ এবং মানহানিকর প্রতিবেদন প্রকাশ এবং ধর্মীয় মৌলবাদকে উস্কে দেওয়া এবং ফরিয়াদীর জীবনের নিরাপত্তার ওপর হুমকি সৃষ্টির জন্য “The Daily Sun” কে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করছে। ১৬ই জানুয়ারি ২০১২ তারিখে “The Daily Sun” এর ১ম পৃষ্ঠায় ২ কলাম শিরোনামে কার্টুনিস্ট আরিফ এর ছবিসহ ছাপা হয় ‘Whereabouts cartoonist Arif: Prothom Alo didn’t stand by me’ শীর্ষক প্রতিবেদন। আগের দিন (১৫ই জানুয়ারী, ২০১২ইং তারিখ) একই প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন ১ম পাতায় একইভাবে কাটুর্নিস্ট আরিফ-এর ছবিসহ ছাপে ‘আমাকে জেলে পাঠিয়ে প্রতারণা করেছে মতিউর’ শিরোনামের প্রতিবেদন। ১৫ই জানুয়ারী, ২০১২ইং তারিখে প্রকাশিত “The Daily Sun” পত্রিকায় (Vol, II No 77) ২৪ পৃষ্ঠায় (শেষ পাতা) ৩ কলাম শিরোনামে “Vested Quarters Active once again” শিরোনামে প্রতিপক্ষ (১ ও ২ নং) একটি দীর্ঘ প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। ৫ বছর পূর্বে ‘এক-এগার’ নামে অভিহিত রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সূত্র ধরে প্রতিবেদনে ফরিয়াদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও মানহানিকর বক্তব্য প্রকাশ করা হয়। তর্কিত দীর্ঘ প্রতিবেদনটির প্রথম অংশ ২৪ পৃষ্ঠায় এবং বর্ধিত অংশ ৪নং পৃষ্ঠায় ছাপানো হয়। The Daily Sun পত্রিকায় প্রকাশিত ওই তর্কিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়:“The masterminds of the 1/11 change over intervened in the scene and advocated a formula to exclude two paramount leaders-then Awami League President Sheikh Hasina and Bangladesh Nationalist Party chairperson Khaleda Zia-from Politics to perpetuate and undemocratic system of governance in the country. The players who had overt and covert role in the promotion of undemocratic rule include Motiur Rahman and Mahfuz Anam, editors of Prothom Alo and the Daily Star respectively-two publications owned by Transcom Group chief Latifur Rahman. In the aftermath of 11 January 2007 the two newspapers published fabricated reports to damage reputation of politicians, effectively joining an evil campaign of “Minus-2 Formula” which would have meant exclusion of Sheikh Hasina and Khaleda Zia from politics. In the backdrop of a blueprint to send them on exile in the pakistani style of sending former prime Minister Newaz Sarif to Saudi Arabia Prothom Alo Editor Motiur Rahman had, in a commentary asked the two leaders to relinquish their portfolios in the parties and give up politics.Although Motiur Rahman apologised to Prime Minister Sheikh Hasina in the post 1/11 period his recent activities have once again annoyed her. She was learnt to have made indication about dubious role played by him. The Prothom Alo editor escaped prosecuition in the 21 August 2004 grenade attack case only because of his involement with the media but continued his activities in favour of another undemocratic change over. His newspaper recently reported that the people no longer want the two main political parties or their top leasers. Persons like Motiur Rahman with the help of a section of so-called vivil society members are trying to exploit the present situation and come to power without engaging them in electoral politics”.বিজ্ঞ প্রেস কাউন্সিলের সদয় অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, ২০০৭ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর তারিখে প্রথম আলোর রম্য ম্যাগাজিন আলপিন এ (বর্তমানে বিলুপ্ত) প্রকাশিত কাটুর্নিস্ট আরিফের কার্টুনটি ছিল নিতান্তই অনভিপ্রেত ও অনিচ্ছাকৃত ভুল। এর পেছনে ফরিয়াদীর উদ্দেশ্যমূলক বা ষড়যন্ত্রমূলক কোনো কিছুই ছিল না। পত্রিকা সম্পাদক ও প্রকাশক ও মালিকের অগোচরে, অজ্ঞাতে, নিতান্তই অসাবধানতা ও ভুলবশত ওই কার্টুন প্রকাশিত হয়। কিন্তু কার্টুনটি অনাকাঙ্খিত ভাবে মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিকে আঘাত দিলে, সেই অনুভূতির প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা দেখিয়ে, ওই ভুলের সমস্ত দায় দায়িত্ব স্বীকার করে ফরিয়াদী পর পর দুদিন (১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর ২০০৭) প্রথম আলোর প্রথম পাতায় ফলাও করে প্রকাশিত দুটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ওই কার্টুনের জন্য আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চান। ২০ সেপ্টেম্বর ২০০৭ তারিখে আবারও দুঃখ প্রকাশ এবং ক্ষমা চেয়ে ‘ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল’ শিরোনামের সম্পাদকীয় প্রকাশ করেন। একই দিন সরকারী উদ্যোগ সরকার ও আলেম সমাজের নেতৃবর্গের সমন্বয়ে ইসলামী ফাউন্ডেশনে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ফরিয়াদী ওই ঘটনার জন্য আলেম সমাজের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন। তৎকালীন তথ্য ও আইন উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) এ এস এম মতিউর রহমান, বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা ওবায়দুল হক, শীর্ষস্থানীয় তিন পত্রিকার সম্পাদকসহ (গোলাম সরওয়ার, নাঈমুল ইসলাম খান ও মতিউর রহমান চৌধুরী) দেশের নেতৃস্থানীয় আলেম-ওলামাগণ ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে ওই বৈঠকের ওই কার্টুন সমস্যার আনুষ্ঠানিক যবনিকাপাত ঘটে। শুধু তাই নয় ওই অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য পুনরায় দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চেয়ে ফরিয়াদী পরদিন (২১ সেপ্টেম্বর) প্রথম আলোতে ১ম পাতায় ‘আমরা দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী’ শিরোনামে একটি মন্তব্য প্রতিবেদন লেখেন। ফরিয়াদী এমনকি আলপিন প্রকাশনা পর্যন্ত বন্ধ করে দেন। চাকরিচ্যুত করেন আলপিন সম্পাদনার দায়িত্বে নিয়োজিত সাংবাদিককে। ফরিয়াদী কর্তৃক যথোপযুক্তভাবে দুঃখ প্রকাশ ও ভুল স্বীকার করায় এবং এতদসংক্রান্ত দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করায় ওই সময়ে বিষয়টির সন্তোষজনক ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি ঘটে।বিগত ১৩/০৬/২০১২ তারিখে প্রতিপক্ষগণ তাদের লিখিত জবাব দাখিল করে বলেন যে, প্রতিপক্ষগণ ডেইলী সানের সম্পাদক ও প্রকাশক। প্রতিপক্ষগণ দেশে ও বিদেশে সৎ, নিষ্ঠাবান ও দেশ প্রেমিক ব্যক্তিরূপে সমাদৃত বটে। “Vested Quarters Active once again” শীর্ষক প্রতিবেদনটি ডেইলী সানে ছাপা হয় ১২ জানুয়ারী, ২০১২ তে। এ প্রতিবেদন গত ওয়ান-ইলেভেনের সময় ফরিয়াদীর ভূমিকা, তাঁর পত্রিকায় প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন, মন্তব্য প্রতিবেদন, সম্পাদকীয় ও উপসম্পাদকীয় এর ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। গত ওয়ান-ইলেভেনের আমলে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানের বক্তব্যগুলো ছিল স্পষ্ট। তিনি ২০০৭ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি প্রথম আলোর সম্পাদকীয়তে লিখেছিলেন, ‘আমরা সেনাবাহিনীর এই অবস্থানকে স্বাগত জানাই।’ ২০০৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারিতে প্রথম আলোর সম্পাদকীয়তে আবার লেখা হয়, ‘প্রচলিত রাজনৈতিক ধরায় বাংলাদেশের গণতন্ত্র বিকশিত হতে পারেনি। বরং রাজনৈতিক চরম দেউলিয়াত্ব সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একই বছরের ১১ জুন প্রথম আলোর মন্তব্য প্রতিবেদনে ফরিয়াদী বলেন, দুই নেত্রীকে সরে দাড়াতে হবে। একই বছরের ১১ জুলাই আবারও দুই নেত্রী সম্পর্কে প্রথম আলোর উপ সম্পাদকীয়তে লেখা হয়, সম্মানজনক প্রস্থানের সুযোগ থাকা উচিত। ১৭ জুলাই প্রথম আলোর সম্পাদকীয়তে দুই নেত্রী সম্পর্কে বিরূপ ধারণা পোষণ করে গণতন্ত্রকে হেয় করা হয়। ২০০৭ সালের ১৪ আগস্ট প্রথম আলোর সম্পাদকীয়তে লেখা হয়, ১১ জানুয়ারির পরিবর্তনকে এ দেশের মানুষ স্বাগত জানিয়েছে। ১১ জানুয়ারি সেনা সমর্থিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করেছিল। মাইনাস টু ফর্মুলা কার্যকর করতে প্রথম আলোর সম্পাদক অত্র মামলার ফরিয়াদী জনাব মতিউর রহমান এরকম অসংখ্য লেখা লিখেছেন। সেনা সমর্থিত সরকারকে সমর্থন করে রাজনৈতিক নেতাদের হেয় করার প্রবনতা তত্ত্বাবধায়ক আমলে মতিউর রহমানের মধ্যে দেখা গেছে। এসব প্রতিবেদন ‘দি ডেইলী সানে’ ছাপানো কোনো অপরাধের পর্যায়ে পড়ে না। আর এসব বক্তব্য মিথ্যা নয়। কাজেই ফরিয়াদীকে হেয় করা বা সম্মানহানি করার ইচ্ছে ‘দি ডেইলী সানের’ প্রতিবেদনে নেই। সুতরাং প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে দায়ের করা এ মামলা চলতে পারে না। সত্য প্রকাশ করার ক্ষেত্রে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রয়েছে। আইনে, দেশের সংবিধানে এই স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। বরং ডেইলী সান প্রকাশিত হওয়ার পর তার প্রচার দিন দিন বেড়ে যাওয়ায় ফরিয়াদী ঈর্ষান্বিত হয়ে এ মামলা দায়ের করেছেন, যা অচল। এ ক্ষেত্রে ফরিয়াদী প্রতিপক্ষের শাস্তি দাবি করা অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন।উপর্যুক্ত কারণাধীনে প্রতিপক্ষগণ বর্তমান মামলা আইনের দৃষ্টিতে অচল বিধায় খারিজ হওয়ার আবেদন করেন।উভয়পক্ষের উপস্থিতিতে মামলাটির বিচার কাজ শুরু হয় ৫/৯/২০১২ তারিখে। ঐদিন ফরিয়াদীপক্ষের বক্তব্য শ্রবণ শেষ হয় এবং প্রতিপক্ষের বক্তব্য শ্রবণের জন্য ৮/১০/১২ তারিখ ধার্য হয়। অবশেষে ৩/১২/১২ তারিখে প্রতিপক্ষগণ তাদের বক্তব্য পেশ করেন এবং মামলার শুনানী সমাপ্ত করা হয়। ২০০৭ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর তারিখে কার্টুনিষ্ট আরিফের একটি কার্টুন প্রকাশ করে ফরিয়াদী প্রথম আলো পত্রিকায়। ঐ কার্টুনটি নিতান্তই অনভিপ্রেত ও অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রকাশিত হয়। এই ত্রুটির জন্য মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগার ফলে সেই অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে ওই ভুলের সমস্ত দায় দায়িত্ব স্বীকার করে ফরিয়াদী পর পর দু’দিন (১৮ ও ১৯ সেপ্টেঃ ২০০৭) প্রথম আলোর প্রথম পাতায় ফলাও করে প্রকাশিত দুটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ওই কার্টুনের জন্য আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চান। ২০ সেপ্টেঃ ২০০৭ তারিখে আবারও দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চেয়ে “ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল”-শিরোনামে সম্পাদকীয়তে প্রকাশ করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তৎপর ইসলামি ফাউন্ডেশনে আলেম সমাজের নেতৃবর্গের উপস্থিতিতে তৎকালীন তথ্য ও আইন উপদেষ্টা ব্যারিষ্টার মইনুল হোসেন, ধর্ম উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অবঃ) এ.এস.এম. মতিউর রহমান, বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা ওবায়দুল হক, শীর্ষস্থানীয় তিন পত্রিকার সম্পাদকসহ দেশের নেতৃস্থানীয় আলেম ওলামাগণ ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে ওই বৈঠকেই কার্টুন সমস্যার আনুষ্ঠানিক যবনিকাপাত ঘটে। ঐ কার্টুনটি প্রকাশের জন্য অনিচ্ছাকৃত ভুলের কারণে ২০০৭ সালে ‘দৈনিক প্রথম আলো’ এর প্রথম পাতায় “আমরা দুঃখিত ক্ষমাপ্রার্থী” শিরোনামে একটি মন্তব্য প্রতিবেদন লেখেন এবং ফরিয়াদী ‘আলপিন’ প্রকাশনা বন্ধ করে দেন ও চাকুরিচ্যুত করেন কার্টুনিষ্ট সাংবাদিককে। বর্তমান মামলায় বিশদভাবে ঐ তথ্য তুলে ধরা হয় কিন্তু কার্টুনিষ্ট আরিফকে এই মামলায় পক্ষভুক্ত করা হয় নি। সুতরাং আমরা মনে করি যে, কার্টুনিষ্ট আরিফের অসাক্ষাতে এই বিষয়ে আমাদের কোন মতামত প্রকাশ করা সংগত নয়। “The Daily Sun” পত্রিকায় প্রকাশিত অন্যান্য তথ্য সম্পর্কে ফরিয়াদীপক্ষ কোন কাগজাত দাখিল করেন নি বা কোন প্রমাণ দালিলিক বা মৌখিক সাক্ষ্য প্রদান করেন নি। একই সঙ্গে প্রতিপক্ষগণও তাদের জবাবে কোনরকম দালিলিক বা মৌখিক প্রমাণ আমাদের সামনে পেশ করেন নি। প্রকৃত প্রমাণের অভাবে এই মামলায় ফরিয়াদীপক্ষ কোন প্রতিকার পাওয়ার হকদার নয়। একইভাবে প্রতিপক্ষগণও লিখিত জবাব প্রমাণ করার জন্য কোনরকম দালিলিক বা মৌখিক সাক্ষ্য আমাদের সামনে উপস্থাপন করেন নি। যদিও তাদের লিখিত জবাবের কিছু কিছু অংশ আমাদের মধ্যে বিরূপ ধারণার প্রকাশ ঘটিয়েছে, যা অনভিপ্রেত এবং ভবিষ্যতে প্রতিপক্ষগণ এরূপ সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে চুড়ান্ত সতর্কতা অবলম্বন করবেন বলে আমরা আশাকরি।উভয়পক্ষের বক্তব্য আমরা শ্রবণ করেছি এবং নথীতে রক্ষিত কাগজাদি পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছি। ফরিয়াদী ও প্রতিপক্ষের বক্তব্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ‘The Daily Sun’ কয়েক বছর আগে দৈনিক প্রথম আলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদন নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। প্রতিপক্ষ তাদের জবাবে তাদের প্রতিবেদনটির সূত্র উল্লেখ ও তা প্রতিষ্ঠিত করতে ব্যর্থ হয়েছেন। সাংবাদিকতার স্বাভাবিক নীতিমালা হচ্ছে; কোন সংবাদ বা প্রতিবেদন প্রকাশের পর তা প্রমাণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সম্পাদককেই নিতে হয়। সাংবাদিকতার স্বীকৃত সত্য হচ্ছে যে কোন সূত্র থেকে তথ্য সংগৃহীত হোক না কেন কোন সংবাদপত্রে তা’ প্রকাশের পর সম্পূর্ণ দায় সেই সম্পাদককেই বহন করতে হবে। কিন্তু এক্ষেত্রে প্রতিপক্ষ যেভাবে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছেন তাকে কোনভাবেই পেশাদারী সম্পাদক বা প্রকাশকসুলভ আচরণ বলা যায় না। ‘The Daily Sun’ কর্তৃপক্ষ বর্ণিত মামলায় তাদের প্রতিবেদনে যথার্থতা প্রমাণ করতে পারেননি।পর্যবেক্ষণে আরও দেখা যায় বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের ১/২০১২ ও ২/২০১২ মামলার ২নং প্রতিপক্ষ জনাব মোস্তফা কামাল (প্রকাশক) এবং মামলা নম্বরঃ ৩/২০১২ এর ২নং প্রতিপক্ষ একই ব্যক্তি। এবং তাঁর প্রকাশনা দপ্তরও একই ঠিকানায় অবস্থিত। [প্লট # ৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক # ডি, বসুন্ধরা রোড, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, বারিধারা, ঢাকা-১২১৯, বাংলাদেশ] শুধু তাই নয় এটিও ইস্ট-ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপেরই একটি প্রতিষ্ঠান। কাজেই একথা মনে করার যুক্তিসঙ্গত কারণ রয়েছে। একই প্রকাশকের তিনটি প্রতিষ্ঠান পারস্পরিক যোজসাজশে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ফরিয়াদীর বিরুদ্ধে উল্লেখিত সংবাদ ও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। একই প্রকাশক যখন একই উদ্দেশ্যে তার তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করেন তখন তা’ শুধু সাংবাদিকতাকে কলুষিতই করে না, সুস্থ সাংবাদিকতার প্রতিও প্রতিবন্ধকতা তৈরীর হুমকি সৃষ্টি করে।সর্বোপরি শুনানীকালে প্রতিপক্ষের সম্মানিত আইনজীবীগণ স্পষ্টতই দুঃখ প্রকাশ করে স্বীকার করেছেন, তাদের মোয়াক্কলগণ উল্লেখিত সংবাদ ও প্রতিবেদন প্রকাশ করে সাংবাদিকতার সাধারণ নীতি লংঘন করেছেন এবং ভবিষ্যতে তাঁদের মোয়াক্কেলগণ এরূপ ঘটনার পুনরাবৃত্তি করবে না বলে আশ্বাস দেন।ভবিষ্যতে সংবাদ বা প্রতিবেদন প্রকাশের বেলায় প্রতিপক্ষ আরও সতর্ক হবেন, সাংবাদিকতার সাধারণ নীতিমালা অনুসরণ করবেন, সাংবাদিকতার মত মহৎ পেশাকে কোন উদ্দেশ্যমূলক কাজে ব্যবহার করবেন না - উপর্যুক্ত পর্যবেক্ষন দিয়ে মামলাটি নিষ্পত্তি করা হলো।উভয়পক্ষ রায় প্রকাশের ৭(সাত) দিনের মধ্যে নিজ নিজ পত্রিকায় রায়টি হুবুহু ছাপিয়ে একটি করে কপি প্রেস কাউন্সিলে দাখিল করবেন।বিচারপতি বি. কে. দাসচেয়ারম্যানশামসুজ্জামান খানসদস্য মনজুরুল আহসান বুলবুলসদস্যআকরাম হোসেন খানসদস্যবাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল