লৌকিক সত্যের সন্ধানে

জাদুকরের হাতসাফাইয়ে বস্তু-উপকরণ যেমন কখনো দৃষ্টিগোচর হয় বা কখনো অদৃশ্য হয়, মুন রহমানের ইন্ট্যাগলিও প্রিন্ট চিত্রেও রয়েছে সে রকম ইন্দ্রজাল। তিনি যেন জড় বস্তুর ভেতরে প্রাণ সঞ্চার করেন। জড় বস্তু রূপের আদল অনুকরণে নয়, আদলকেই সুরে সাজান—গঠন, পুনর্গঠন ও নির্মাণের মাধ্যমে। চেনা বস্তু তৈরি করে কেমন অচেনা জগৎ, ফলে একটা ধ্যানস্থ সুর মর্মস্হলে পৌঁছায়। এ জন্যই হয়তো শিল্পকর্মে বস্তুর সাধারণ ধর্ম ছাড়িয়ে বস্তুর মধ্যে শিল্পসত্তা নির্মিত হয়। এই কাজের মধ্য দিয়ে শিল্পী যেন ‘সর্বভূতে ঈশ্বর’ অবলোকন করেন। অনির্বচনীয় ইন্দ্রজাল আর মনের ভাবনার স্বাধীনতাকে পুরো কাজে লাগান।

‘শব্দেরও রূপ থাকে, বস্তু-রূপেরও অরূপ থাকে।’ —সেই অরূপের সন্ধান আছে মুনের কাজে। আছে কাব্যিক নীরবতা এবং ইউনিভার্সেল ধারণাও। ভাব-ভাবনা-কল্পনার উপস্থাপন ও বিন্যাস বৈশিষ্ট্যের বিশেষত্বে মুনের কাজগুলো সমসাময়িক, আধুনিক ও সৃজনপ্রতিভার স্বাক্ষর বহন করে। নিত্যব্যবহার্য জড় বস্তুই তাঁর নির্বাচিত অবলম্বন। এ ছাড়া নীল নদীজলে ভাসানোর সারিবদ্ধ নৌকা, রাস্তায় রিকশার আদল দেখা যায় দু–একটা কাজে। শিল্পীর দৃষ্টিভঙ্গি, অবস্থান, সরু রিলিফ রেখা, রঙের টেকচার একরঙা প্রলেপের ব্যবহার কাজগুলোতে পরিমিতিবোধ ও নান্দনিকতা দিয়েছে।
মাটির পাত্র, কাচের পাত্র, চেয়ার–টেবিল, ফুলদানি, শোপিস এক মায়াবী আলোছায়ার মেলবন্ধনে আবদ্ধ। ‘জড় ও জীবন ১২’ চিত্রে বার্ডস আই ভিউ থেকে দেখা সারিবদ্ধ নৌকা অনুমান করতে পারি। সেখানে নদীজলের সাজুয্যও পাই নীল রঙের প্রলেপে। আসলে এক অদ্ভুত সরলীকরণ রয়েছে মুনের কাজে। আর সেই সরলতার রাস্তা ধরেই দর্শক সহজে প্রবেশ করতে পারবেন শিল্পীর মনোজগতের ভাব–ভাবনায়।
শিল্পী ওয়াকিলুর রহমানের কিউটিংয়ে মুন রহমানের ‘স্টিল-লাইভ’ বা ‘জড় ও জীবন’ শীর্ষক চিত্রকর্ম প্রদর্শনীটি লালমাটিয়ায় দ্বীপ গ্যালারিতে শুরু হয়েছে ২৩ মার্চ, চলবে ৭ এপ্রিল