আলাপচারিতায় স্থপতি মাজহারুল ইসলাম

মাজহারুল ইসলামের (২৫ ডিসেম্বর ১৯২৩—১৫ জুলাই ২০১২) এ সাক্ষাৎকার ১৯৯৮ সালের ২৭ নভেম্বর প্রথম আলোর সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছিল। এত দিন সাক্ষাৎকারটি শুধু ছাপা কাগজজুড়েই ছিল, আজ প্রথম অন্য আলো অনলাইনের পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো। সাক্ষাৎকার গ্রহণ: রবিউল হুসাইন

প্রথম আলোর মহাফেজখানা থেকে প্রাপ্ত পুরোনো সংখ্যা অবলম্বনেপ্রথম আলো গ্রাফিকস

যখন স্থপতি মাজহারুল ইসলামের বাসভবনে যাই, তখন পরীবাগে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। বিস্তীর্ণ লেন পেরিয়ে পুরোনো আমলের টানা বারান্দায় রাখা বেতের সোফায় বসলাম। উঁচু সিলিং থেকে ঝুলোনো পাখার বাতাস বইছে। বাসায় একজন আপন মানুষের সদ্য রোগ ধরা পড়ায় সবাই ব্যথিত ও চিন্তিত। এই দুঃসময়ে কথা বলা ঠিক হবে কি না, দ্বিধাগ্রস্ত ছিলাম। কিন্তু ইসলাম সাহেবের আন্তরিকতায় মুগ্ধ না হয়ে পারা যায় না। একজন ডাক্তার রোগী দেখে এইমাত্র বেরিয়ে গেলেন। ইসলাম সাহেবকে ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করি সাধারণত। ছাত্রাবস্থায় তাঁর সুবিখ্যাত আপিস বাস্তুকলাবিদ-এ সচল ছিল। তখন তিনি ওপার বাংলায়। আমি, ওয়ারেস, অপরেশ—এরা আপিসটিকে টিকিয়ে রেখেছিলাম এবং ভেতরে–ভেতরে মুক্তিযুদ্ধের অনেক গোপন কাজে তত্পর হয়েছিলাম। এ দেশে স্থাপত্যচর্চার শুদ্ধ এবং সুষ্ঠু অনুশীলন পেশাজীবীর মধ্যে স্থাপত্যশিল্পমূল্যের বিকাশ, বিস্তার এবং প্রতিষ্ঠা প্রথম মাজহারুল ইসলামের বাস্তুকলাবিদ থেকেই শুরু হয়। বাংলাদেশের আধুনিক স্থাপত্যের গোড়াপত্তন তার হাঁত থেকে উত্সারিত এবং সেটি হয় তদানীন্তন আর্ট কলেজ, বর্তমানের চারুকলা ইনস্টিটিউট ভবন থেকে। সেই ১৯৫৩ সালে। আর্ট কলেজ শুরু হয় শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের নেতৃত্বে ১৯৪৮ সালে। দীর্ঘ ৫০ বছর পার হলো। এই ঘটনা সামনে রেখে বাংলাদেশের চারুকলার ৫০ বছরপূর্তি উত্সব উদ্‌যাপিত হচ্ছে। চারুকলার বিকাশে মাজহারুল ইসলামকৃত আর্ট কলেজ ভবনের অবদান অপরিসীম। শিক্ষাবিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে স্থানিক পরিবেশের মূল্যও অনেক। বিশেষ করে চারুকলার মতো নান্দনিক বিষয়ের ক্ষেত্রে এর পরিবেশ সৃষ্টির অবদান ভেতরে–ভেতরে অনেক কাজ করে। শিক্ষার্থীরা যখন এই সুন্দর পরিবেশে শিল্পচর্চায় মনোনিবেশ করেন, অবচেতনে তাঁদের মনে একটি সুন্দর অভিধা সৃষ্টি হয়, যা প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে সবাইকে সুন্দরের প্রতি অধিক আগ্রহী করে তুলতে সাহায্য করে। পরিবেশের প্রভাব এভাবে ব্যবহারকারীর মনে দেহে, চেতনে-অবচেতনে নতুন একটি কল্যাণকর সৃষ্টির উত্স হিসেবে ধরা দেয়। স্থাপত্য এবং পরিবেশের মূল্য তাই সব সময় একটি বিচার্য বিষয় হিসেবে পরিগণিত। যার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে আসছে।

বাংলাদেশের চারুকলা বিকাশে তাই এই ভবনটির অবদান কম নয় এবং এ জন্য স্থপতি মাজহারুল ইসলামের কৃতিত্ব অনস্বীকার্য। চারুকলার ৫০ বছরপূর্তি উত্সবে (১৯৯৮) স্বভাবত অন্য অনেক কিছুর সঙ্গে তাঁর কথা মনে আসে, তাই জিজ্ঞেস করি—

রবিউল হুসাইন: আপনি কখন শুরু করেন এই ভবনের নকশা?

মাজহারুল ইসলাম: যুক্তরাষ্ট্রের অরেগন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থাপত্যে ব্যাচেলর ডিগ্রি নিয়ে দেশে ফিরি ১৯৫৩ সালে এবং কাজে যোগদান করি সেই বছরই। তখন পূর্ব পাকিস্তান। প্রধান স্থপতি ছিলেন ম্যাককনেল সাহেব। তিনি এই কাজ করতে দেন আমাকে। ১৯৫৩ সালের জুন থেকে ডিসেম্বর এই সাত মাস কাজ করি।

রবিউল: শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের সঙ্গে আপনার বন্ধুত্ব বা সখ্য ছিল কেমন? তিনি কেমন সহযোগিতা করেছিলেন আপনার সঙ্গে, বিশেষ করে ভবনের নকশার ব্যাপারে?

মাজহারুল: তাঁর সঙ্গে আমার গভীর বন্ধুত্ব ছিল। তিনি এবং কামরুল হাসান নকশার খুঁটিনাটি বিষয়ে যাবতীয় সহযোগিতা করতেন। আমার অফিসে এসে দিনের পর দিন কাজ দেখতেন। বিভিন্ন পরামর্শ দিতেন।

মাজহারুল ইসলাম (২৫ ডিসেম্বর ১৯২৩—১৪ জুলাই ২০১২)
ছবি: নাসির আলী মামুন, ফটোজিয়াম

রবিউল: বাজারে এমন একটা কথা প্রচলিত আছে, শিল্পাচার্যের সঙ্গে আপনার নাকি তেমন মতের মিল হতো না, তাহলে এ কথাটা ভুল।

মাজহারুল: ভুল, সম্পূর্ণ ভুল। কারা যে এসব কথা রটায় বুঝি না। একটা কথা মনে রাখা দরকার যে একটা ভালো ভবনের ভালো নকশার জন্য যেমন ভালো স্থপতির অবদান থাকে, তেমনিভাবে একজন ভালো ক্লায়েন্টেরও অবদান অপরিসীম। জয়নুল আবেদিন তেমন ছিলেন।

রবিউল: তদানীন্তন পাবলিক লাইব্রেরি আর আর্ট কলেজ ভবনের নকশা কি একই সময়ে শুরু করেছিলেন?

মাজহারুল: হ্যাঁ, তাই। আসলে লাইব্রেরি ভবন থেকে শুরু করে একটি সম্পূর্ণ জায়গায় পরপর স্থাপত্য স্কুল, সংগীত ভবন, নৃত্য নাট্যশালার জন্য নকশা করেছিলাম, সব মিলে একটা আর্ট কমপ্লেক্স। সেই রকমই তখন বলা হয়েছিল। পরে শুধু লাইব্রেরি আর আর্ট কলেজ তৈরি হয়।

রবিউল: আর্ট কলেজ ভবন সৃষ্টির পেছনে কোন চিন্তাটা আপনার মূল হিসেবে পরিগণিত করবেন?

মাজহারুল: মনে রাখা দরকার যে ভবনটির জন্য ছাত্রছাত্রী সংখ্যা ছিল ৩৫০। দোতলার বেশি উঁচু হবে না। সামনে রেসকোর্সেও ফাঁকা মাঠ, চারদিকে গাছপালার পরিবেশ। ভবনটি ব্যবহৃত হবে চারুকলার মতো একটি নান্দনিক বিষয়ে। এই প্রেক্ষিতে নিসর্গ এবং পরিবেশই মুখ্য। তাই স্বভাবত ভবন সৃষ্টির পেছনে মূল চিন্তা সেই পরিবেশের সঙ্গে মিলেমিশে এমন একটি অবস্থার বিকাশ ঘটানো, যাতে নিসর্গ ও ভবন একে অপরের পরিপূরক হিসেবে বিরাজ করে। সে জন্য চারদিকের নিসর্গকে ভবনের মধ্য দিয়ে অবাধে চালিয়ে দেওয়া হয়েছে। নিসর্গকে বিচ্ছিন্ন করে শুধু ভবনটিকে আলাদা অস্তিত্বে স্থাপন করা হয়নি। ভবনটিও যাতে পরিবেশ ও নিসর্গের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ ও অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দাঁড়ায়, সেদিকে জোর দেওয়া হয়েছে।

রবিউল: ভবন এবং নিসর্গের সহাবস্থান দেখে মনে হয় ল্যান্ডস্কেপ প্ল্যানিং খুব গুরুত্ব পেয়েছে।

মাজহারুল: হ্যাঁ, তবে ল্যান্ডস্কেপ প্ল্যানিং আমাকে করতে দেওয়া হয়নি। প্ল্যান শুরু করার আগে সম্পূর্ণ সাইেটের ডিটেল সার্ভে করা হয়। প্রতিটি গাছের নাম অবস্থান, দূরত্ব সবকিছু নিয়ে ড্রয়িং করা হয়। কিছুসংখ্যক গাছ কাটা পড়ে, তা খুব সামান্য।

রবিউল: মূল গাছগুলোর যেমন ছিল, সেগুলোই পরে বড় হয়ে সম্পূর্ণ নিসর্গের আওতায় গিয়ে একটি সুন্দর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

মাজহারুল: হ্যাঁ, তাই।

রবিউল: পেছনের গোলাকার পুকুরটা কি আগে থেকেই অমন ছিল?

মাজহারুল: পুকুরটা আগে থেকেই অমন ছিল। তখন পানি থাকত। রমনা লেকের সঙ্গে এর যোগাযোগ ছিল। পরে বন্ধ হয়ে যায় এবং আর কখনো পানি দেখা যায়নি, হাজার বৃষ্টি হলেও এখন পানি জমে না।

রবিউল: শুনেছি পুকুরটি নিয়ে অনেক গ্ল্যান করা হয়েছিল, সেটা কী রকম?

মাজহারুল: যেহেতু পুকুরটি গোলাকার এবং পানি জমে না আর বেশ গভীর, তাই এটিকে নিয়ে একটি অ্যাম্ফিথিয়েটার বানানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। মাঝখানে মঞ্চ আর একদিকে স্টেডিয়ামের মতো ধাপে ধাপে বসার ব্যবস্থা, পেছনে বাগান, গাছপালা—এই সব। পরে করা হয়নি, তবে এখনো করা যায়।

রবিউল: এই ভবনের সম্প্রসারণের উপায় কী? এখন তো ছাত্রসংখ্যা অনেক বেড়েছে, কিন্তু ভবনটি তেমনি আছে।

মাজহারুল: ভবনটি দোতলা। এর ওপরে আর বাড়ানো উচিত হবে না। তাহলে মূল পরিকল্পনা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বাড়াতে গেলে গোলাকার পুকুরের অপর পাশ দিয়ে সুন্দর করে নতুন ভবন তৈরি করা যায় এবং তা পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে করতে হবে। জায়গা অনেক আছে।

রবিউল: ভবনটির কোনো ফর্মাল প্রবেশদ্বার নেই, এটা কি ইচ্ছা করে করা হয়েছে, করলে কী কারণে?

মাজহারুল: আসলে ইচ্ছা করেই, যাতে একটা ব্যাপ্তি আসে। সম্পূর্ণ নিচতলাটা ফাঁকা। এখানে ছেলেমেয়েরা একত্র হওয়ার সুযোগ পায়, প্রয়োজনমতো ছোটখাটো জনসমাগম হতে পারে, কোনো প্রদর্শনীর উদ্বোধনীর ফাংশন হতে পারে আবার সঙ্গে সঙ্গে এটি একটি প্রবেশদ্বারও, খুব ইনফর্মাল। ভেতর দিয়ে ভেতরের বাগান দেখা যায়। বাইরের সঙ্গে ভেতরের যোগসূত্রও এটি।

রবিউল: শুনেছি আর্ট কলেজের মধ্যে একটি পুরোনো কবর পাওয়া গিয়েছিল। সেটিকে নিয়ে সে সময় সমস্যার সৃষ্টি হয়। সেই সমস্যার সমাধান কীভাবে করেছিলেন?

মাজহারুল: জয়নুল আবেদিন এবং আমরা খুব সহজেই এটার সমাধান করি। আমরা কবরটা নষ্ট করিনি বা তা করার চেষ্টাও করিনি। এখনো সেটা আছে।

মাজহারুল ইসলাম

রবিউল: বোঝা যাচ্ছে আপনারা সবাই এই ভবনটি তৈরির ব্যাপারে সহযোগিতা পেয়েছেন সবার কাছ থেকে। একটা সুন্দর বোঝাপড়া ছিল আপনাদের মধ্যে।

মাজহারুল: তা তো ঠিকই।

রবিউল: শুনেছি জয়নুল আবেদিন এই ভবনের পারস্পেকটিভ এঁকেছিলেন নিজে, তাই কি?

মাজহারুল: উনি আঁকেননি, আমরাই এঁকে দিয়েছিলাম মূল ছবিটি, পরে তিনি রং করেছিলেন। যত দূর মনে পড়ে, উদ্বোধনের সময় সেই ছবিটি উদ্বোধক বেগম ভিকারুননিসা নূনকে উপহার দিয়েছিলেন।

রবিউল: ভাবতে একটু অবাক লাগে, ওই সময়ে যে লাল রঙের সিরামিক ইট ব্যবহার করেছিলেন, যা এখনো নতুন মনে হয় ভবনে, ওগুলো কোথায় পেয়েছিলেন?

মাজহারুল: তখন হিজরি অ্যান্ড কোম্পানি এই ইট তৈরি করত। মিরপুরে ফ্যাক্টরি ছিল, এখন উঠে গেছে। আমাদের জন্য বিশেষ করে তৈরি করেছিল। তখন প্লাস্টারহীন দেয়ালের প্রচলন ছিল না।

১৯০৫-১৯১১ সালের পর স্থাপত্যে আমরাই প্রথম এই রকম লাল ইটের দেয়াল দিয়ে ভবন তৈরি করি, যা আর্ট কলেজে দেখা যায়।

রবিউল: আচ্ছা, একসময় আর্ট কলেজে ছোট একটা চিড়িয়াখানা ছিল, তাই না?

মাজহারুল: হ্যাঁ, ছাত্রদের ছবি আঁকার জন্য করা হয়েছিল, এখন বোধ হয় নেই।

রবিউল: সরকারি স্থপতি হিসেবে আর্ট কলেজের মতো আর কোনো প্রজেক্ট সেই সময়ে করার সুযোগ আপনার হয়েছিল কি?

মাজহারুল: অনেক প্রজেক্টের ডিজাইন করেছিলাম কিন্তু একটিও নির্মিত হয়নি। অবশ্য ’৬৩-’৬৪ সালে সায়েন্স ল্যাবরেটরি, পরে রাঙামাটি টাউন প্ল্যানিং, রাঙামাটি কোর্ট ভবন, আজিমপুরের একটি হাউজিং এসব করি। পরে ১৯৬৪ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে বাস্তুকলাবিদ শুরু করি।

রবিউল: আমরা শুনেছি যে আর্ট কলেজ উদ্বোধনের সময় আপনাকে নাকি নিমন্ত্রণ করা হয়নি, সত্যি?

মাজহারুল: হ্যাঁ, আমাকে বলা হয়নি। সরকারি ব্যাপার ছিল বলেই হয়তো।

বর্তমানের (১৯৯৮) চারুকলা ইনস্টিটিউটের চারুকলা চর্চার ৫০ বছর বয়স। চারুকলা শিক্ষাচর্চায় যেমন এই ভবন ইতিহাস হয়ে আছে, তেমিন বাংলাদেশের আধুনিক স্থাপত্যের প্রথম নিদর্শন হিসেবেও ভবনটি ইতিহাসের অংশবিশেষ। এই দুই ইতিহাস নিয়েই চারুকলা ইনস্টিটিউট ভবনের অগ্রযাত্রা। যা ভবনস্থিত অপূর্ব খোলামেলা অনবদ্য সিঁড়িটির প্রতীকীতে সমাসীন। চারদিকের সবুজ উন্মুক্ত অঙ্গনের একই উচ্চতায় মেঝেহীন পরিসর সমগ্র পরিবেশকে একীভূত প্রতিবেশে প্রতিস্থাপিত করে। বাধাহীন সচল পরিবেশ বাইরের সঙ্গে ভেতরের যোগসূত্রকে একত্র করে তোলে। এ ধরনের পরিসরের শুরু ও শেষ নেই। সব মিলে সম্পূর্ণ ও স্বয়ম্ভূ। চারুকলার মতো নান্দনিক বিষয়ের চর্চা উচ্চমান স্থাপত্যকলার পরিবেশে অর্জিত হলে তা সব দিক থেকেই আনন্দদায়ক হয়ে ওঠে। চারুকলাবিদ্যার শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি উপরি পাওনা এবং অবশ্যই এসব জেনে তাঁরা গর্ববোধ করতে পারেন। আর এই গর্বের মূলে আছেন স্থপতি মাজহারুল ইসলাম, যাঁর অনন্য সৃষ্টিক্ষমতায় অনবদ্য হয়ে চারুকলা ইনস্টিটিউট ভবন ফুলের মতো বিকশিত হয়ে আছে। ৫০ বছর এই স্মরণকালে তাঁর কথা তাই স্বভাবত চলে আসে। ফিরে যাওয়ার আগে তাঁকে শেষ প্রশ্ন করি—

রবিউল: আপনি কি জানেন, বাংলাদেশের চারুকলার ৫০ বছরপূর্তি উত্সব (১৯৯৮) উদ্‌যাপিত হচ্ছে?

মাজহারুল: হ্যাঁ, শুনেছি।

রবিউল: আপনাকে কি কোথাও স্মৃতিচারণা বা বক্তব্য বলার জন্য নিমন্ত্রণ জানানো হয়েছে?

মাজহারুল: এখনো জানি না। তবে আমি আশ্চর্য হই না। আমাদের দেশে সামাজিকভাবে স্থপতিদের চিরকালই অবহেলার চোখে দেখা হয়, সে একালই কি আর ওকালই কি। আমি কিছু মনে করি না। সবাই ভালো থাকুক এবং সবার মঙ্গল কামনা করি।

এখন বেশ রাত ঘনিয়েছে। দু–একটা গাড়ি-রিকশা চলছে। রাস্তার ভিড় একটু কমেছে। তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়ে বাসার দিকে রওনা দিই। ওপরে আকাশের দিকে তাকাই। ঘন মেঘে ঢাকা। নক্ষত্রহীন শূন্য প্রান্তর অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে আছে।