default-image

একজন কবি অন্তরের সব বেদনার কথা কি বলতে পারেন কবিতায়? অথবা একজন চিত্রশিল্পী কি রংতুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তুলতে পারেন হৃদয়ের সব দাগ? পারেন না দেখেই হয়তো কবি কখনো সংগীতে মজেন, কবিতায় আশ্রয় খোঁজেন চিত্রশিল্পী।

সোজা কথায়, শিল্পী সব সময় নিজের মাধ্যমে সবকিছু বলে তৃপ্ত হন না। চিত্রশিল্পী কাইয়ুম চৌধুরীও হননি। রংতুলির সমান্তরালে তিনি হাতে তুলে নিয়েছিলেন কলম, লিখেছিলেন কবিতা।

জীবনের শেষ দশকে কবিতার জোয়ার এসেছিল কাইয়ুম চৌধুরীর। তাঁর আকস্মিক তিরোধানের পর দুই শতাধিক কবিতার খোঁজ পাওয়া গেছে। তাঁর স্বজনদের ধারণা, এই হিসাবও পূর্ণাঙ্গ নয়। এসব কবিতায় ফুটে উঠেছে নদীমাতৃক বাংলার রূপ আর সরল মানুষের সংগ্রামী জীবন। উঠে এসেছে বিদেশের বর্ণিল চিত্র। কখনো ব্যক্তিজীবনের দ্বন্দ্ব-সংঘাত, গভীর আন্তরিক আবেগের স্ফুরণও ঘটেছে। তাঁর কবিতার বৈচিত্র্যময় ভান্ডারের অংশবিশেষ নিয়ে ২০১৬ সালের বইমেলায় প্রথমা প্রকাশন বের করেছিল কবিতার বই ‘হাতের ছোঁয়ায় রোদের শিহরণ’।

বিজ্ঞাপন
default-image

কাইয়ুম চৌধুরীর জন্ম ১৯৩২ সালে, নোয়াখালী জেলায়। পিতার বদলির চাকরির সুবাদে নানা জেলায় কেটেছে স্কুলজীবন। প্রবেশিকা পাসের পর তৎকালীন ঢাকায় চারুকলার একমাত্র বিদ্যাপীঠে পড়েছেন। পরে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের আগ্রহে সেখানেই শিক্ষকতা করেছেন। ছবি এঁকেছেন—রংরেখার বিচিত্রমাধ্যমে কাজ করেছেন। আর প্রচ্ছদশিল্পে তো ছিলেন কিংবদন্তি। অনেকগুলো একক প্রদর্শনী করেছেন। ১৯৮৬ সালে একুশে এবং ২০১৪ সালে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হয়েছেন তিনি। ২০১৪ সালের ৩০ নভেম্বর মারা যান এই শিল্পী।

কাইয়ুম চৌধুরীর আঁকা চিত্র অবলম্বনে ‘হাতের ছোঁয়ায় রোদের শিহরণ’ বইয়ের প্রচ্ছদ ও অলংকরণ করেছেন অশোক কর্মকার। বইটির গায়ের মূল্য ১৮০ টাকা। পাওয়া যাচ্ছে কারওয়ান বাজার ও শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটে প্রথমার আউটলেটে। এ ছাড়া ঘরে বসে বই পেতে চাইলে অনলাইনে অর্ডার করতে পারেন prothoma.com থেকে। সরাসরি কল করতে পারেন ০১৯৮৮৩৩৭৭৩৩ নম্বরে।

মন্তব্য করুন