ঐতিহাসিক উপন্যাস বা কল্পকাহিনি লেখা হয় ইতিহাস আর কল্পনার সংমিশ্রণে। রাসায়নিক বিক্রিয়ার পরে যেমন অংশগ্রহণকারী উপাদানকে আলাদা করে চিহ্নিত করা যায় না, ঐতিহাসিক উপন্যাসও তাই, লেখার পরে তা না ইতিহাস, না কল্পনা। রচনা স্বতঃস্ফূর্ত হলেও কোথাও না কোথাও তার একটি সীমানা থাকে, সীমানা বলে এটুকু কল্পনা আর এটুকু সত্য। তাত্ত্বিকেরা হয়তো সেই সীমারেখাকে নানাভাবে ব্যাখ্যা করে থাকবেন, তবে রচনায় সত্য আর সাজানো আবহ যতটুকুই ব্যবহার করা হোক না কেন, তা কখনো সুনির্দিষ্ট সীমানাটি প্রকাশ করে না। রচনার বাঁকে বাঁকে কখনো সত্য আর কল্পনা একে অন্যের ওপরে এমনভাবে পড়ে থাকে যে তা থাকে বোঝাবুঝির ঊর্ধ্বে। তবে এসব কিছুসহ সেই আদিকাল থেকে ইতিহাসভিত্তিক কল্পকাহিনি কিংবা ঐতিহাসিক কল্পকাহিনি পাঠের রাজ্যে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে।

কল্পনা-ইতিহাস, কিংবা ফিকশন-নন ফিকশনের সীমানায় দাঁড়িয়ে থাকা রচনাকে যদি ইতিহাস হিসেবে ধরে নেওয়া যায়, তা হবে একরকম চোরাবালিতে দাঁড়িয়ে থাকার মতো ঘটনা। ঘটনার সত্যতা বুঝতে হলে ইতিহাসের গভীরে, আরও গভীরে ডুবে যেতে হবে—লেখককে তো বটেই, পাঠককেও। আবার যদি কল্পনা হিসেবে ধরে নেওয়া যায়, তবে তা কোনো না কোনো জানা ইতিহাস বা চেনামুখকে মনে করিয়ে দেবে।

এই দুই–ই পাঠকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ইতিহাসকে গল্পের মতো পড়ে যেতে যেতে পাঠক তার আগে পৃথিবীতে আসা মানুষের জীবনযাপন, কৃতিত্ব বা ভুলভ্রান্তি নিয়ে বিশদভাবে ভাবতে পারে। তাই জানা ইতিহাসকে একটি বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখতে পেয়ে পাঠকের একরকমের চৈতন্য উদয় ঘটতে পারে। পাঠক নিজের জীবনে সেসব কৃতিত্বের প্রতিফলন ঘটাতে পারে পূজনীয় চরিত্রকে অনুসরণের মাধ্যমে। আবার নিজের জীবনের ভুলও নিতে পারে শুধরে। সমাধান হয়ে যাওয়া একটি ঘটনাকে ভিন্ন উপস্থাপনে দেখতে পেয়ে পাঠকের জীবন বা সমাজকে দেখার চোখ বদলে যেতে পারে, জীবনের বহু সিদ্ধান্তও যেতে পারে বদলে। যদিও কথায় বলে, ইতিহাসের শিক্ষাই হলো ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেয় না। তবে ইতিহাসকে জাবর কাটার মতো বারবার ভিন্ন মাধ্যমে উপস্থাপনের উদ্দেশ্য সেটাই যে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার আছে।

তবু, জানা ইতিহাসকে আরেকবার জাবর কাটারই–বা কী আছে! আছে, কারণ লেখক তাকে বিশেষ কোনো কায়দায়, নতুন কোনো দৃষ্টিভঙ্গিতে পাঠকের কাছে তুলে ধরতে চান। লেখক হয় আবিষ্কার করেন আনকোরা রচনা কিংবা ব্যবহার করেন জানা ও পরিণতিতে পৌঁছানো কাহিনিকে উপস্থাপনের নতুন পদ্ধতি। শুধু জীবন বা সুনির্দিষ্ট সময় নয়, অতীত সময়ের অর্থনীতি ও রাজনীতি বদলে যাওয়ার কাহিনি বর্ণনা করতে গিয়ে লেখক তার ফলে সৃষ্ট সামাজিক পরিবর্তনের পেছনের কারণ উদ্​ঘাটন করেন। এভাবে মানুষের সামাজিক জীবন বা রাজনৈতিক উত্থান-পতনসমেত একটি কাল উঠে আসতে পারে ইতিহাসভিত্তিক কল্পকাহিনিতে। কখনো তা যুগান্তরের পাঠককে মোহিত করে রাখে দীর্ঘকাল, কখনো কল্পকাহিনি হয়েও জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে। বিষাদসিন্ধুর স্থান যেমন হয় মুসলমানের বাড়িতে পবিত্র কোরআন শরিফের পাশের অন্যান্য ইসলামিক গ্রন্থের সঙ্গে। রামায়ণ বা মহাভারত গীতার সঙ্গে মিলিয়ে উচ্চারিত হয়। ওয়ার অ্যান্ড পিস বা ইলিয়ড যেমন ইতিহাস বা কল্পকাহিনির পাঠকের পৃথিবী জয় করে। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বা অতীন বন্দ্যোপাধ্যায় যেমন আমাদের অঞ্চলের আঠরো-উনিশ শতকের ঐতিহাসিক সমাজকে চেনায়।

তবে সুনির্দিষ্ট এক সময়ে পৃথিবীতে যা ঘটেছিল, ইতিহাসভিত্তিক ফিকশন বা ঐতিহাসিক ফিকশন কেবল তার ধারাবাহিক বর্ণনা নয়; বরং ওই সময়টিতে পাঠককে পৌঁছে দেওয়া এর উদ্দেশ্য। তাই সত্যিকারের ঐতিহাসিক ফিকশন পাঠের মাধ্যমে পাঠক কাহিনির বাঁকে কেবল অনুভূতি অর্জন করেন না; বরং উল্লেখ্য সময়ের অংশ হয়ে ওঠেন, পাঠকের মধ্যে জেগে ওঠে ‘এমপ্যাথি’। পাঠককে ‘সিমপ্যাথি’ থেকে ‘এমপ্যাথি’র দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার সোপানই হয়তো ঐতিহাসিক কল্পকাহিনি।

ইতিহাসে যেখানেই দ্বন্দ্ব বিদ্যমান, সেখানেই লুকিয়ে আছে কল্পকাহিনি সৃষ্টির সুযোগ। উপরন্তু একজন ইতিহাসবিদ ও এক ঐতিহাসিক উপন্যাস রচয়িতার উদ্দেশ্য মূলত একবিন্দুতে মেলে, অতীতকে চিনিয়ে দেওয়া। তাঁদের ভাষার ব্যবহার ভিন্ন, শব্দ-বাক্যের চেহারা আলাদা, চিন্তাশীলতাও পৃথক, তবু স্বীকার করতেই হবে যে তাঁদের লক্ষ্য এক—ঐতিহাসিক দ্বন্দ্বের সমাধান, ঘটনার রহস্যের উন্মোচন। ইতিহাসবিদ ও ঔপন্যাসিকের কাজের পদ্ধতিও পৃথক। ইতিহাসবিদ ইতিহাসের রেকর্ড ঘেঁটে খুঁড়ে বের করেন সত্য তথ্য আর তা উপস্থাপন করেন ফুটনোট বা বিবলিওগ্রাফির জটিল সমীকরণে। অন্যদিকে, ইতিহাস–আশ্রয়ী কল্পকাহিনি রচয়িতা সেই একই ইতিহাসকে বিবৃত করার জন্য কল্পনার ওপরে আস্থা রাখেন। কল্পনার আশ্রয়ে তিনি চরিত্র, সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি, কৃষ্টি ও পটভূমি খুঁজে পান। তবে এরপরেও বিবেচ্য, ‘কাব্যিক সত্য’ আর ‘বাস্তব সত্য’—এই দুইয়ের সংমিশ্রণই–বা ঘটে কতটুকু আর দূরত্বই–বা থাকে কতটুকু।

ভবিষ্যতের ওপরে অতীতের প্রচ্ছন্ন প্রভাব থাকে, রবীন্দ্রনাথের কথা স্মরণীয়, ‘সম্মুখে ঠেলিছে মোরে পশ্চাতের আমি।’ মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনে তার অতীত কর্ম গুরুত্বপূর্ণ। অতীতই ঠিক করে ভবিষ্যতে সে বা তারা কী করবে। আবার অতীতের কাহিনিকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখে কিংবা কিছুটা বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে ভবিষ্যৎকে বদলে দেওয়া যেতে পারে। জর্জ অরওয়েল বলেন, ‘যে অতীতকে নিয়ন্ত্রণ করে, সে নিয়ন্ত্রণ করে ভবিষ্যৎকে। আর অতীতকে সে-ই নিয়ন্ত্রণ করে, যার হাতে আছে বর্তমানের নিয়ন্ত্রণ।’ ইতিহাসের বর্ণনা বা ঐতিহাসিক উপন্যাসের উপস্থাপন তাই যুগে যুগে ক্ষমতাসীনের হাতের একটি অস্ত্র হতে পারে। দেশ-কাল-পাত্রভেদে তা হয়েও ওঠে।

ঐতিহাসিক কল্পকাহিনির বুননের কিছু চ্যালেঞ্জ থাকে, সত্যকে কত দূর পর্যন্ত সাজিয়ে বর্ণনা করা হবে, তা-ও যেমন থাকে, আবার কল্পনাকে কত দূর পর্যন্ত সত্য হিসেবে প্রতীয়মান করা হবে, এ-ও থাকে। থাকে সুনির্দিষ্ট কালের ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতিফলনের দায়। এ ছাড়া পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনার প্রয়োজনে লেখককে নিয়োজিত হতে হয় গবেষণায়। এই সবকিছু উতরে একটি কালজয়ী ইতিহাসভিত্তিক বা ঐতিহাসিক উপন্যাস সাহিত্যের বিচারে ধোপে টেকে বা বিখ্যাত হয়ে ওঠে। পুরো বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে ভাবলে, লেখকের জন্য এ মোটেও সহজ কাজ নয়! কাজটি সহজ নয় বলেই প্রচুর ইতিহাসভিত্তিক বা ঐতিহাসিক উপন্যাস সাহিত্যকে যেমন ভারাক্রান্ত করে, আবার ইতিহাস-অনুসন্ধানী পাঠককেও বিভ্রান্ত করে।

পৃথিবীতে প্রায় সবকিছুর যেমন ‘প্রচলন’ বা ‘চলতি ফ্যাশন’ বলে একটি বিষয় থাকে, ফিকশনেরও থাকে। ভাষার প্রবণতা শব্দের বা বাক্যের প্রচলিত ব্যবহার থেকে আসতে পারে, বিষয় আসতে পারে তুমুল আলোচিত বা প্রতীক্ষিত কোনো রহস্যভেদের তাড়না থেকে। এই প্রচলন যৌক্তিকভাবেই কালের সঙ্গে ওঠানামা করে। তেমনি ইতিহাসভিত্তিক উপন্যাসের রচনা, পাঠ ও বিপণন কালের সঙ্গে বাড়ে-কমে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে তা যেমন অল্পস্বল্প প্রচলিত ছিল, যুদ্ধের পরপর তার জনপ্রিয়তা অনেক বাড়ে। তেমনই, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে একদিকে যেমন ইউরোপে ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখা হয়, হয় আমাদের অঞ্চলেও। মূলত বড় ধরনের ঐতিহাসিক পটপরিবর্তনের পরে ঐতিহাসিক উপন্যাস বেশি রচিত হওয়া স্বাভাবিক। তবে বিক্রির কথা বলতে গেলে, সব কালে সব স্থানে ঐতিহাসিক উপন্যাসের বিশেষ চাহিদা আছে। যদিও এর পেছনে বিচিত্র কারণ থাকতে পারে, তবে চাহিদার বৃদ্ধি নিঃসন্দেহে লেখক-প্রকাশককে উৎসাহিত করে। লক্ষ করলে দেখা যায়, গত দুই দশকে ঐতিহাসিক উপন্যাস রচনা ও বিপণন পৃথিবীজুড়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। কেবল দেশের কথা ভাবলেও বলা যায়, কথাসাহিত্যিক ও প্রকাশক সহযোগে এখন কেবল নিকট অতীত নয়, সুদূর অতীত, এমনকি হাজার হাজার বছর আগের ইতিহাসও উপন্যাসের বিষয়বস্তু হয়ে উঠছে। অন্যদিকে সমাধান হওয়া ঐতিহাসিক দ্বন্দ্ব কিংবা একই ঐতিহাসিক চরিত্রকে কেন্দ্র করে লিখিত হচ্ছে একাধিক উপন্যাস। সাহিত্য যেন ইতিহাসকে আশ্রয় করে বেয়ে না উঠে কেবল ইতিহাসকে ধারণের আধার হয়ে উঠছে। পূর্ব-পশ্চিম বা চিলেকোঠার সেপাই ইতিহাসের আশ্রয়ে মানুষেরই জীবনের টানাপোড়েন; আবেগ-আদিখ্যেতাহীন ইতিহাস নয় কেবল। অথচ কালক্রমে লক্ষ করা যায়, মানুষের জীবনের ছায়া আঁকার চেয়ে ইতিহাসবিদের আদলে কালের বর্ণনাই যেন উপন্যাসকে পেয়ে বসেছে।

এর নেপথ্যের কারণ তথা প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ভাবা যেতে পারে।

সাধারণত মানুষের মানসিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক টানাপোড়েনকে কেন্দ্র করে যে অঞ্চলে সিংহভাগ উপন্যাস লিখিত হয়েছে, প্রথমত, সেখানে সাধারণভাবে ঐতিহাসিক উপন্যাসের জনপ্রিয়তা লেখককে লেখার বিষয়বস্তু নির্বাচনে নতুন করে ভাবায়। দ্বিতীয়ত, পাঠকের রুচি বা শিক্ষাদীক্ষার পরিবর্তনকেও আমলে না নিলে চলে না। একসময় হয়তো কেবল জীবনঘনিষ্ঠ চরিত্রের উপস্থিতি আর চেনাজানা যাপনের প্রতিফলন দেখতে পেলেই পাঠক তরতর করে পড়ে যেত, এখন সে জানতে চায় চরিত্রগুলোর অবস্থান কোথায়, কোন ঐতিহাসিক বা রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মাধ্যমে তারা বিকশিত হচ্ছে। তৃতীয়ত, প্রযুক্তির ব্যাপক উপস্থিতি ও পাঠকের প্রবণতাস্বরূপ পৃথিবীব্যাপী ফিকশনের চেয়ে নন-ফিকশনের পাঠক বৃদ্ধি হওয়ার কারণে যে বই ফিকশন ও নন-ফিকশনের সীমানায় অবস্থান করে তা সিংহভাগ পাঠক বেছে নেবে সন্দেহ নেই। চতুর্থত, উপন্যাসের নিত্যনতুন বিষয়বস্তু নির্বাচনে লেখকের সীমাবদ্ধতাও তাকে সমাধানকৃত ঐতিহাসিক পটভূমি বেছে নিতে বাধ্য করতে পারে। সর্বোপরি, যে বই বেশি আয় করে, তা সৃষ্টির পেছনে আয়ের উদ্দেশ্য ছাড়া বিবিধ কারণ না থাকলেও চলে।

অন্তরালের কারণ যা–ই হোক, উপন্যাসের ওপরে সাধারণভাবে ইতিহাসের যে উটকো ভূত সওয়ার হয়েছে, তার দিকে দৃষ্টিপাত করে বলা যায়, ধারাবাহিক ইতিহাসের বর্ণনা ঐতিহাসিক উপন্যাসের উদ্দেশ্য নয়। অতীতের ইতিহাস আজকের সমাজের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্কিত, আজকের সমাজকে অতীতের ছায়া ফেলে তা কতটুকু বদলে দিতে পারে, এই ইঙ্গিত যদি রচনায় না থাকে, তবে উপন্যাস হিসেবে রচনাটি ব্যর্থ হতে পারে। এ কারণে লেখক অনেক সময় ঐতিহাসিক উপন্যাসে একাধিক সময়কালের কাহিনি পটভূমি হিসেবে বেছে নেন, যাতে একাধিক কাহিনি সমান্তরালে চলতে পারে। এ রকম সফল উপন্যাস অতীতে তো বটেই বর্তমানকালেও লিখিত হয়েছে।

তবে হাল আমলে একই ঐতিহাসিক চরিত্র নিয়েও একাধিক লেখকের মনোযোগী হওয়ার বিষয়টিও লক্ষণীয়। লেখক সাধারণত তা-ই লেখেন যা তিনি নিজের জীবনে উপলব্ধি করেন। হতে পারে সে অভিজ্ঞতা নিজের সৃষ্ট নতুন চরিত্রের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত করার চেয়ে পাঠকপ্রিয় ঐতিহাসিক চরিত্রের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত করা সহজ; বিশেষ করে যে ঐতিহাসিক চরিত্র ইতিমধ্যে পাঠক মহলে জনপ্রিয় বলে প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু মানুষ যেহেতু একটাই জীবনযাপন করে, তাই একই রাজনৈতিক বা কাব্যিকভাবে জনপ্রিয় চরিত্রকে উপজীব্য করে একাধিক উপন্যাস রচনার সাহিত্যিক প্রয়োজনীয়তা ঠিক কতটা আছে, তা ভেবে দেখা যেতে পারে।

সাহিত্য তো তা-ই উদ্​ঘাটন করে, যা সাধারণ মানুষের সাদা চোখে ধরা পড়ে না। একই ঘটনা সাধারণ মানুষের দৃষ্টিতে এক রকম, তবে সাহিত্যিকের দৃষ্টিতে তা অনন্যসাধারণ হয়ে উঠতে পারে। তাই নতুন কিছু উপস্থাপন ছাড়া কেবল ধারাবাহিকভাবে ইতিহাসের বর্ণনা সৃষ্টিশীল সাহিত্যের কাজ নয়। এতে কেবল সাহিত্যের শরীর ভারী হয়, বুদ্ধি খোলে না। অন্যদিকে, লেখকের মূল্যবান সময় ইতিহাসের নথির পাতায় চলে যায়। অথচ নিজের কালের জটিল দৈনন্দিনতা থেকে শুরু করে এখনকার বাস্তবতা পরবর্তীকালের পাঠকের কাছে তুলে ধরার দায় থাকে তার। ঢাউস আকৃতির শত বছরের পুরোনো ইতিহাসের আশ্রয়ে বই উপহার দিয়ে নিজের সে দায় লেখক কিছুতেই পাশ কাটাতে পারেন না। অন্যদিকে, লেখক ইতিহাস আশ্রয়ী উপন্যাসে ইতিহাসের ও মানুষের সাধারণ জীবনের হস্তক্ষেপ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে একদিন সাহিত্যের সব উপন্যাস হয়ে উঠবে একেকটি ইতিহাস গ্রন্থ।

কেন জনপ্রিয় হচ্ছে ইতিহাস–আশ্রয়ী উপন্যাস

● এ ধারার উপন্যাসের চাহিদা ও বিক্রি লেখক-প্রকাশককে উৎসাহিত করছে।

● পৃথিবীব্যাপী ফিকশনের চেয়ে নন-ফিকশনের পাঠক বৃদ্ধি পাচ্ছে। যে বই ফিকশন ও নন-ফিকশনের সীমানায় অবস্থান করে, তার প্রতি পাঠকের আগ্রহ এখন সীমাহীন।

● নিত্যনতুন বিষয়বস্তু নির্বাচনে লেখকের সীমাবদ্ধতার ফলেও বেশি মাত্রায় রচিত হচ্ছে ঐতিহাসিক উপন্যাস।