সিঙ্গাপুরের মালয়ালি সম্প্রদায় নিয়ে ছোটগল্পের বই

আনিথা দেবী পিল্লাইয়ের ছবি অবলম্বনেগ্রাফিকস: প্রথম আলো
প্রথম আলোকে নির্ভরযোগ্য সূত্র হিসেবে পেতে হলেএখানে ক্লিক করুন

সিঙ্গাপুরের মালয়ালি সম্প্রদায়ের জীবন, সংস্কৃতি, সম্পর্ক ও স্মৃতি নিয়ে প্রথম ছোটগল্পের বই প্রকাশ করেছেন লেখক আনিথা দেবী পিল্লাই। ‘হোয়াট দ্য টাং রিমেম্বার্স’ নামের বইটিতে ১১টি গল্পের পাশাপাশি রয়েছে মালয়ালি খাবারের নানা রেসিপি। খাবার কীভাবে মানুষের সম্পর্ক ও সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকে, তা-ই উঠে এসেছে গল্পগুলোতে।

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালায় মালয়ালিদের শিকড়। সিঙ্গাপুরের ভারতীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে তারা দ্বিতীয় বৃহত্তম উপগোষ্ঠী। সিঙ্গাপুরের চতুর্থ প্রজন্মের মালয়ালি পিল্লাই মনে করেন, এই সম্প্রদায়কে নিয়ে ইংরেজিতে কথাসাহিত্যের বইয়ের অভাব আছে।

বইয়ের গল্পগুলোতে ইতিহাসনির্ভর কাহিনি থেকে শুরু করে কল্পনাশ্রয়ী রচনাসহ বিভিন্ন ধরনের গল্প স্থান পেয়েছে। কোথাও দূরে থাকা স্বামীর জন্য স্ত্রীর রান্না, কোথাও শিক্ষককে কলার পিঠা উপহার দেওয়ার ঘটনা। আবার কেরালার প্রকৃত খাবার কেমন হওয়া উচিত, তা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মতবিরোধও আছে।

প্রায় দুই দশক ধরে সিঙ্গাপুরের মালয়ালি সম্প্রদায় নিয়ে গবেষণা করেছেন পিল্লাই। গবেষণার কাজে সাক্ষাৎকার নিতে গিয়ে প্রায় প্রতিবারই তাঁকে খাবার পরিবেশন করা হয়েছে। তাঁর উপলব্ধি, খাবার কেবল ক্ষুধা মেটায় না, মানুষের মধ্যে ভালোবাসা ও সম্পর্কও তৈরি করে। এ কারণেই গল্প লিখতে গিয়ে খাবার বারবার ফিরে এসেছে। ২০১৭ সালে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর গবেষণাগ্রন্থ ‘ফ্রম কেরালা টু সিঙ্গাপুর: ভয়েসেস ফ্রম দ্য সিঙ্গাপুর মালয়ালি কমিউনিটি’।

প্রায় দুই দশক ধরে সিঙ্গাপুরের মালয়ালি সম্প্রদায় নিয়ে গবেষণা করেছেন পিল্লাই। গবেষণার কাজে সাক্ষাৎকার নিতে গিয়ে প্রায় প্রতিবারই তাঁকে খাবার পরিবেশন করা হয়েছে। তাঁর উপলব্ধি, খাবার কেবল ক্ষুধা মেটায় না, মানুষের মধ্যে ভালোবাসা ও সম্পর্কও তৈরি করে। এ কারণেই গল্প লিখতে গিয়ে খাবার বারবার ফিরে এসেছে। ২০১৭ সালে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর গবেষণাগ্রন্থ ‘ফ্রম কেরালা টু সিঙ্গাপুর: ভয়েসেস ফ্রম দ্য সিঙ্গাপুর মালয়ালি কমিউনিটি’।

বইয়ের শেষে থাকা রেসিপিগুলোর সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট খাবার নিয়ে মানুষের ব্যক্তিগত স্মৃতি। ছোলার তরকারি, আমের দইয়ের তরকারি থেকে শুরু করে গুড় ও ঘি দিয়ে তৈরি কেরালার মিষ্টান্নও আছে সেখানে। ওই সম্প্রদায়ের সদস্য, গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে রেসিপিগুলো সংগ্রহ করেছেন লেখক।

বাস্তব জীবনের ঘটনাও গল্পের অনুপ্রেরণা হয়েছে। ‘অ্যান আনইউজুয়াল অ্যারেঞ্জমেন্ট’ গল্পটি লেখকের পিতামহীর জীবন থেকে অনুপ্রাণিত। যুদ্ধের আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও স্বামীর সঙ্গে থাকতে তিনি সিঙ্গাপুরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। গল্পে দাদা-দাদির প্রকৃত নাম ব্যবহার করলেও ঘটনার বিবরণ কাল্পনিক রেখেছেন পিল্লাই।

লেখকের মতে, কথাসাহিত্য তাঁর কাছে ‘খেলার মাঠের মতো’। তিনি গল্পে এমন কিছু ইঙ্গিত রাখতে ভালোবাসেন, যা পাঠক প্রথমবার পড়ার সময় হয়তো খেয়াল করবেন না। তাঁর বিশ্বাস, জীবনের সব প্রশ্নের উত্তর মেলে না, তাই গল্পেও সবকিছুর ব্যাখ্যা থাকা জরুরি নয়।

পিল্লাই আশা করেন, বইটি সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন সংখ্যালঘু ও অভিবাসী সম্প্রদায় নিয়ে আলোচনা বাড়াবে। তাঁর ভাষায়, অভিবাসীরা একই সঙ্গে অনেক জায়গার মানুষ, আবার কোথাও পুরোপুরি নিজের নয়। এই মাঝামাঝি অবস্থানই তাঁদের জীবনের বিশেষ বাস্তবতা।

সূত্র: দ্য স্ট্রেইটস টাইমস

লেখা: গ্রন্থনা: রবিউল কমল