বাংলার নারীদের শৃঙ্খল ভাঙার ইতিহাস

গ্রাফিকস: প্রথম আলো

মানবসভ্যতার ঊষালগ্ন থেকে আজ অবধি সমাজ বিকাশের প্রতিটি স্তরে নারীর অবদান অনস্বীকার্য। সভ্যতার রথচক্রকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষ সমান শ্রম ও মেধা ব্যয় করেছেন। কালক্রমে সম্পত্তির ওপর ব্যক্তিমালিকানার উদ্ভব এবং পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার বিস্তারের কারণে নারী তাঁর ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে থাকেন। অবদমন, বঞ্চনা ও শোষণের এক দীর্ঘ অমানিশায় নিপতিত হয় নারীসমাজ। এই শৃঙ্খল থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষায় যুগে যুগে নারীরা লড়াই করেছেন, প্রতিবাদ জানিয়েছেন ও সংগঠিত হয়েছেন। বাংলাদেশের প্রথিতযশা নারীনেত্রী, লেখক ও গবেষক মালেকা বেগম রচিত বাংলার নারী আন্দোলন গ্রন্থটি এই নিরন্তর সংগ্রামের এক প্রামাণ্য ঐতিহাসিক দলিল।

মালেকা বেগম দীর্ঘকাল বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সঙ্গে যুক্ত থেকে তৃণমূল পর্যায়ে নারী অধিকার আদায়ের সংগ্রামে সরাসরি নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর এই প্রত্যক্ষ মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা এবং গভীর তাত্ত্বিক জ্ঞান গ্রন্থটিকে ইতিহাস পাঠের পাশাপাশি সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণেরও এক অনন্য উচ্চতায় দাঁড় করিয়েছে। গ্রন্থটিতে প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে শুরু করে ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতাসংগ্রাম, কৃষক আন্দোলন এবং স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশ পর্যন্ত নারী জাগরণের এক ধারাবাহিক চিত্র নিখুঁতভাবে অঙ্কিত হয়েছে।

বইয়ের একেবারে শুরুতে লেখিকা সমাজ বিবর্তনের ধারায় নারীর অবস্থান পরিবর্তনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করেছেন। প্রাচীন ভারতবর্ষে, বিশেষত দ্রাবিড় সমাজে মাতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রচলন ছিল। সেই সমাজে নারীর প্রাধান্য ও স্বাধীনতা ছিল প্রশ্নাতীত। নারীরা স্বাধীনভাবে জীবনসঙ্গী নির্বাচন করতে পারতেন। বংশপরিচয় নির্ধারিত হতো মায়ের দিক থেকে। উৎপাদনব্যবস্থায়, বিশেষত কৃষি ও পশুপালনে নারীর সরাসরি অংশগ্রহণের কারণে সমাজে তাঁদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বজায় ছিল।

বাংলার নারী আন্দোলন
মালেকা বেগম

প্রকাশনা: দ্য ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল)
প্রকাশ: ২০১০ (পুনর্মুদ্রণ/প্রথম প্রকাশ: ১৯৮৯)
পৃষ্ঠা: ২০৪
মূল্য: ২৩০ টাকা

আর্যদের আগমনের পর সমাজকাঠামোয় ব্যাপক পরিবর্তন আসা শুরু করে। গোত্রভিত্তিক সমাজ ভেঙে যখন ব্যক্তিগত সম্পত্তির ধারণা প্রবল হয়ে ওঠে, তখনই নারীর সামাজিক মর্যাদায় ধস নামে। জমির মালিকানা ও উত্তরাধিকার নিশ্চিত করার তাগিদে পিতৃতান্ত্রিক সমাজ নিজ সন্তানের রক্তের বিশুদ্ধতা রক্ষার নামে নারীকে গৃহের চারদেয়ালে বন্দী করার প্রক্রিয়া শুরু করে। এই অর্থনৈতিক ও সামাজিক পালাবদলের ফলেই নারী পরিণত হন পুরুষের সম্পত্তিতে।

প্রাচীন ভারতের সাহিত্য ও বেদে গার্গী, মৈত্রেয়ী প্রমুখ বিদুষী নারীর উল্লেখ পাওয়া গেলেও সাধারণ নারীর জীবন ক্রমশই সংকুচিত হতে থাকে। পরবর্তীকালে রাজপুতদের জহরব্রত, বঙ্গদেশে সতীদাহ প্রথা ও কুলীন প্রথার মতো অমানবিক প্রথাগুলো নারীর জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে। কুলীন প্রথার কারণে শত শত কন্যাশিশু বাল্যকালেই কার্যত পিতৃহীন বা স্বামীহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হতো। গ্রন্থকারের মতে, ধর্মের দোহাই দিয়ে এবং সতীত্বের মিথ্যা মহিমা প্রচার করে সমাজপতিরা সুকৌশলে নারীসমাজকে এক অন্ধকারের কূপে নিক্ষেপ করেছিল।

উনিশ শতকে বাংলায় সংঘটিত রেনেসাঁ বা নবজাগরণ বাংলার সমাজজীবনে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে আসে। রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখ মনীষীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সমাজসংস্কারের এক নতুন যুগের সূচনা হয়। সতীদাহ প্রথা রদ এবং বিধবা বিবাহ আইন পাসের মাধ্যমে নারীর প্রতি চরম অমানবিকতার আইনি অবসান ঘটে।

মালেকা বেগম অত্যন্ত বস্তুনিষ্ঠভাবে দেখিয়েছেন, আইনি সংস্কারই নারীমুক্তির জন্য যথেষ্ট নয়, এর জন্য প্রয়োজন মানসিকতার পরিবর্তন ও শিক্ষার প্রসার। এই ক্ষেত্রে শ্রীরামপুরের খ্রিষ্টান মিশনারিদের অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণযোগ্য। ১৮১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘দ্য ফিমেল জুভেনাইল সোসাইটি’ এবং পরবর্তী সময় মেরি অ্যান কুকের নিরলস প্রচেষ্টায় মেয়েদের জন্য স্কুল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নারীশিক্ষার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে। শুরুতে কেবল দরিদ্র ও নিম্নবর্ণের মেয়েরাই এসব স্কুলে আসত। সমাজের উচ্চবিত্ত ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়েরা পর্দা প্রথা এবং ধর্মান্তরিত হওয়ার ভয়ে শিক্ষা থেকে বঞ্চিতই থেকে যায়।

এই অচলায়তন ভাঙতে এগিয়ে আসেন জন এলিয়ট ড্রিঙ্কওয়াটার বেথুন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত বেথুন বালিকা বিদ্যালয় হিন্দু সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়েদের শিক্ষার দ্বার উন্মোচন করে। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, মদনমোহন তর্কালঙ্কার প্রমুখ বিদ্যানুরাগী নিজেদের কন্যাদের এই স্কুলে পাঠিয়ে সমাজে এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। পরবর্তী সময় বেথুন কলেজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নারীদের উচ্চশিক্ষার পথ প্রশস্ত হয় এবং কাদম্বিনী বসু ও চন্দ্রমুখী বসুর মতো নারীরা স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করে ইতিহাস সৃষ্টি করেন। ব্রাহ্মসমাজের উদ্যোগ, বিশেষ করে ‘বামাবোধিনী’ পত্রিকার প্রকাশনা নারীদের নিজেদের কথা বলার ও সাহিত্যচর্চার এক অনন্য প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দেয়।

মুসলিম নারী জাগরণ

উনিশ শতকের রেনেসাঁর হাওয়া হিন্দু সমাজে পরিবর্তনের সূচনা করলেও, বাংলার মুসলিম নারীসমাজ তখনো অবরোধ প্রথা এবং ধর্মীয় গোঁড়ামির নিগড়ে বন্দী ছিল। ব্রিটিশ শাসনামলে মুসলিম পারিবারিক আইনে কোনো হাত দেওয়া হয়নি। ফলে বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ এবং যথেচ্ছ তালাক প্রথার শিকার হয়ে মুসলিম নারীদের জীবন চরম দুর্দশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে।

এই চরম প্রতিকূল পরিবেশের মাঝেও নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী, করিমুন্নেসা খানম প্রমুখ মহীয়সী নারীশিক্ষার আলো জ্বালানোর চেষ্টা করেন। তবে মুসলিম নারী জাগরণের প্রকৃত অগ্রদূত হিসেবে আবির্ভূত হন বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। রোকেয়া কেবল অবরোধ প্রথার তীব্র সমালোচনাই করেননি; তিনি অনুধাবন করেছিলেন, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছাড়া নারীর প্রকৃত মুক্তি অসম্ভব। মালেকা বেগম তাঁর বইয়ে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন, রোকেয়ার আন্দোলন কেবল শিক্ষার অধিকার আদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, ছিল এক পূর্ণাঙ্গ সামাজিক মুক্তির ইশতেহারও।

বিশ শতকের শুরুতে ‘ঢাকা মুসলমান সুহৃদ সম্মিলনী’এবং ‘বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলমান শিক্ষা সমিতি’র মতো সংগঠনগুলো মুসলিম সমাজে নারীশিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ সময়কার বিভিন্ন পত্রপত্রিকা, যেমন সওগাত, মাসিক মোহাম্মদী, নবনূর—নারী প্রগতির সপক্ষে জনমত গঠনে জোরালো ভূমিকা রাখে। কাজী নজরুল ইসলাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মতো সাহিত্যিকদের লেখনী নারীসমাজকে নতুন আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান করে তোলে।

বিশ শতকের প্রথমার্ধে বঙ্গভঙ্গ রদ, স্বদেশী আন্দোলন এবং পরবর্তী সময় ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র বিপ্লবে নারীদের অংশগ্রহণ ছিল অভাবনীয়। ১৯০৫ সালের ইলবার্ট বিলবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ ও আইন অমান্য আন্দোলনে হাজার হাজার নারী ঘরের আরাম ত্যাগ করে রাজপথে নেমে আসেন। বিলাতি দ্রব্য বর্জন, চরকায় সুতা কাটা এবং সভা-সমাবেশে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নারীরা প্রমাণ করে দেন, দেশের মুক্তি ছাড়া নারীর মুক্তি অসম্ভব।

সশস্ত্র বিপ্লবে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, কল্পনা দত্ত, বীণা দাস, শান্তি ঘোষ ও সুনীতি চৌধুরীর মতো অকুতোভয় নারীদের আত্মত্যাগ এই গ্রন্থে অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে স্থান পেয়েছে। মাস্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন এবং ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণে প্রীতিলতার বীরত্বপূর্ণ আত্মাহুতি বাংলার নারীদের সামনে এক নতুন আদর্শ স্থাপন করে। এই পর্যায়ে এসে প্রমাণিত হয়, নারীরা অবলা বা শুধু সাহায্যকারী নন; বরং তাঁরাও সম্মুখসমরে নেতৃত্ব দিতে সমান পারদর্শী। কংগ্রেস এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলে নারীদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টিও প্রথম দিকে বাধাপ্রাপ্ত হয়। দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো প্রগতিশীল নেতাদের নিরলস প্রচেষ্টায় অবশেষে রাজনৈতিক মঞ্চে নারীদের সমান অধিকার স্বীকৃত হয়।

কৃষক আন্দোলনে গ্রামীণ নারী

এই বইয়ের সবচেয়ে শক্তিশালী ও ব্যতিক্রমী অধ্যায় হলো কৃষক আন্দোলনে গ্রামীণ নারীদের ভূমিকার বিশ্লেষণ। সাধারণত ইতিহাস বইগুলোয় মধ্যবিত্ত ও শহুরে শিক্ষিত নারীদের কথাই বেশি প্রাধান্য পায়। এখানে প্রান্তিক, উপজাতি ও শ্রমজীবী নারীদের বীরত্বগাথা সবিস্তারে তুলে ধরা হয়েছে।

ব্রিটিশ শাসনামলে জমিদার, জোতদার ও মহাজনদের দ্বারা কৃষকেরা চরমভাবে শোষিত হতো। এই শোষণের সবচেয়ে বড় শিকার ছিলেন কৃষক পরিবারের নারীরা। অভাবের তাড়নায় মহাজনের কাছে বিক্রি হওয়া, জমিদারের লাঠিয়ালদের দ্বারা ধর্ষিত হওয়া এবং বিনা পারিশ্রমিকে বেগার খাটা ছিল তাঁদের দৈনন্দিন জীবনের নিয়তি। এর পাশাপাশি পরিবারে স্বামীর হাতেও তাঁরা নির্যাতিত হতেন।

এই দ্বিমুখী শোষণের বিরুদ্ধে তেভাগা, টংক ও নানকার আন্দোলনে গ্রামীণ নারীরা অভাবনীয় প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ময়মনসিংহের সুসং দুর্গাপুরে টংকপ্রথা–বিরোধী আন্দোলনে হাজং নারীদের ভূমিকা ছিল অবিস্মরণীয়। পুলিশের হাত থেকে কৃষক কর্মীদের বাঁচাতে রাসমণির মতো নারীরা দা হাতে ঝাঁপিয়ে পড়ে জীবন উৎসর্গ করেন। সিলেটের নানকার প্রথাবিরোধী আন্দোলনে জমিদারের অত্যাচারের প্রতিবাদে নারীরা দিনের বেলায় হারিকেন জ্বালিয়ে মিছিল করে এক অনন্য প্রতিবাদের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

ইলা মিত্রের মতো নেত্রীদের নেতৃত্বে তেভাগা আন্দোলনে নারীদের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে শ্রেণিসংগ্রাম ও নারীমুক্তি একে অপরের পরিপূরক। মহিলা আত্মরক্ষা সমিতির মতো সংগঠনগুলো এই প্রান্তিক নারীদের সংগঠিত করতে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। দুর্ভিক্ষ ও মহামারির সময় এই গ্রামীণ নারীরাই লঙ্গরখানা পরিচালনা এবং ত্রাণ বিতরণের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে সমাজের রক্ষাকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হন।

ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে আইয়ুব খানের সামরিক শাসনবিরোধী গণ–অভ্যুত্থান পর্যন্ত প্রতিটি রাজনৈতিক পদক্ষেপে নারীদের সক্রিয় উপস্থিতি ছিল। বায়ান্নর একুশে ফেব্রুয়ারিতে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে প্রথম রাজপথে বেরিয়ে আসা মিছিলটিতে ছাত্রীদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। জেল-জুলুম উপেক্ষা করে রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি দাবি এবং গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে নারীরা সামনের সারিতে অবস্থান করেন। সুফিয়া কামালের মতো প্রজ্ঞাবান নেত্রীদের নেতৃত্বে এ দেশের নারী আন্দোলন একটি সুস্পষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে।

পাকিস্তান আমলে পারিবারিক আইনের সংস্কার এবং বৈষম্যমূলক নীতির বিরুদ্ধে নারী সংগঠনগুলো তীব্র প্রতিবাদ গড়ে তোলে। সামাজিক কুসংস্কার, যৌতুক প্রথা এবং নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ এই সময়েই বেগবান হয়। মালেকা বেগম অত্যন্ত নিখুঁতভাবে দেখিয়েছেন, পাকিস্তান আমলের এই রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনগুলোই মূলত ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের একটি শক্ত ভিত রচনা করে দিয়েছিল।

বইটির ভাষার ব্যবহার অত্যন্ত প্রাঞ্জল, তীক্ষ্ণ ও পরিমিত। প্রাচীনকালের বেদ-মহাভারত থেকে শুরু করে ব্রিটিশ আমলের গেজেট, ব্যক্তিগত স্মৃতিকথা এবং মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার এক চমৎকার সংশ্লেষণ ঘটেছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে নারী অধিকার, কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য, পারিবারিক সহিংসতা এবং ধর্মান্ধতার উত্থান নিয়ে যে তর্ক-বিতর্ক চলমান, তার একটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বুঝতে এই বইটি পাঠ্য। আজকের দিনের নারী সংগঠনগুলো নারী অধিকার আদায়ের যে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে, তার শিকড় যে কত গভীরে প্রোথিত, এই বই পাঠে পাঠকমাত্র তা নিবিড়ভাবে অনুধাবন করতে পারবেন। যুগে যুগে বাংলার নারীরা নিজেদের অধিকার রক্ষায় এবং দেশমাতৃকার শৃঙ্খল মোচনে যে অপরিসীম আত্মত্যাগ করেছেন, এই গ্রন্থ তারই এক মূল্যবান স্মারক।