কূটনীতির অন্দরমহলে নির্মোহ দৃষ্টি

মাহমুদ হাসান ও তাঁর বই ‘সেরেনডিপিটি ইন ডিপ্লোমেসি: বিটুইন প্রটোকল অ্যান্ড পলিটিকস: আ মেমোয়ার’–এর প্রচ্ছদ অবলম্বনে গ্রাফিকস: প্রথম আলো

বাংলাদেশের কূটনীতি–সাহিত্যে একটি লক্ষণীয় সংযোজন ঘটল ইউপিএল প্রকাশিত অবসরপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত মাহমুদ হাসানের স্মৃতিকথা সেরেনডিপিটি ডিপ্লোমেসি: বিটুইন প্রটোকল অ্যান্ড পলিটিকস: আ মেমোয়ার–এর মাধ্যমে। আমলাদের আত্মজীবনীতে আত্মপক্ষ সমর্থন, সতর্ক শব্দচয়ন বা ক্ষমতাকেন্দ্রকে অস্বস্তিতে না ফেলার প্রবণতা দেখা যায়। মাহমুদ হাসান এর বাইরে গিয়ে অভিজ্ঞতাকে নির্মোহ ও বিশ্লেষণী দৃষ্টিতে দেখেছেন। বাংলাদেশের অন্য কূটনীতিকদের স্মৃতিকথার সঙ্গে তুলনা করলে প্রথমেই ধরা পড়ে তাঁর বর্ণনার সাহস ও স্বাতন্ত্র্য। কামরুদ্দীন আহমদের স্মৃতিকথায় ইতিহাসের ধ্রুপদি পরিসর ও রাজনৈতিক আদর্শের প্রতি আনুগত্য প্রধান; কে এম শিহাবুদ্দীনের বিবরণে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগ করে বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা জাতীয়তাবাদী আবেগে দীপ্ত; মাহমুদ হাসান সেখানে ক্ষমতার অন্দরমহলের জটিল বাস্তবতাকে দেখেছেন বেশ সংযত অথচ স্পষ্ট ভাষায়। হেমায়েত উদ্দিনের ডিপ্লোমেসি ইন অবসকিউরিটি যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতাকে মার্জিত ও প্রটোকলনির্ভর ভাষায় আড়াল করে, সেখানে মাহমুদ হাসান ব্যক্তির নাম, সিদ্ধান্তের পটভূমি ও রাজনৈতিক মনস্তত্ত্ব সরাসরি আলোচনায় এনেছেন। এই স্বরটিই তাঁকে বাংলাদেশের কূটনৈতিক স্মৃতিকথার পরিসরে আলাদা করে রাখবে।

গ্রন্থটির তাৎপর্য বিশেষভাবে স্পষ্ট হয় ১৯৮৩ সালে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত সপ্তম জোটনিরপেক্ষ শীর্ষ সম্মেলনের বিবরণে। তৎকালীন সামরিক শাসক জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিস্তৃত অথচ অনেকাংশে অকার্যকর প্রতিনিধিদলে সর্বকনিষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে হাসানের উপস্থিতি যেমন বিস্ময়ের, তেমনি তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব থেকে বোঝা যায়—দুর্বল রাষ্ট্রও কখনো কখনো দক্ষ কর্মকর্তার বিচক্ষণতার ওপর নির্ভর করে কূটনৈতিক পরিসরে নিজের স্থান তৈরি করে। লেখক ফিদেল কাস্ত্রো ও ইন্দিরা গান্ধীর বহুল আলোচিত আলিঙ্গনের মতো দৃশ্যমান ঘটনার পাশাপাশি জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের অন্তর্গত আদর্শিক ফাটলও সূক্ষ্মভাবে তুলে ধরেছেন; বিশেষত কাম্পুচিয়া–সংকটকে ঘিরে সিঙ্গাপুর ও কিউবার মধ্যকার প্রক্সি বাগ্‌যুদ্ধ তাঁর বিবরণে দ্বিমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার একটি তাৎপর্যপূর্ণ দলিল হয়ে উঠেছে। এর চেয়েও গভীর ভূরাজনৈতিক মনস্তত্ত্ব প্রকাশ পেয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রেগানের একটি দ্বিপক্ষীয় চিঠিকে অবলম্বন করে এরশাদ সরকারের ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী পি ভি নরসীমা রাওয়ের সঙ্গে বৈঠক আদায়ের কৌশলে। ঘটনাটি বাংলাদেশের সে সময়কার বৈদেশিক সম্পর্কের বাস্তববাদী চরিত্র স্পষ্ট করে।

মাহমুদ হাসান
ছবি: লেখকের সৌজন্যে
সু চি আন্তর্জাতিক রাজনীতির পূর্ণ আলোয় আসার আগেই তৎকালীন রাষ্ট্রদূত এনায়েতুল্লাহ খান ও মাহমুদ হাসানের উদ্যোগে তাঁকে বাংলাদেশ দূতাবাসে মধ্যাহ্নভোজে আমন্ত্রণ জানানোর ঘটনাটি ছিল দূরদর্শী কূটনীতির এক উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত। একই সঙ্গে লেখক বার্মিজ সমাজ ও সামরিক জান্তার মধ্যে প্রোথিত জাতিগত বর্ণবাদ এবং রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত কাঠামোগত নিপীড়নের লক্ষণ তখনই শনাক্ত করেছিলেন; পরবর্তী দশকের ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় সেই পর্যবেক্ষণকেই মর্মান্তিকভাবে সত্য প্রমাণ করে।

কাবুলে চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স হিসেবে লেখকের দায়িত্ব পালন একদিকে সংঘাতকবলিত অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক পাঠ, অন্যদিকে ব্যক্তিগত সাহস ও স্থৈর্যের কঠিন পরীক্ষা। সোভিয়েত অধিকৃত আফগানিস্তানে নজিবুল্লাহ সরকারকে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না দেওয়ায় মিশনপ্রধান হিসেবে লেখককে যে কৌশলগত নিঃসঙ্গতা ও নিরাপত্তা-ঝুঁকির মধ্যে কাজ করতে হয়েছিল, তিনি তা অতিক্রম করেন একটি কার্যকর ‘এশিয়ান গ্রুপ’ গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে। কাবুলের বিপজ্জনক বাস্তবতা—স্টিঙ্গার মিসাইল ঠেকাতে সোভিয়েত গানশিপের অগ্নিশিখা কিংবা লেখকের বাসভবনের দোরগোড়ায় আরপিজি ও মেশিনগানের লড়াই—তাঁর বর্ণনায় স্নায়ুযুদ্ধের নির্মমতা মূর্ত করে। তবে এই অধ্যায়ের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক ‘আফগানিস্তান-সার্ক ফিয়াস্কো’। তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর অদূরদর্শী ও চাপিয়ে দেওয়া নীতির ফলে লেখককে আফগানিস্তানকে সার্কে আমন্ত্রণ জানানোর দায় বহন করতে হয়। নীতিনির্ধারণের ভুলের দায় যেভাবে একজন তরুণ কর্মকর্তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়, তা বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতি প্রণয়ন-প্রক্রিয়ার প্রাতিষ্ঠানিক ভঙ্গুরতাই উন্মোচিত করে।

বার্মার রেঙ্গুনে লেখকের পরবর্তী কার্যকাল আপাতদৃষ্টিতে শান্ত, কিন্তু অন্তর্গতভাবে জাতিগত ও রাজনৈতিক বিভাজনে ক্ষতবিক্ষত এক সমাজের অনুপুঙ্খ পাঠ। জেনারেল নে উইনের ব্যর্থ ‘বার্মিজ ওয়ে টু সোশ্যালিজম’-এর পতনপর্বে ১৯৮৮ সালের ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থান এবং অং সান সু চির উত্থানকে মাহমুদ হাসান কাছ থেকে দেখেছেন। সু চি আন্তর্জাতিক রাজনীতির পূর্ণ আলোয় আসার আগেই তৎকালীন রাষ্ট্রদূত এনায়েতুল্লাহ খান ও মাহমুদ হাসানের উদ্যোগে তাঁকে বাংলাদেশ দূতাবাসে মধ্যাহ্নভোজে আমন্ত্রণ জানানোর ঘটনাটি ছিল দূরদর্শী কূটনীতির এক উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত। একই সঙ্গে লেখক বার্মিজ সমাজ ও সামরিক জান্তার মধ্যে প্রোথিত জাতিগত বর্ণবাদ এবং রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত কাঠামোগত নিপীড়নের লক্ষণ তখনই শনাক্ত করেছিলেন; পরবর্তী দশকের ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় সেই পর্যবেক্ষণকেই মর্মান্তিকভাবে সত্য প্রমাণ করে।

‘সেরেনডিপিটি ইন ডিপ্লোমেসি: বিটুইন প্রটোকল অ্যান্ড পলিটিকস: আ মেমোয়ার’ বইয়ের প্রচ্ছদ
মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক সংস্কৃতি ও আমলাতান্ত্রিক মনস্তত্ত্ব বোঝার ক্ষেত্রেও বইটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ফরাসি জাতীয় দিবসের শুভেচ্ছাবার্তায় নামের ভুলের মতো একটি সামান্য কেরানিগিরির ত্রুটির জন্য লেখককে অন্যায়ভাবে ওএসডি করার বিবরণ বাংলাদেশের সিভিল সার্ভিসের অভ্যন্তরীণ ক্ষয় ও জবাবদিহির অভাবের নিষ্করুণ ছবি তুলে ধরে। ঘটনাটি দেখায়, যোগ্য ও পেশাদার কর্মকর্তাদের মেধা ও দক্ষতার মূল্যায়ন না করে রাজনৈতিক নেতৃত্ব বা উচ্চ প্রশাসন কখনো কখনো নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে তাঁদের বলির পাঁঠা বানায়।

নতুন দিল্লিতে কাউন্সিলর হিসেবে লেখকের কর্মকাল ভারতের রাজনীতিতে জোট সরকারের উত্থান-পতনের এক অস্থির অথচ গতিশীল সময়ের সঙ্গে মিলে যায়। ১৯৯৬ সালের গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির পর্দার আড়ালের কারিগরি ও রাজনৈতিক মনস্তত্ত্ব সম্পর্কে তাঁর বিশ্লেষণ প্রখর ও তথ্যসমৃদ্ধ। ভারতের সাউথ ব্লকের ভেতরের কর্মকাণ্ড, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর রাজনৈতিক প্রভাব এবং কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের জটিলতা তিনি সংযত ভাষায় তুলে ধরেছেন। ১৯৯৮ সালের পোখরান-২ পারমাণবিক পরীক্ষা এবং তার জবাবে পাকিস্তানের পারমাণবিক বিস্ফোরণের পর দক্ষিণ এশিয়ায় যে যুদ্ধোন্মুখ ছদ্ম-জাতীয়তাবাদী আবহ তৈরি হয়েছিল, তার বিশ্লেষণও এই স্মৃতিকথার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পারমাণবিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার পর ভারতীয় গণমাধ্যম ও নীতিনির্ধারকদের আগ্রাসী অবস্থানের আকস্মিক পরিবর্তন লেখক যেভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, তা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বাস্তববাদী চিন্তার এক স্মরণীয় উদাহরণ।

এই স্মৃতিকথা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও তার প্রাতিষ্ঠানিক রূপরেখা নিয়ে নতুন করে ভাবার কয়েকটি জরুরি উপাদান সামনে আনে। প্রথমত, বইটি ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’—বাংলাদেশের বহুল উচ্চারিত বৈদেশিক নীতিবাক্যের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট করেছে। লেখক দেখিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি ও দ্বিপক্ষীয় নীতির অভাবে বাংলাদেশের কূটনীতিকেরা প্রায়ই বহির্বিশ্বে দ্বিধা ও অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হন। আফগানিস্তানকে সার্কের অন্তর্ভুক্ত করার আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত কিংবা মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও রোহিঙ্গা নিপীড়নের গভীরতা যথাসময়ে অনুধাবনে ব্যর্থতা প্রমাণ করে যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি দীর্ঘকাল কোনো সুসংহত গবেষণালব্ধ কৌশলের ওপর দাঁড়ায়নি; বরং তা অনেক সময় নীতিনির্ধারকদের তাৎক্ষণিক আবেগ, ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ এবং প্রশাসনিক অভ্যাসের দ্বারা পরিচালিত হয়েছে। উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হিসেবে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য রক্ষায় আমাদের পররাষ্ট্রনীতিকে ভূ-অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থের ভিত্তিতে পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তা এই বই নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়।

দ্বিতীয়ত, মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক সংস্কৃতি ও আমলাতান্ত্রিক মনস্তত্ত্ব বোঝার ক্ষেত্রেও বইটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ফরাসি জাতীয় দিবসের শুভেচ্ছাবার্তায় নামের ভুলের মতো একটি সামান্য কেরানিগিরির ত্রুটির জন্য লেখককে অন্যায়ভাবে ওএসডি করার বিবরণ বাংলাদেশের সিভিল সার্ভিসের অভ্যন্তরীণ ক্ষয় ও জবাবদিহির অভাবের নিষ্করুণ ছবি তুলে ধরে। ঘটনাটি দেখায়, যোগ্য ও পেশাদার কর্মকর্তাদের মেধা ও দক্ষতার মূল্যায়ন না করে রাজনৈতিক নেতৃত্ব বা উচ্চ প্রশাসন কখনো কখনো নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে তাঁদের বলির পাঁঠা বানায়। একই সঙ্গে দূতাবাসে দলীয় সংকীর্ণতার অনুপ্রবেশ, পেশাদারত্বের বদলে রাজনৈতিক আনুগত্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং ভিন্নমতের কর্মকর্তাদের কোণঠাসা করার যে প্রবণতা লেখক চিহ্নিত করেছেন, তা আমাদের প্রশাসনিক সংস্কৃতির দীর্ঘস্থায়ী ব্যাধির দিকেই ইঙ্গিত করে।

বইয়ের শিরোনামে ব্যবহৃত ‘সেরেনডিপিটি’ বা অপ্রত্যাশিত সৌভাগ্য শব্দটি কেবল অলংকার নয়, লেখকের তিন দশকের কর্মজীবনের নানা বাঁক ও আকস্মিকতার যথার্থ ইঙ্গিত। বইটিতে কিছু অতিব্যক্তিগত ও প্রাত্যহিক ঘটনার বিবরণ মূল ভূরাজনৈতিক আখ্যানের গতি কিছুটা শ্লথ করেছে। সংক্ষেপ করলে বইটি আরও সংহত হতো। তবু মাহমুদ হাসানের প্রাঞ্জল, রসবোধসম্পন্ন এবং নির্মোহ লিখনভঙ্গি সেই সীমাবদ্ধতা অনেকটাই অতিক্রম করেছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মোরশেদ খানের সঙ্গে অর্থনৈতিক কূটনীতি ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংস্কার কমিটিতে লেখকের কাজের অভিজ্ঞতা। আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়হীনতা বা ‘টার্ফ ওয়ার’ কীভাবে জাতীয় স্বার্থের চেয়ে প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ ও কর্তৃত্ব রক্ষাকে অগ্রাধিকার দেয়, লেখক তা প্রত্যক্ষ করেছেন। তার অভিঘাত বৈদেশিক মিশনেও যে পড়ে, সে কথাও তাঁর বিবরণে স্পষ্ট। ফলে কীভাবে একটি আধুনিক, মেধাভিত্তিক, রাজনীতিকরণমুক্ত ও সমন্বিত পররাষ্ট্র দপ্তর গড়ে তোলা যায়; যেখানে কর্মকর্তারা কেবল প্রটোকল পালনে সীমাবদ্ধ না থেকে তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে দক্ষ দর–কষাকষিকারী, বিশ্লেষক ও কৌশলবিদ হিসেবে কাজ করতে পারবেন—তা নিয়ে বইটি আমাদের ভাবায়।

বইয়ের শিরোনামে ব্যবহৃত ‘সেরেনডিপিটি’ বা অপ্রত্যাশিত সৌভাগ্য শব্দটি কেবল অলংকার নয়, লেখকের তিন দশকের কর্মজীবনের নানা বাঁক ও আকস্মিকতার যথার্থ ইঙ্গিত। বইটিতে কিছু অতিব্যক্তিগত ও প্রাত্যহিক ঘটনার বিবরণ মূল ভূরাজনৈতিক আখ্যানের গতি কিছুটা শ্লথ করেছে। সংক্ষেপ করলে বইটি আরও সংহত হতো। তবু মাহমুদ হাসানের প্রাঞ্জল, রসবোধসম্পন্ন এবং নির্মোহ লিখনভঙ্গি সেই সীমাবদ্ধতা অনেকটাই অতিক্রম করেছে। সামগ্রিকভাবে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গবেষক, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী ও পেশাদার কূটনীতিকদের জন্য এই স্মৃতিকথা যেমন উপভোগ্য, তেমনই বাংলাদেশের প্রশাসনিক সংস্কৃতি, পররাষ্ট্রনীতি ও পেশাদার কূটনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবারও এক মূল্যবান প্ররোচনা। ক্ষমতার দোলাচলের ভেতর সততা, সংযম ও পেশাদারত্ব বজায় রেখে রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে বইটি পাঠককে গভীরভাবে ভাবতে বাধ্য করবে।

  • মোহাম্মদ সাজ্জাদুর রহমান: খণ্ডকালীন শিক্ষক, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ

  • সেরেনডিপিটি ডিপ্লোমেসি: বিটুইন প্রটোকল অ্যান্ড পলিটিকস: আ মেমোয়ার
    মাহমুদ হাসান

    প্রকাশক: ইউপিএল
    প্রকাশ: জুন, ২০২৬
    প্রচ্ছদ: পরাগ ওয়াহিদ
    পৃষ্ঠা: ৩৯৬ মূল্য: ১১২০ টাকা