ডোরির গল্প করি

.
.

ইয়ে মানে...কী নিয়ে যেন লিখতে বসেছিলাম? একটু মনে করিয়ে দেবে?
—হ্যাঁ! ঠিক এমন অবস্থাই হয় ডোরির। একটা কিছু করতে গিয়ে বেচারা হঠাৎ ভুলে যায়। কী যেন করছি! কেন যেন করছি! আমি অবশ্য ভুলে যাইনি। ডোরির মনের অবস্থাটা বোঝাতে তোমাদের সঙ্গে শুরুতে এই নাটকটা করলাম।
তা ডোরিটা কে? এই তো কদিন আগেই মুক্তি পেয়েছে অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র ফাইন্ডিং ডোরি। পিক্সার আর ডিজনি—ছোটদের পছন্দের দুই ছবি নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান একজোট হয়ে তৈরি করেছে এই সিনেমা। ২০০৩ সালে বেরিয়েছিল অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র ফাইন্ডিং নিমো। তারই ধারাবাহিকতায় এসেছে ফাইন্ডিং ডোরি।
ডোরি ছোট্ট এক নীল মাছ। ছোটবেলা সে মা-বাবাকে হারিয়ে ফেলেছিল। তারপর নিমো আর তার বাবা মার্লিনের সঙ্গে মিশে সে একটা নতুন পরিবার খুঁজে পেয়েছে বটে, কিন্তু মা-বাবাকে কি আর ভুলে থাকা যায়? তাই একদিন সে বেরিয়ে পড়ে তাদের খোঁজে।
এই অভিযানে কত কী কাণ্ড যে ঘটে! কখনো ডোরিকে তাড়া করে ইয়াব্বড় দৈত্যাকৃতি এক স্কুইড। আবার কখনো ওর বন্ধুত্ব হয় অক্টোপাস হাঙ্কের সঙ্গে। হাঙ্ককে অবশ্য অক্টোপাস না বলে ‘সপ্তপাস’ বলা উচিত! মজার এই চরিত্রের শুঁড় আছে সাতটা। যখন-তখন সে ইচ্ছেমতো গায়ের রং বদলে ফেলতে পারে। অবাক করা ব্যাপার হলো, পিক্সারের অ্যানিমেটররা বলছেন, আজ পর্যন্ত তাঁরা যত অ্যানিমেটেড চরিত্র তৈরি করেছেন, তার মধ্যে হাঙ্কের চরিত্র তৈরি করাই ছিল সবচেয়ে কঠিন। ওর গায়ের রং কী হবে, দেখতে কেমন হবে, কীভাবে নড়াচড়া করবে...ভেবে ভেবে একদল আঁকিয়ে, গবেষক, অ্যানিমেটর, গল্পকারের ঘুম হারাম হয়েছে। শুধু ওর গায়ের রং ঠিক করতেই নাকি লেগে গেছে পাক্কা ২২ সপ্তাহ!
৯৭ মিনিটের এই অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র তৈরি করার ঝক্কি ছিল আরও। সাগর আর মাছের জীবন নিয়ে দিনের পর দিন গবেষণা করতে হয়েছে নির্মাতাদের। সে গবেষণার ফলও তোমরা দেখতে পাবে ছবিতে। পানির নিচে আলোর খেলা কিংবা ঝাঁক বেঁধে নানা রকম সামুদ্রিক প্রাণীর ছোটাছুটি দেখে চোখ জুড়িয়ে যাবে। সঙ্গে ডোরি, হাঙ্কসহ মজার সব চরিত্রের হাস্যকর কাণ্ডকীর্তি তো আছেই। ছবিটা সাজাতে ব্যবহার করা হয়েছে ২৮ কোটিরও বেশি ‘অ্যানিমেশন ফ্রেম’। অর্থাৎ পানির নিচের এই কল্পনার জগৎ ফুটিয়ে তুলতে কম্পিউটারের সাহায্যে আঁকতে হয়েছে ২৮ কোটিরও বেশি ছবি। ভাবতে পারো!
শেষ পর্যন্ত ডোরি কি তার মা-বাবাকে খুঁজে পায়? প্রশ্নের উত্তর বলে দিলে তো মজাটাই নষ্ট হয়ে গেল। তোমাদের বরং এটুকু বলতে পারি, ফাইন্ডিং ডোরি দেখতে বসে কখনো তোমার হাসতে হাসতে পেটে খিল ধরবে, কখনো ভীষণ রোমাঞ্চে চোখ বড় বড় হয়ে যাবে। আবার কখনো হয়তো ছোট্ট মাছটার জন্য একটু একটু মন খারাপও লাগতে পারে। হাসি-ঠাট্টা-গল্পে ডোরি তোমাকে কী যেন একটা মজার জাদুও শিখিয়ে দেবে। সেই জাদুটা কী? সেটা তুমিই আবিষ্কার করো!
সূত্র: পিক্সার

.
.