ছোট্ট অপেক্ষার সময়টা হারিয়ে যাচ্ছে: অ্যান কারসন

এ বছর সাহিত্যে নোবেলজয়ী অ্যান কারসনের সঙ্গে ব্রুকলিনের লেখক কেট ডোয়ারের আলাপ হয়েছিল ২০২৩ সালের অক্টোবরে। কারসন তখন আইসল্যান্ডের রাজধানী রেইক্যাভিকে নিজের অ্যাপার্টমেন্টে ছিলেন। ২০০৮ সাল থেকে প্রতিবছর কিছু সময় তিনি ও তাঁর স্বামী রবার্ট কারি এ শহরে থাকেন।

২০২৪ সালের ১৭ এপ্রিল দ্য প্যারিস রিভিউতে প্রকাশিত সেই সাক্ষাৎকার অনুবাদ করেছেন রবিউল কমল

অ্যান কারসনের ছবি অবলম্বনেপ্রথম আলো গ্রাফিকস

প্রশ্ন: ‘রং নর্মা’ নামের ‘রং’ বা ‘ভুল’ শব্দটি নিয়ে বলুন।

অ্যান কারসন: কেউ যখন আমাকে জিজ্ঞেস করে, ‘কানাডীয়রা মার্কিনদের চেয়ে কীভাবে আলাদা?’ আমি বলি, ‘কানাডীয়দের একটা স্বভাব আছে, আর তা হলো তারা ভদ্র, কিন্তু ভুল। সব সময়ই ভদ্র, কিন্তু ভুল!’ বইয়ের নামের মধ্যে ‘ভুল’ শব্দটা রাখার একটা কারণ এটাই। আরেকটা কারণ আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজে সব সময় মনে হয়, হয়তো আপনি ভুল করছেন। অথবা ভুল করার কাছাকাছি আছেন। তাই সাবধানে কথা বলতে হয়। কারণ, সেখানে সবকিছুর বিচার হয়। কে কত ভালো, কে কত উঁচু পদে আছে—এসবও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী চাকরি পাওয়ার মতো বিষয়ও অনেক সময় নির্ভর করে আপনি যা বলছেন, তা ঠিক কি না তার ওপর। এ ধরনের চিন্তা আমাকে বিচলিত ও বিরক্ত করে। তাই এই মানসিকতাকে একটু নাড়িয়ে দিতে চেয়েছিলাম।

প্রশ্ন: আপনার ‘ইরোস দ্য বিটারসুইট’ পড়তে গিয়ে মনে হচ্ছিল, আমরা প্রায়ই বলি, বন্ধু বা প্রেমিক-প্রেমিকারা নাকি ‘একই ধরনের ভাষায় কথা বলে’। কিন্তু আমার মনে হয়, প্রত্যেক মানুষ নিজের মতো করে কথা বলে। তাই সম্পর্কের মধ্যে সব সময় একে অন্যকে বোঝার চেষ্টা করতে হয়। অনেকটা অনুবাদের মতো।

কারসন: সত্যি বলতে, একজন মানুষ কথা বললে সে আসলে কী বোঝাতে চায়, অন্য মানুষ কখনোই পুরোপুরি বুঝতে পারে না। এটা কেবল অনুবাদ নয়, বরং অন্ধকারের মধ্যে নিজেকে ছুড়ে দেওয়ার মতো। ভাষা খুব ব্যক্তিগত একটা বিষয়।

প্রত্যেক মানুষের ভাষা একটু আলাদা। অনেক সময় তা অদ্ভুতও হয়। তাই একে অনুবাদ বলা যায়। তবে ব্যাপারটা তার চেয়ে কঠিন। মানুষ হয়ে কথা বলার মানেই হলো, প্রতিটি বাক্যের মাধ্যমে সেই কঠিন জায়গাটা পার হওয়ার চেষ্টা করা।

প্রশ্ন: এক ভাষায় কোনো কথা যেভাবে বলা যায়, অন্য ভাষায় হয়তো ঠিক সেভাবে বলা যায় না। অনুবাদক হিসেবে সেখানে আপনার কী অনুভূতি হয়? মানে মূল লেখা আর অনুবাদের ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য আছে কি না?

কারসন: আমি সেই জায়গাকে একটা খাদের মতো ভাবি। যেন দুটি রাস্তার মাঝখানে একটা খাদ। অনুবাদক যখন কাজ করেন, তখন তাঁর মাথায় একই সঙ্গে দুটি ভাষা থাকে। তিনি এক ভাষার কথা অন্য ভাষায় বলার চেষ্টা করেন। কিন্তু দুটি ভাষা কখনোই পুরোপুরি এক হয় না। তাই দুটো সম্ভাবনাই মাথায় ভাসতে থাকে।

কিছু লেখক নিজের লেখার মধ্যেও এমনটা করেন। এমিলি ডিকিনসন তার ভালো উদাহরণ। তিনি একটি শব্দ লেখেন। তারপর সেটি কেটে দিয়ে অন্য শব্দ লেখেন। কখনো পাশে আরেকটি শব্দ লেখেন। কখনো পুরো কবিতাটাই আবার লিখে ফেলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই সব কটিই তাঁর কবিতার অংশ হয়ে যায়।

মজার ব্যাপার হলো, কবিতাটা তখন আর একেবারে গোছানো থাকে না। বরং অসম্পূর্ণতা, কাটাকাটি ও বদল—সব মিলিয়েই কবিতাটা তৈরি হয়।

অনুবাদের সময়ও এমন কিছু ঘটে। ধরুন, আপনার সামনে একটি পুরোনো কবিতা আছে। সেখানে কোনো শব্দের অর্থ পরিষ্কার নয়। আবার নিচে বিভিন্ন গবেষক সেই শব্দের ভিন্ন ভিন্ন অর্থ দিয়েছেন। তখন আপনার মাথায় একই জায়গার কয়েকটি সম্ভাব্য অর্থ থাকে। সব কটিই একসঙ্গে থাকে। আমি জানি না, ব্যাপারটা কীভাবে বইয়ের পাতায় ঠিকভাবে দেখানো যায়।

গ্রিক ভাষার কবিতা সামনে রেখে, নিচে তার নানা সম্ভাব্য অর্থ দেখা দারুণ একটি অভিজ্ঞতা বলে আমি মনে করি। কিন্তু বইয়ে ‘এটা অমুক কবিতার অনুবাদ’ লিখে দিলে সেই অভিজ্ঞতা আর থাকে না।

কম্পিউটারে হয়তো লিংক দিয়ে কিছুটা দেখানো যায়। কিন্তু কেউ এত লিংকে গিয়ে পড়তে চায় না। একজন গবেষক যখন মূল কবিতার সামনে বসে তার নানা সম্ভাবনা দেখতে পান, তখন যে অনুভূতি হয়, তা পুরোপুরি ভাষায় বোঝানো কঠিন।

প্রশ্ন: একেবারে নতুন করে কিছু লেখার সময়ও কি এমন হয়?

কারসন: আমার মনে হয়, কোনো একটা ভাবনা হঠাৎ মাথায় এল, তারপর সেটা যদি আমার কাছে ভালো লাগে, আমি তার পেছনে সময় ব্যয় করি। অনেকটা এমন, আপনার বাড়ির পেছনের উঠান দিয়ে একটা শিয়াল দৌড়ে গেল। আপনি তার পেছনে হাঁটতে শুরু করলেন। দেখতে চান, সে কোথায় যায়। লেখার ব্যাপারটাও অনেকটা তেমন।

প্রশ্ন: ‘রং নর্মা’র শিয়ালটি বেশ রহস্যময়। লেখার সময় তার কোনো নির্দিষ্ট অর্থ ছিল?

কারসন: সত্যি বলতে, শিয়ালটা কোথা থেকে এসেছিল আমি জানি না। রাগনার কিয়ার্তানসনের দ্য ভিজিটর্স অ্যালবামের জন্য আমি কিছু লিখছিলাম। একই সময়ে ছবি আঁকছিলাম। হঠাৎ আমার আঁকা ছবিতে একটা শিয়াল চলে এল। শিয়ালটা এত সুন্দর হয়েছিল যে আমি ভাবলাম, ‘শিয়ালটাকে কোথাও না কোথাও রাখতেই হবে।’ তাই তাকে ‘দ্য ভিজিটর্স’-এর লেখায় ঢুকিয়ে দিলাম। শিয়ালটা একেবারেই হঠাৎ এসেছিল। কিন্তু তাতেই মনে হলো, তাকে নিয়ে কিছু একটা করতেই হবে।

প্রশ্ন: কীভাবে আপনি লেখার জন্য সবচেয়ে ভালো সময় বেছে নেন?

কারসন: অনেক সময় আমি কেবল আলো নিয়ে লিখি। কখনো মনে হয়, আমার আর আলোর মধ্যে একটা অদৃশ্য চুক্তি আছে। যেন আজকের আলোটা কেমন, সেটা আমার খাতায় লিখতেই হবে। সেই খাতা হয়তো কোনো দিন কেউ পড়বে না। কিন্তু আমাকে ঠিক সেই শব্দগুলো খুঁজে বের করতে হবে, যা দিয়ে আজকের আলোকে বোঝানো যায়।

আমি জানি না, এই চুক্তি কোথা থেকে এসেছে। কিন্তু আমার মনে হয়, অন্য সব লেখার পেছনেও এই ব্যাপারটা কাজ করে। আলোর কথা লেখার পর আমি আমার মাকে নিয়ে লিখতে পারি। রাতের খাবারে কী খাব, সেটা নিয়েও লিখতে পারি। প্রুস্তের অনুবাদ নিয়ে লিখতে পারি। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটা ততক্ষণে হয়ে গেছে। আলোই ছিল আসল বিষয়। কেন এমন হয়, আমি জানি না।

প্রশ্ন: ‘স্নো’ লেখায় আপনি একটি অদ্ভুত ঘটনার কথা বলেছেন। আপনার মা মারা যাওয়ার এক সপ্তাহ আগে যে হোটেলে ছিলেন, সেখানে রাতের এক কর্মচারীকে নিয়ে আপনার অদ্ভুত অনুভূতি হয়েছিল। এমন ঘটনা কি আপনার সঙ্গে প্রায়ই ঘটে?

কারসন: একবার এমন হয়েছিল। গ্রিক পুরাণে হার্মিসকে এমন একজন বলা হয়, যিনি মৃত মানুষের আত্মাকে অন্য জগতে নিয়ে যান। তাই হোটেলের সেই কর্মচারীকে আমার কাছে তেমন একজন মনে হয়েছিল। আরেকবার কারি ও আমি তাঁর বাবার শেষকৃত্যে যাচ্ছিলাম। মাঝ মিশিগানের কোথাও আমরা রাস্তার পাশে একজনকে দেখতে পেলাম। চারপাশে কেবল ফাঁকা জায়গা।

লোকটির পরনে ছিল পরিষ্কার নীল স্যুট ও নীল জামা। এত পরিষ্কার ছিল যে গাড়িতে ওঠার পর মনে হলো, গাড়ির ভেতরেও পরিষ্কার কাপড়ের আলো ছড়িয়ে পড়েছে। আমরা তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলাম। কিন্তু সে খুব একটা কথা বলতে চাইছিল না। সে বলল, তিনটা শহর পর একটি গণগ্রন্থাগারে যাবে। কিন্তু সে কে, সে বিষয়ে কিছু বলল না। আমরা তাকে সেই গ্রন্থাগারের কাছে নামিয়ে দিলাম।

পরে বুঝলাম, লোকটা যেন একটা সংকেত ছিল। কারির বাবা তখনো মারা যাননি। কিন্তু সেদিনই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। তাই আমাদের মনে হয়েছিল, লোকটি যেন বলে গিয়েছিল, কেউ একজন শিগগিরই অন্য জগতে চলে যাবে। হ্যাঁ, এমন ঘটনা ঘটে; তবে খুব বেশি নয়।

প্রশ্ন: আপনি ও কারি নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিল্প নিয়ে একসঙ্গে একটি ক্লাস চালাতেন। ক্লাসটির নাম ছিল ‘দ্য এগোসার্কাস’। সেখানে ছাত্রদের কী ধরনের কাজ করতে দিতেন?

কারসন: একবার আমরা বলেছিলাম, ‘কিছু একটা পোড়াও। তারপর সেই ছাই দিয়ে কিছু বানাও।’ আরেকবার বলেছিলাম, ‘একটি হোস্টেলকে আরও সাজিয়ে–গুছিয়ে নাও।’

কখনো শুধু তিনটি শব্দ দিতাম, যেমন ‘নৌকা’, ‘মাখন’, ‘মৃত্যু’। তারপর ছাত্ররা এসব নিয়ে কিছু তৈরি করত। আমরা লেখালেখি নিষেধ করিনি। তারা শেষ পর্যন্ত কিছু না কিছু লিখত। কিন্তু আমরা চাইতাম, তারা অন্য কিছু করার চেষ্টাও করুক। তারা এমন কিছু করতে শিখুক, যা তারা পারে অথচ নিজেরাই জানত না।

প্রশ্ন: লেখালেখির বাইরে এমন কোনো কাজ কি আছে, যা আপনার লেখায় সাহায্য করে?

কারসন: ছবি আঁকা, ছবি রং করা, সাঁতার, আর ঘর গুছিয়ে রাখা। এটা আমি বেশ ভালো পারি।

প্রশ্ন: সাঁতার আপনার লেখার সঙ্গে কীভাবে জড়িত?

কারসন: সাঁতার মন খারাপ হওয়া ও খিটখিটে হয়ে যাওয়া থেকে দূরে রাখে। মাঝে মাঝে সাঁতার কাটতে কাটতে আমি ভাবি। তবে বেশির ভাগ সময় পানিতে যে ভাবনাগুলো আসে, সেগুলো খুব একটা ভালো হয় না, স্বপ্নের মতো; স্বপ্নে যেমন মনে হয়, ‘এই তো! পৃথিবীর সব প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গেছি!’ তারপর ঘুম ঘুম চোখে উঠে সেই কথা লিখে রাখা হয়। সকালে উঠে দেখা যায়, সেখানে লেখা আছে, ‘কলা কিনতে হবে!’

আর পানি আমি খুব পছন্দ করি। কিছু মানুষ আছে, যাদের কেবল পানির কাছাকাছি থাকলেই ভালো লাগে।

প্রশ্ন: আপনি ও কারি জন কেজের ভক্ত। তিনি শিল্প থেকে নিজের অহংকে দূরে রাখার কথা বলতেন। আপনার ২০১৬ সালের ‘ফ্লোট’ বইয়ের শুরুতে তাঁর একটি কথা আছে, ‘কোনো জিনিসকে ধরে রাখার মানে তার শূন্যতার উদ্‌যাপন।’

কারসন: লেখকদের জন্য কথাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। লেখকদের মাথায় অনেক স্মৃতি জমে থাকে। অনেক পুরোনো অভিজ্ঞতা থাকে। তারা সেগুলোকে নিজের জীবনকথা মনে করেন। তারপর লেখার সময় বারবার সেই পুরোনো স্মৃতিগুলোই ব্যবহার করেন। কিন্তু এটা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

প্রশ্ন: লেখালেখির জগতে চরিত্র, গল্পের দৃষ্টিকোণ, গল্প বলার নিয়ম—এসব নিয়ে অনেক কথা হয়। আপনি কি লেখার সময় এসব নিয়ে ভাবেন?

কারসন: কখনো না। এসব নিয়ে আমি ভাবিই না। আমার মনে হয়, মানুষকে এসব নিয়ে এত ভাবা বন্ধ করা উচিত। শুধু একটা বিষয় নিয়ে ভাবুন। তারপর সেই ভাবনাকে অনুসরণ করুন। যতক্ষণ না সেটার ভেতরের সত্যটা খুঁজে পান।

প্রশ্ন: আমার মনে হয়, অন্তত আমেরিকায় গভীরভাবে চিন্তা করার ক্ষমতাকে এখন কম গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একজন শিক্ষক ও চিন্তাবিদ হিসেবে আপনি কি তা বুঝতে পারেন?

কারসন: এ কারণেই আমি ‘স্থিরতা’ নিয়ে ভাবতে শুরু করেছিলাম। আমি যখন জীবনের শেষ কয়েক বছর পড়াতাম, তখন কিছু সময় প্রাচীন গ্রিক ভাষা পড়াতাম। আর কিছু সময় লেখালেখি।

আমি যখন স্কুলে পড়তাম, তখন প্রাচীন গ্রিক শেখার একটা নিয়ম ছিল। প্রথমে মূল লেখাটা পড়তে হতো। তারপর যে শব্দগুলো জানা নেই, সেগুলো অভিধানে খুঁজতে হতো। অভিধানে একটা শব্দ খুঁজতে সময় লাগে। আর সেই সময়টুকু খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, আপনি তখন একটা প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন, কিন্তু উত্তরটা পাননি।

আপনি খুঁজছেন, ভাবছেন, অপেক্ষা করছেন। এ সময়ের মধ্যে আপনার মনে অনেক কিছু ঘটতে থাকে। আমি এই সময়কে বলি ‘স্থিরতা’। এখন কম্পিউটারে পুরো লেখা থাকে। কোনো শব্দ বুঝতে না পারলে শুধু একটা বোতামে চাপ দিলেই সঙ্গে সঙ্গে তার অর্থ চলে আসে। কম্পিউটার সাধারণত সেই বাক্যের জন্য সবচেয়ে মানানসই অর্থটাই দেখায়। তখন আপনি আর শব্দটির অন্য অর্থগুলো নিয়ে ভাবার সুযোগ পান না। শব্দটির পুরোনো ইতিহাসও জানতে পারেন না।

এই ছোট্ট অপেক্ষার সময়টা হারিয়ে যাচ্ছে। আর তার ফলে ভাষাকে দেখার ধরনও বদলে যাচ্ছে। এই অপেক্ষা আমাদের মস্তিষ্ককে একটু বিশ্রাম দেয়। কারণ, তখন আমরা পুরোপুরি ভাবছি না, আবার একেবারে ভাবনাহীনও নই। আমরা শুধু জানার জন্য শব্দের অর্থ খুঁজছি। আমার খুব খারাপ লাগে যে এই সময়টা হারিয়ে যাচ্ছে।

প্রশ্ন: আমরা সময়কে যেভাবে অনুভব করি, তার সঙ্গে কি আমাদের মনোযোগের সম্পর্ক আছে? যে মানুষ অনেক বই পড়ে, সে কি সারা দিন পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকা মানুষের চেয়ে সময়কে অন্যভাবে অনুভব করে?

কারসন: প্রশ্নটা শুনলে মনে হয়, এর মধ্যে একটা বিচার আছে। তাই আমি নিশ্চিত নই। তবে একটা বিষয়ে আমি নিশ্চিত, আমরা সবাই এমন সময় খুঁজি, যখন মনে হয় সময় থমকে আছে। এটা তখনই হয়, যখন আমরা কোনো কিছুর দিকে পুরো মনোযোগ দিই। যেমন আপনি নেটফ্লিক্সে একটা সিনেমা দেখছেন। অথবা খুব মন দিয়ে নিজের সবচেয়ে ভালো কবিতাটা লিখছেন। দুটোই আপনাকে এমন একটা জায়গায় নিয়ে যেতে পারে, যেখানে আপনি সময়ের কথা ভুলে যান।

সময় নিয়ে আমার একটাই আগ্রহ, কীভাবে তাকে থামানো যায়। কারণ, সময় যখন থামে না, তখন একঘেয়েমি আসে। আপনি শুধু সময়কে চলে যেতে দেখেন। কিন্তু সেই সময়ের মধ্যে এমন কিছু ঘটে না, যা নিজের কষ্ট থেকে দূরে নিয়ে যায়।

আমার কাছে একঘেয়েমি আর সময়কে পুরোপুরি ভুলে যাওয়ার মাঝখানে খুব বেশি কিছু নেই। হয়তো অন্য অবস্থাটার নাম অমরত্ব। অথবা সময়ের বাইরে চলে যাওয়া। সেই অবস্থাটা খুব আনন্দের। এতটাই আনন্দের যে তখন সময় নিয়ে চিন্তাই থাকে না।

প্রশ্ন: আপনি কি ঘণ্টার পর ঘণ্টা এমন অবস্থায় থাকতে পারেন?

কারসন: কয়েক মিনিট হয়তো, যদি ভাগ্য ভালো থাকে।