আর্থার মিলারের সাক্ষাৎকার

‘আর্থার মিলারের সাক্ষাৎকার’টি প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৯৮ সালের ৬ নভেম্বর প্রথম আলোর প্রথম বর্ষের তৃতীয় সংখ্যার ‘শুক্রবারের সাময়িকী’তে। তখনো প্রথম আলো অনলাইন কার্যক্রম শুরু হয়নি, তাই গল্পটি এত দিন শুধু ছাপা পত্রিকার পাতাজুড়েই ছিল। সাক্ষাৎকারটি আজ প্রথমবারের মতো ‘অন্য আলো’র অনলাইন পাঠকের জন্য উপস্থাপন করা হলো।

গ্রাফিকস: প্রথম আলো

মাঘী পূর্ণিমার মতো ভরাট চেহারার যুবতী না জার্মান, না মার্কিন। পোলিশ আদল চোখেমুখে। গঠন গ্রিসীয়। ইংরেজি উচ্চারণও আট মাস উনত্রিশ দিনের অন্তঃসত্ত্বার সুখী ও আহ্লাদী রমণীর যেন, দ্রুত ও বিলম্বিত লয়ে ধ্বনিত। পোশাক টেক্সাসীয় কাউ-গার্লের, নাটকীয়তায় পূর্ণ। তিনিই দেখভাল করছেন। এসেছেন নিউইয়র্ক থেকে। বললেন, ‘প্লিজ, মেরিলিন মনরোকে নিয়ে কোনো প্রশ্ন করবেন না। বিরক্ত হবেন। বললুম, ‘আমার বিষয় মেরিলিন মনরো নয়, আর্থার মিলার। মেরিলিন মনোরার সঙ্গে তাঁর প্রণয়, বিয়ে, বিয়েবিচ্ছেদ, মেরিলিনের আত্মহত্যা (জন্ম: ১ জুন ১৯২৬, মৃত্যু: ৫ আগস্ট ১৯৬২। মেরিলিন মনরোর আসল নাম নরমা জেন মোরটেনসন। নরমা জেন বেকার নামেও ডাকা হতো। মেরিলিন মনরো ছিলেন মিলারের দ্বিতীয় স্ত্রী।) এতটাই কথিত ও প্রচারিত যে নতুন করে কিছুই জানবার নেই। তা ছাড়া হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে কেউ ভালোবাসে না।’ একটু অভিনয়ের সঙ্গে এ–ও শুনিয়ে দিলুম, দ্য মিসফিটস (মেরিলিনকে নিয়ে আর্থার মিলার, স্ক্রিনপ্লে, ১৯৬১) আমাদের দেখা। আরেকটু উদ্ধত হই। আপনার পরিচয় জানা হয়নি। মিলারের সেক্রেটারি। গত তিন দিন দেখিনি আপনাকে। ড্রেসডেনে গিয়েছিলাম, নতুন প্রোডাকশন উপলক্ষে কথা বলতে। কোন নাটকের?

গানি উনগার, সেক্রেটারি, যেন মায়াবী জগতের উচ্চচূড় থেকে খসে পড়লেন। রূপান্তরিত করে নন মল্লভূমিতে। ‘এর আগেও কি মিলারের সঙ্গে কথা হয়েছে?’ রহস্যঋদ্ধ এই যুবতী উত্তর শুনতে নারাজ। চিবুকে ঢেউ ওঠে তাঁর। বিচ্ছুরিত লোচনে আবার প্রশ্ন, ‘গৌতম দাশগুপ্ত বুঝি আপনার বন্ধু? তিনি ভারতীয়, আপনিও কি? আপনি কি এখানে, বার্লিনেই থাকেন?’

দুই

গৌতম দাশগুপ্ত সম্পর্কে আমাদের নাট্যময়দানের কর্মী ও নেতৃকুল জানেন নিশ্চয়। ঢাকাতেও গিয়েছেন বছর কয়েক আগে। নিউইয়র্কের একটি কলেজে নাট্যবিষয়ক অধ্যাপক। নাটক নিয়ে ভারী ভারী বই লিখে নাট্যবোদ্ধাপ্রাঙ্গণে খ্যাতিমান। জার্মান নাট্যকার জাইনার মুযলারকে নিয়ে বই লেখার বাসনায় এখন বার্লিনে।

আমেরিকান একাডেমিক স্কলার।

বার্লিনে একটি বিশাল আমেরিকান একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সম্প্রতি। নানা ক্ষেত্রে নামী আটজন স্কলার আমন্ত্রিত। প্রত্যেকেই এক বছর থাকবেন, বাদ কেবল আর্থার মিলার। দশ দিন পরই কেটে পড়েছেন। একাডেমিক উদ্বোধনী সন্ধ্যায় গৌতম দাশগুপ্তর সঙ্গে পরিচয়। তিনি আর্থার মিলারের সখ্যজনদের একজন।

আর্থার মিলার
ছবির পরতে পরতে ফোলকার শ্লোয়েনডর্ফ জার্মান-ক্ল্যাসিক্যাল বোধ রচনা করেছেন। জার্মান-দার্শনিক মেজাজটাও ছড়িয়ে দিয়েছেন। ধ্রুপদি আঙ্গিকও লক্ষ করি তাঁর পরিচালনায়। সব মিলিয়ে ভিন্ন সৃষ্টি, ভিন্ন দাপট। ফোলকার পরিচালিত ছবিটি অবশ্যই প্রিয় আমার।

গৌতম দাশগুপ্তর কাছে কৃতজ্ঞ আমি। আর্থার মিলারের সঙ্গে ইন্টারভিউর ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।

বলা দরকার যে আর্থার মিলারের নাগাল পাওয়া, ইন্টারভিউর জন্য অসম্ভব হয়ে উঠেছিল। যদিও পরপর দুটি পার্টিতে সৌজন্যমূলক আলাপও হয় কিন্তু আততির কোনো পর্ব গড়ে ওঠে না। আর্থার মিলারের (জন্ম ১৭ অক্টোবর ১৯১৫, নিউইয়র্ক সিটি।)

খ্যাতির শুরু ‘ডেথ অব আ সেলসম্যান’ (১৯৪৯) থেকেই। স্কুল শেষ করে পণ্যগুদামে কাজও করেছেন কিছুদিন। মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক। পড়াকালীনই উপন্যাস রচনা, ফোকাস (১৯৪৫)। বিষয় অ্যান্টি-সেমিটিজম।

ঔপন্যাসিক কিংবা ছোটগল্পকার হিসেবে (উপন্যাস) লিখেছেন ছয়টি, ছোটগল্পের বই দুটি তুমুল জনপ্রিয় নন। নাটকের জন্য পুলিৎজার পুরস্কারে সম্মাানিত। প্রথম নাটক অল মাই সনস (১৯৪৭) তীব্রভাবেই ইবসেন প্রভাবিত। ডেথ অব আ সেলসম্যান থেকে নিজস্ব পথ খুঁজে পেয়েছেন। দ্য ক্রুসিবল (১৯৫৩) লেখার পরে নিজেও বিপদে পড়েন, কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়। একসময় আমেরিকার পিইএন-এর প্রেসিডেন্ট ছিলেন।

তিন

প্রশ্ন: ইলিয়া কাজানের ক্রুসিবল (আমূল ভেঙেচুরে নাট্যরূপ) এমনকি জ্যাঁ পল সার্ত্রের নতুন নাট্যভাষ্য এবং স্ক্রিনপ্লে (১৯৫৭) পছন্দ হয়নি আপনার। হেতু?

উত্তর: ইলিয়া কাজানের শিল্পিত প্রযোজনায় আপত্তি ছিল না। কিন্তু শিল্পসুষমার পরিসরকে নাট্যিক দ্যোতনায় উত্তীর্ণ করেননি। প্রথম থেকেই যেন মনে হয় মৃত্যুলিপির স্পষ্টতায় ঘেরা। আর বন্ধু জ্যাঁ পল সার্ত্রে মার্ক্সসীয় ঘরানায় চালান করে কমিউনিজমের জয়গান গেয়েছেন শুরু থেকে শেষ দৃশ্যে। রাষ্ট্রীয় সংঘের জাঁতাকলে শ্রমিক-কৃষক-গরিবেরা কী রকম দলিত, যুক্তজাগর ধনতান্ত্রিক শাসনে; এই বিষয়ই মুখ্য হয়ে ওঠে, প্রশ্রয় দেন সংলাপে। ছবির শুটিং হয়েছিল পূর্ব জার্মানি মাগডেবুর্গে।

মানছি, যে যার মতন ব্যাখ্যা, রূপদান করতে পারেন, দেশকালের প্রেক্ষিতে; কিন্তু সরাসরি কমিউনিস্ট-প্রতিভাসে ঝলসে উঠবে, এতটা ভাবিনি।

প্রশ্ন: আপনিও তো খোলনলচে পাল্টেছেন। নিকোলাস হাইটনার পরিচালিত (১৯৯৬) ক্রুসিবল–এর চিত্রনাট্য, সংলাপ আপনারই লেখা এবং তা নতুন নতুন সংলাপ। যেন সদ্যরচিত কাহিনি।

উত্তর: ভিতসুদ্ধ পাল্টাইনি। মূল গল্প ঠিকই আছে। সংলাপের বদল ঘটেছে সিনেমাপ প্রয়োজনে। ফলে কাহিনি সংকুচিত হয়েছে। দৃশ্য-দৃশ্যান্তরে কথা বলেছে ক্যামেরা।

প্রশ্ন: ডেথ অব আ সেলসম্যান–এর দুটি চলচ্চিত্ররূপই (প্রথমটি ১৯৫১ সালে তৈরি পরিচালক এল বেনেডেক, চিত্রনাট্য সেল্ট রবার্ট, ১৯৮৫-তে ফোলকার শ্লোয়েনডর্ফের পরিচালনা) আমাদের দেখা। ফোলকার শ্লোয়েনডর্ফের ছবি দেখে বলেছেন ‘সৃষ্টির ভিন্ন দাপট।’ কথাটি খুব খোলাসা নয়। ব্যাখ্যা করবেন?

উত্তর: ছবির পরতে পরতে ফোলকার শ্লোয়েনডর্ফ জার্মান-ক্ল্যাসিক্যাল বোধ রচনা করেছেন। জার্মান-দার্শনিক মেজাজটাও ছড়িয়ে দিয়েছেন। ধ্রুপদি আঙ্গিকও লক্ষ করি তাঁর পরিচালনায়। সব মিলিয়ে ভিন্ন সৃষ্টি, ভিন্ন দাপট। ফোলকার পরিচালিত ছবিটি অবশ্যই প্রিয় আমার।

চমৎকার অভিজ্ঞতা। চীনা ভাষা অজানা। প্রথম দৃশ্যের কোন অংশ থেকে সংলাপ শুরু হয়, বুঝতে পারি না। নাটক শেষে পরিচালক বললেন, ‘চীনা রাজনীতির কাঠামোয় ‘প্রযোজিত।’ প্রোডাকশন-বিষয়ে পরিচালক বোঝালেন। বুঝে নিজেই আপত্তি তুলি। কাল হলো আপত্তি। শেষ অবধি আমার ওপরেই পরিচালনার দায়িত্ব বর্তায়। ...কমিউনিস্টদের মর্জিমাফিক কিছু অংশ রদবদলও করেছিলাম।

প্রশ্ন: ডেথ অব আ সেলসম্যান কি পারিবারিক কাহিনি? (আর্থার মিলারের পিতা ছিলেন ব্যবসায়ী। ছোট একটি কারখানার মালিক। দেউলিয়া হন ব্যবসায়। পিতার মৃত্যু দেউলিয়ার কারণেই।) কিংবা আমেরিকার ধনতান্ত্রিক সমাজের অন্তর্গত ছবি?

উত্তর: কোনোটাই নয়। একজন স্বপ্নচারী মানুষের মৃত্যু। যে অতীতকে নিয়ে বর্তমান, বর্তমানকে নিয়ে ভবিষ্যতের রঙ্গময় কল্পনায় নিমগ্ন এবং এই অতীত-বর্তমান ভবিষ্যতের দোলাচলে কতটা প্রাণিত, কতটা সৃজনীজগতে কীর্ণ, কতটা জীবন-সংঘাতে জীর্ণ, কতটাই–বা বস্তুর কালগ্রস্থে জারিত; দেখাতে চেয়েছি।

দাউদ হায়দার: সন্দেহ নেই, নাটকের এ রকম ট্রিটমেন্ট এই প্রথম এই ট্রিটমেন্টের আপনিই উদ্ভাবক। আবিষ্কারকর্তা।

প্রশ্ন: এতটা দাবি করি না। ঠিক যে চরিত্রের ফ্লাশব্যাক—অতীতকে টেনে এনে বর্তমানের সঙ্গে মিশিয়ে ভবিষ্যতের চৌহদ্দিতে স্থাপনা করে, দৃশ্যের মাঝে দৃশ্য গেঁথে একজন মানুষের একটি সমাজের, একটি দেশের সমস্ত ব্যবস্থাসন্ধির দর্পণালেখ্য ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছি চরিত্রের মাধ্যমে সংলাপে, অভিনয়ের কূটকৌশলে।

প্রশ্ন: ডেথ অব আ সেলসম্যান-এর চীনা ভার্সনটা কী রকম? শুনেছি, ১৯৪৮ সালে স্বয়ং হাজির ছিলেন আপনি, পিকিংয়ে। দেখেছেন।

উত্তর: চমৎকার অভিজ্ঞতা। চীনা ভাষা অজানা। প্রথম দৃশ্যের কোন অংশ থেকে সংলাপ শুরু হয়, বুঝতে পারি না। নাটক শেষে পরিচালক বললেন, ‘চীনা রাজনীতির কাঠামোয় ‘প্রযোজিত।’ প্রোডাকশন-বিষয়ে পরিচালক বোঝালেন। বুঝে নিজেই আপত্তি তুলি। কাল হলো আপত্তি। শেষ অবধি আমার ওপরেই পরিচালনার দায়িত্ব বর্তায়। ...কমিউনিস্টদের মর্জিমাফিক কিছু অংশ রদবদলও করেছিলাম।

প্রশ্ন: ডেথ অব আ সেলসম্যানই কি আপনার প্রিয় নাটক?

উত্তর: না। আ ভিউ ফ্রম দ্য ব্রিজ-কে একটু বেশি মূল্য দিই। তা ছাড়া কোন নাটকটি কখন প্রিয় হয়ে ওঠে বলা দুষ্কর। নির্ভর করে প্রোডাকশনের ওপরে। যেটা ভালো প্রোডাকশন, সেটা তখনকার মতো প্রিয়। আ মেমোরি অব টু ম্যানডেজ এবং দ্য আর্চবিশপস সিলিং এমনকি দ্য আমেরিকান ক্লক-কেও প্রিয় বলেছিলাম এক সময়, দারুণ প্রোডাকশন দেখে। পরিচালনাও ছিল আমার।

চল্লিশ-পঞ্চাশ দশকে সিনেমা দারুণ মোহ ছড়িয়েছিল গোটা বিশ্বে। ওই সময় আমেরিকায় বড় বড় স্টুডিও কন্ট্রোল করতে শুরু করে হলিউড। অভিনেতা-অভিনেত্রী, নাট্যসংলাপ লিখিয়েদের মুঠোয় পুরে ফ্যালে। ছোট ছোট নাট্যালয়, এমনকি বড় নাট্যালয় তথা স্টুডিও বন্ধ হওয়ার উপক্রম।...না ঝুঁকে দূরে থাকলে সিনেমাজগৎ অচেনাই থাকতে।

প্রশ্ন: মনে হয় কি, আপনার সিনেমার দাপটে নাটকের অক্ষপথ রুদ্ধ হয়ে আসছে।

উত্তর: নাটক ও সিনেমার সঙ্গে জড়িত আমি। কোনোটা থেকেই দূরে নই, কোনোটাই অপ্রিয় নয়। তবে ইউরোপে নাটকের প্রসার অনেক বেশি ঘন। কুড়ি-ত্রিশ বছর আগে আমরাও ভেবেছিলাম সিনেমার প্রতাপে নাটক নিশ্চিহ্ন হবে। ভাবনা অমূলক। সিনেমার প্রতি দর্শকের আগ্রহ প্রবল নয় ইদানীং। টেকনিক্যালি সিনেমা খুব উন্নত, কিন্তু আদতে সেই থোড় বড়ি খাড়া, খাড়া বড়ি থোড়। সব থ্রিলার, ক্রাইম, সেক্সের ছবির বহিরঙ্গ- অন্তরঙ্গ আদল যেন একই। সুরুচির বোদ্ধা দর্শক মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন সিনেমার পর্দা থেকে। চোখ পড়ছে নাটকের দিকে। আমেরিকা-ইউরোপে নাটকের দর্শক বাড়ছে। লক্ষ করছি তরুণেরাই বেশি আগ্রহী। নাটকের ভবিষ্যৎ ক্রমেই উজ্জ্বল।

প্রশ্ন: সিনেমার প্রতি ঝোঁকার কারণ কী আপনার?

উত্তর: চল্লিশ-পঞ্চাশ দশকে সিনেমা দারুণ মোহ ছড়িয়েছিল গোটা বিশ্বে। ওই সময় আমেরিকায় বড় বড় স্টুডিও কন্ট্রোল করতে শুরু করে হলিউড। অভিনেতা-অভিনেত্রী, নাট্যসংলাপ লিখিয়েদের মুঠোয় পুরে ফ্যালে। ছোট ছোট নাট্যালয়, এমনকি বড় নাট্যালয় তথা স্টুডিও বন্ধ হওয়ার উপক্রম।...না ঝুঁকে দূরে থাকলে সিনেমাজগৎ অচেনাই থাকতে।

প্রশ্ন: আপনি সাধারণত কখন লেখেন?

উত্তর: সকালে। ব্রেকফাস্টের আগে। এবং লাঞ্চের আগে। বিকেলে, সন্ধ্যায়, রাতে কখনোই লিখি না। বিকেলে বাগান পরিচর্যা করি। সন্ধ্যায়, রাতে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিই কিংবা বউ ছেলেমেয়েদের নিয়ে সময় কাটাই। কখনো প্রোডাকশন উপলক্ষে বাইরে যাই। এখন আমি কান্ট্রি-সাইডে থাকি।

প্রশ্ন: দারিও ফো নাটকের জন্য নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। ওর নাটক সম্পর্কে আপনার মন্তব্য কী?

উত্তর: প্রশ্নটি ওঁকেই করুন।

প্রশ্ন: নতুন কোনো নাটক লিখেছেন কি? কী নাম?

উত্তর: আগস্টেই শেষ করেছি। নাম পিটার্স কানেকশনস। দেড় ঘণ্টার ওয়ান-অ্যাক্ট নাটক। খুবই এক্সপেরিমেন্টাল। এই নতুন নাটক অধিকাংশ দর্শকই বুঝবে না। কেন মহিলার স্তন অসম্ভব রকম বড় হতে হতে গোটা শরীর ছাড়িয়ে যায়। নাটকটি নিউইয়র্কে এখন রিহার্সাল হচ্ছে। জার্মানির তিনটি শহরেও হচ্ছে। গানি উনগার এই নাটকের প্রোডাকশন নিয়েই ড্রেসডেনে কথা বলতে গিয়েছিল।

গানি উনগার: আমিও সঠিক বুঝতে পারছি না নাটক কতটুকু উৎসবে, দর্শকরাই–বা কতটা নেবে।

আর্থার মিলার: একাধিকবার দেখলে হয়তো বুঝবেন।

বার্লিন, ১৯.১০.৯৮