জন্মদিনে স্মরণ
গুন্টার গ্রাসের সাক্ষাৎকার: ‘আমি ঢাকার স্মৃতি মনে রেখেছি’
২০০৫ সালের ১৪ অক্টোবর ‘গুন্টার গ্রাসের সঙ্গে আলাপ: আমি ঢাকার স্মৃতি মনে রেখেছি’ নাসির আলী মামুনের নেওয়া এ সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয় প্রথম আলোর সাহিত্য পাতায়। আজ গুন্টার গ্রাসের জন্মদিনে সাক্ষাৎকারটি অনলাইন পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো।
নাসির আলী মামুন : মিস্টার গ্রাস, আপনি ১৮ বছর আগে বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন। আমাদের প্রত্যাশা ছিল আপনি আবারও ঢাকা ঘুরে যাবেন।
গুন্টার গ্রাস: ১৮ বছর আগে আমার বয়স আরও কম ছিল। এখন (২০০৫) আমি ৭৮ বছরের বৃদ্ধ। আমার হাতে সময় মাত্র ১০ দিন। এ সময়টাতে আমি কলকাতার প্রতি নিবিড় হতে চাই; কিন্তু আমি বাংলাদেশকে ভুলে যাইনি।
মামুন: ধন্যবাদ আপনাকে। দীর্ঘদিন পর আবার কলকাতা কেমন লাগছে?
গ্রাস: এটা অনেকটা আমার কাছে ঘরে ফেরার মতো। কলকাতা আমার দ্বিতীয় আবাস। প্রথমে আধঘণ্টা রাস্তায় হাঁটা খুব কঠিন কাজ; কিন্তু কিছুক্ষণ পর আমি কলকাতার একজন হয়ে যাই। ভুলে যাই আমি অন্য কোনো দেশের। এই সফর আমার জন্য আনন্দের।
মামুন: ১৯৮৬ সালের কলকাতা আর ২০০৫ সালের কলকাতার পার্থক্যগুলো কী কী?
গ্রাস: ১৮ বছর আগেও কলকাতায় বেশ ভিড় দেখেছিলাম। এখন সেটি আরও তীব্র হয়েছে বুঝতে পারছি। যদিও এখন আমি সারাক্ষণ গাড়িতে চড়ছি। আগের মতো আমি হেঁটে চলছি না। আগের সফরটি ছিল বেশ কঠিন। আমার জন্য একটা নতুন শহর, যেখানে জীবন ও মৃত্যুর সহাবস্থান। তবু এ শহরকে আমি নিজের মতো করে মনে করতে পেরেছি।
এবার আমি অনেকটা সম্মানজনক অবস্থায় আছি। দরকার হলে সঙ্গে সঙ্গে সাহায্যকারী জুটে যাচ্ছে। আগের মতো কোথাও হেঁটে যেতে পারছি না। আমি এখন পুরোপুরি বৃদ্ধ। নিয়তির হাতে অনেক আগেই নিজেকে সমর্পণ করেছি। গতবার কলকাতায় অনেকবার গরুর পালের রাস্তা পারাপার দেখেছি। গরু রাস্তা পার হওয়ার সময় কেউ তাদের স্পর্শ করতে পারছে না। গরু নিজেদের নিয়মেই রাস্তা পার হচ্ছে। এটা বেশ উপভোগ্য ছিল আমার কাছে। এখন শহরটি আরও বড় হচ্ছে এবং পরিবর্তিত হচ্ছে। আমি এখনো কলকাতাকে মান্য করি।
মামুন: কলকাতা কখন আপনার প্রিয় শহর হলো?
গ্রাস : সে অনেক কথা। ১৯৭৫ সালে আমি প্রথম কলকাতায় আসি। একটি প্রতিনিধিদলে থাকায় আমাকে অন্যদের সঙ্গে ব্যস্ত থাকতে হয়। ইচ্ছা থাকলেও বিশেষ কোথাও যেতে পারিনি। তখনই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, আমার স্ত্রীকে নিয়ে আবার এখানে আসব।
মামুন: ১৯৮৬ সালে এলেন...
গ্রাস: হ্যাঁ, এক বছর থাকব ভেবেছিলাম; কিন্তু পাঁচ মাস থাকার পর আমার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ে। কলকাতার পানি তার সহ্য হচ্ছিল না। আমাদের সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরে যেতে হলো। সে সময় কলকাতা বেশ ঘুরে বেড়ালাম। আমার মনে গেঁথে গেল শহরের জীবনযাত্রা ও মানুষেরা।
মামুন: আপনার বই ‘জুঙ্গে জাইগেন’ (জিভ কাটো লজ্জায়) পড়েছি। বইটিতে অনেক স্কেচ আছে। আপনার দৃষ্টিতে ঢাকা ও কলকাতার বর্ণনা আছে।
গ্রাস: আমি একজন লেখক এবং ব্যাকুল দর্শক। কলকাতায় বসেই আমার বইটির স্কেচগুলো এঁকেছি। প্রতিদিন বাইরে থেকে ঘুরে এসে লিখতে বসেছি। জার্মানি গিয়ে শুধু সম্পাদনা করেছি মাত্র। নতুন কোনো গদ্য সংযোজন করিনি।
মামুন: এটি কি ভ্রমণকাহিনি?
গ্রাস: বর্ণনামূলক কাহিনি, অনেকটা আত্মজীবনীর মতো রিপোর্টিং। ভ্রমণকাহিনি আমি লিখতে চাইনি।
মামুন: বইটি প্রকাশিত হওয়ার পর ভারতে, বিশেষ করে কলকাতায় আপনার বিরুদ্ধে কথা হয়েছে। বলা হয়েছে আপনি কলকাতাকে বুঝতে পারেননি।
গ্রাস: বইটি না পড়েও অনেকে আমার সমালোচনা করেছেন; আর যাঁরা পাঠ করে আমাকে নিন্দা করেছেন, তাঁরা বুঝতে পারেননি। আমি কলকাতার সমাজজীবন বা ইতিহাস লিখিনি। আমার ব্যক্তিগত প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছি মাত্র।
মামুন: আপনি কলকাতাকে ‘ঈশ্বরের বিষ্ঠা’ বলেছেন!
গ্রাস: বলেছি। এটা এমন নয় যে এ কারণে কলকাতাকে আমি ত্যাগ করব। তা-ই যদি হতো তাহলে ১৮ বছর পর এই বুড়ো বয়সে আবার ফিরে আসতাম না। কলকাতা নিয়ে আমি যা লিখেছি, সেগুলো আমার চোখে দেখা। কলকাতার অন্ধকার দিকগুলো নিয়ে আমি আমার বক্তব্য লিখতে পেরেছি এবং সত্য কথা লেখার জন্য আমি আনন্দিত। এটা কারও মনঃকষ্টের কারণ হতে পারে। শুনেছি, সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন এবং কয়েকজন বুদ্ধিজীবী আমার কট্টর সমালোচনা করেছেন। আবার কলকাতার অনেকে আমাকে বলেছেন, আমার বইটি পাঠ করে তাঁরা তৃপ্ত। তাঁরা সত্যিকারের কলকাতাকে দেখতে পেয়েছেন আমার লেখায়।
মামুন: আপনি নেতাজিকে নাকচ করেছেন।
গ্রাস: আমার মাথায় আসে না, কীভাবে এ লোকটি বাঙালিদের নায়ক হয়ে রইলেন। তিনি ভারতবর্ষ থেকে ব্রিটিশদের তাড়ানোর জন্য জার্মানিতে গিয়েছিলেন হিটলারের সঙ্গে সন্ধি করতে। তোমাদের কি মনে হয়, হিটলার এসে ভারতকে ব্রিটিশদের কবল থেকে মুক্ত করে দিত? হিটলার ছিলেন একনায়ক ও স্বৈরাচার। তাঁকে বন্ধু ভাবা সুভাষচন্দ্রের রাজনৈতিক অদূরদর্শিতা ছাড়া আর কিছুই নয়। আমি বিস্মিত হই, এখনো পশ্চিমবাংলায় সুভাষচন্দ্র কিংবদন্তি হয়ে আছেন।
মামুন: আপনি কি মনে করেন নেতাজি সম্পর্কে আপনার মন্তব্যে কলকাতাবাসী ক্ষুব্ধ?
গ্রাস: ঈশ্বর জানেন, আমি জানি না। কলকাতায় একটা ব্যাপার লক্ষ৵ করেছি, গান্ধীর চেয়ে সুভাষচন্দ্র বসুকে বড় করে দেখা হয়। গান্ধী অনেক উদার এবং বুদ্ধিমান ছিলেন। সুভাষচন্দ্র ছিলেন চরমপন্থী। তাঁর মধ্যে প্রজ্ঞার ঘাটতি ছিল।
মামুন: তিনি কৌশলী ছিলেন না?
গ্রাস: একদম না। দয়া করে এ ব্যাপারে আর কোনো প্রশ্ন কোরো না।
মামুন: আপনি আর কত দিন কলকাতায় থাকবেন?
গ্রাস: ২ তারিখে (ফেব্রুয়ারি) আমি ফিরে যাব জার্মানি। আমার এক মেয়ে কিছুদিন থেকে যাবে কলকাতায়।
মামুন: তিনি কী করবেন এখানে?
গ্রাস: সে ড্যান্সার। এখান থেকে কিছু শিখতে চায়।
মামুন: এবার আপনার সঙ্গে আপনার দুই মেয়ে আছেন। আপনার স্ত্রী এলেন না কেন?
গ্রাস: আমার স্ত্রী অসুস্থ। তিনি এখন শারীরিক কারণে ভ্রমণ করতে পছন্দ করেন না। আমার দুই মেয়ে কলকাতা খুব পছন্দ করেছে। তারা বাইরে যাচ্ছে, রাস্তায় হাঁটছে এবং মার্কেটে যাচ্ছে নিজেরাই। বেশ উপভোগ করছে ওরা।
মামুন: আপনি ১৯৮৬ সালে ঢাকায় বলেছিলেন, তোমরা চাঁদ দেখতে পাও, কলকাতাবাসী দেখতে পারে না।
গ্রাস: হাহ্ হাহ্ হাঃ হাহ হাঃ। আমার মনে নেই।
মামুন: এখন নতুন কিছু বলবেন কলকাতার বর্তমান সম্পর্কে?
গ্রাস: আমি ভারতের একটা উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখি বিশ্বের পটভূমিতে। ভারত এখন কারও মুখাপেক্ষী হয়ে না থেকেই এগিয়ে যেতে পারছে।
আমি যখন প্রথম ভারতে এসেছিলাম, তখন ভারতের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৬৫০ মিলিয়ন, এখন প্রায় এক হাজার মিলিয়ন। এ অঞ্চলের জন্য ভারতের ভূমিকা হওয়া উচিত জাতিসংঘের মতো। এটা আমি আশাও করি। আমাদের মনে রাখতে হবে, বিলি ব্র্যান্ডের মতো রাজনীতিবিদ সারা বিশ্বের কথা ভেবে তার বৈদেশিক নীতির নকশা করতেন। ভারতে গান্ধীকে স্মরণ করা উচিত। এটাও আমি জানি, পশ্চিমবাংলায় গান্ধীর মূল্য কম। এখানে সুভাষচন্দ্র বসু অনেক বড়। গান্ধী ভারতের স্বাধীনতার ব্যাপারে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছিলেন।
মামুন: আপনি এখন কী কাজ করেন?
গ্রাস: অনেক কাজ আমি করি। আমার প্রথম পেশা ছিল ভাস্কর্য করা, গ্রাফিকসের কাজও করেছি। কবিতাও লিখতাম শুরু থেকে এবং সব সময় কবিতার কাছে ফিরে আসতে হয়েছে আমাকে। কারণ, কবিতা এমন একটি শিল্প, যেখানে আমি প্রতিনিয়ত নিজেকে আবিষ্কার করতে পারি। যখন আমি তিন-চার বছর উপন্যাস লিখেছি, তখন বিষয় পরিবর্তন করে কবিতা লিখতে আরম্ভ করে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করেছি এবং নতুন চিন্তা ও অভিজ্ঞতায় সিক্ত হয়েছি বারবার।
মামুন: কবিতা ও উপন্যাস কোনটাকে বেশি গুরুত্ব দেন?
গ্রাস: আমি বলতে পারি না কোনটা গুরুত্বপূর্ণ। আমি শুধু একজন কবি বা লেখক নই। আমি আমার দেশের একজন রাজনীতিসচেতন নাগরিকও। আমার অনেক বক্তব্য, আমার প্রতিবাদ কবিতা ছাড়াও উপন্যাসের মাধ্যমেও উপস্থাপন করি।
মামুন: আপনার মাই সেঞ্চুরি সম্পর্কে বলুন।
গ্রাস: হোহ্ হোহ্ হাহ্ হাহ্ হা। ১০ কেজি ওজনের বইটি। ‘আমার দেখা এবং আমার জানা ১০০ বছর’ বইটিতে আমার মতো করে বর্ণনা করেছি। অসংখ্য ছবি আছে সেখানে। বইটি আমি সঙ্গে করে নিয়ে এসেছি এখানে। এটা আমার বর্ণনামূলক আত্মজীবনী।
মামুন: বইটিতে বাংলাদেশের কথা আছে?
গ্রাস: বাংলাদেশের কথা আছে, ছবি আছে ঢাকার।
মামুন: ঢাকার কথা বলুন।
গ্রাস: আমি নতুন করে আর কী বলব। লিখেছি বাংলাদেশ নিয়ে, সব আছে ‘জুঙ্গে জাইগেন’-এ।
মামুন : নোবেল পুরস্কার পাওয়ার ব্যাপারে আপনার অনীহা ছিল। ঢাকায় বলেছিলেন, নোবেল নিয়ে আমরা কেন এত মাতামাতি করি!
গ্রাস: সময়ে সব বদলে যায়। যদি তুমি সচেতন হও, তোমার দেখা দরকার, কোনো মানুষের বদলে যাওয়া বা আগের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা মানবজাতি বা ওই ব্যক্তির জন্য ক্ষতিকর বা অকল্যাণকার হচ্ছে কি না, যদি হয় তাহলে বদলে যাওয়ার চক্রটা অন্যায়। আমি এখনো প্রতিবাদ করি, সব সময় করেছি এবং মানুষের পক্ষে কথা বলি।
মামুন: আবার ঢাকায় আসবেন?
গ্রাস: আমার বয়স হয়তো আর সমর্থন করবে না স্মৃতিকাতর হয়ে পড়ি এমন কোথাও যেতে। কলকাতায় আসতে ১৮ বছর কেটে গেল। একজন মানুষের জীবনে সবকিছু সফল হয় না।
মামুন: আপনার নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর বাংলাদেশ থেকে এ বইটি (গুন্টার গ্রাসের ঢাকা আবিষ্কার) প্রকাশিত হয়েছে। বইটিতে আপনার একটা অটোগ্রাফ চাচ্ছি।
গ্রাস: আগে দেখি কী আছে ওতে। ওয়াও! চমত্কার সব ছবি। বইটির একটি কপি আমাকে দিতেই হবে। এটা আমার চাই। আমার স্ত্রী উটে ছবিগুলো দেখে খুবই খুশি হবেন।
মামুন: (বইয়ের পৃষ্ঠা খুলে) এ ছবিটায় আপনি কবি বেলাল চৌধুরীর মেয়ে মৌরীর মুখের ড্রয়িং করছেন। ও তখন ছোট্টটি ছিল। এখন তো বিয়েও হয়ে গেছে।
গ্রাস: একসময় সবার বিয়ে হয়ে যায়।
মামুন: এ ছবিতে (তাঁকে দেখিয়ে) বেলাল চৌধুরী, আপনি আর শিল্পী এস এম সুলতান—আমাদের সদরঘাটে তোলা। শিল্পী সুলতান মারা গেছেন। আপনি তার একটি স্কেচ করেছিলেন।
গ্রাস: আমার মনে পড়ছে তোমার তোলা ছবি দেখে। ঢাকায় গিয়ে বেলালকে আমার শুভেচ্ছা জানাবে। ঢাকার স্মৃতি বেশ মনে আছে উটের। আমার বাড়িতে ঢাকার অনেক আলোকচিত্র আছে। সব সাদা-কালো। উটের ক্যামেরায় তোলা।
মামুন: এ ছবিটা (তাঁকে দেখিয়ে) কবি ত্রিদিব দস্তিদার এঁকে আপনাকে দিয়ে স্বাক্ষর করে নিয়েছিল?
গ্রাস: ছবিটা আমার আঁকা মনে হচ্ছে।
মামুন: না, শুধু স্বাক্ষরটা আপনার। ত্রিদিবও সম্প্রতি মারা গেছেন।
গ্রাস: ভেরি স্যাড। আমি শুনেছি, মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্পের স্কুলে আমার পাঠানো অর্থে গোঁড়া ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে ছাত্রদের! তাই গত বছর থেকে আমার নিয়মিত অনুদান বন্ধ করে দিয়েছি।
মামুন: কীভাবে খবরটা পেলেন?
গ্রাস: আমার কিছু শুভানুধ্যায়ী আমাকে জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে তুমি কিছু জানো?
মামুন: আমি যতটুকু জানি, ঢাকার মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে একটি প্রাইমারি স্কুল আছে, সেখানে এ ধরনের কোনো শিক্ষা দেওয়া হয় না।
গ্রাস: আমাকে তো বিশ্বস্ত লোকেরা বলেছে।
মামুন: ঢাকার রিকশার চেহারা আপনার মনে আছে?
গ্রাস: ওহ্ আমার ঈশ্বর! অমানবিক কলকাতার টাঙা আর ঢাকার রিকশা একই জিনিস। তোমাদের যানবাহনের চিত্রগুলো আমাকে আকৃষ্ট করেছিল। উটের ক্যামেরায় ঢাকার রাস্তাঘাটের কিছু আলোকচিত্র আছে, সেখানে বেশির ভাগ যানবাহন রিকশা।
মামুন: আপনার ‘ওয়ান ন্যাশন টু স্টেটস’ পড়েছি।
গ্রাস: বার্লিন প্রাচীর ভেঙে ফেলা হলেও এখনো অদৃশ্য প্রাচীর রয়ে গেছে। সাবেক পূর্ব জার্মানি এখনো উপেক্ষিত। সেখানে বেকারের সংখ্যা অত্যধিক। তার ফলে বাড়ছে আমাদের করের বোঝা।
মামুন: বাংলাদেশে আপনার পাঠক আছে, ভক্ত আছে।
গ্রাস: ১৯৮৬ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশে আমাদের সফর ছিল সংক্ষিপ্ত। তারপরও তোমাদের শুভকামনা ও আতিথেয়তার কথা মনে করি। ওই সময় যাদের সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়েছিল, তাদের সবাইকে শুভেচ্ছা জানাবে। আমি ঢাকার স্মৃতি মনে রেখেছি।
মামুন: এখন আপনার শখ কী?
গ্রাস: এই যে পাইপ। এটা আমার শরীরের অংশ হয়ে গেছে। তোমার ছবিতে যে পাইপটি সেটা হারিয়ে গেছে অনেক বছর আগে। তারপর থেকে এটা ব্যবহার করছি।
সাক্ষাৎকার গ্রহণ: নাসির আলী মামুন