রোমান্টিক যুগের কবি জন কিটসের হাতে লেখা আটটি প্রেমপত্র আবার ফিরে এসেছে আসল মালিকের পরিবারের কাছে। ১৯৮০ দশকে নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে জন হে হুইটনির বাড়ি থেকে এসব চিঠি চুরি হয়েছিল। দীর্ঘ তদন্তের পর সম্প্রতি সেগুলো উদ্ধার করে তাঁর উত্তরাধিকারীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
এই চিঠিগুলো লেখা হয়েছিল ১৮১৯ থেকে ১৮২০ সালের মধ্যে। এগুলো ছিল কিটসের জীবনের খুব ব্যক্তিগত সময়ের স্মৃতি। এগুলো তিনি লিখেছিলেন তাঁর প্রেমিকা ও অনুপ্রেরণা ফানি ব্রাউনকে।
লন্ডনের হ্যাম্পস্টেডে ফানি ব্রাউন ছিলেন কিটসের প্রতিবেশী। সেখান থেকেই তাঁদের পরিচয়, এরপর গভীর প্রেম। কিটস তাঁর কবিতা ও চিঠিতে ব্রাউনকে একধরনের ‘অনুপ্রেরণার দেবী’ হিসেবেই তুলে ধরেছিলেন।
কিটসের নাম শুনলেই যে কবিতাগুলো মনে পড়ে—ওড টু এ নাইটিঙ্গেল, ওড অন এ গ্রেশিয়ান আর্ন এবং টু অটাম। এই কবিতাগুলো যেমন সাহিত্যজগতে অমর, তেমনি তাঁর এই প্রেমপত্রগুলোও আলাদা গুরুত্ব রাখে। এখানে প্রেমের টান আর বিচ্ছেদের কষ্ট দুটোই খুব স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে।
চুরি হওয়া এই চিঠিগুলো নতুন করে সামনে আসে ২০২৫ সালের শুরুতে। ম্যানহাটনে এক ব্যক্তি এগুলো বিক্রির চেষ্টা করলে বই ব্যবসায়ীদের সন্দেহ হয়। পরে তাঁরা বিষয়টি স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে জানান।
দুজনের সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত বিয়েতে গড়ানোর আগেই থেমে যায়। কারণ, কিটস ১৮২১ সালে মাত্র ২৫ বছর বয়সে যক্ষ্মায় মারা যান। পরে ১৮৬৫ সালে ব্রাউনের মৃত্যুর পর তাঁর সন্তানেরা চিঠিগুলো সংরক্ষণ করে এবং ১৮৮৫ সালে নিলামে বিক্রি করে দেয়। সেই ঘটনাই আবার অনুপ্রাণিত করেছিল লেখক অস্কার ওয়াইল্ডকে একটি সনেট লিখতে।
চুরি হওয়া এই চিঠিগুলো নতুন করে সামনে আসে ২০২৫ সালের শুরুতে। ম্যানহাটনে এক ব্যক্তি এগুলো বিক্রির চেষ্টা করলে বই ব্যবসায়ীদের সন্দেহ হয়। পরে তাঁরা বিষয়টি স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে জানান।
ম্যানহাটনের ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অ্যালভিন ব্রাগ বলেন, নিউইয়র্ক বিশ্বের অন্যতম সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হলেও চুরি হওয়া জিনিসপত্র এর সুনাম নষ্ট করে। তাই এসবের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের নির্দেশে চিঠিগুলো ফিরিয়ে দেওয়া হয় জন হে হুইটনি পরিবারের কাছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
গ্রন্থনা: রবিউল কমল