নারী লেখকদের সাহিত্যের আন্তর্জাতিক মঞ্চ

উইমেন্স প্রাইজ ২০২৬–এর দীর্ঘ তালিকায় স্থান পাওয়া ফিকশন ও নন–ফিকশন বইছবি: উইমেন্সপ্রাইজ.কম

বুকার পুরস্কার বা নোবেল পুরস্কারের নাম বিশ্বসাহিত্যের পাঠকদের কাছে খুবই পরিচিত। প্রতিবছর এই পুরস্কারগুলোর ঘোষণার দিকে তাকিয়ে থাকেন পাঠক, সমালোচক ও প্রকাশকেরা। কিন্তু সমকালীন বিশ্বসাহিত্যে এমন আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার আছে, যেগুলো তুলনামূলক কম আলোচিত হলেও সাহিত্যিক পরিসরকে বিস্তৃত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে। তেমনই একটি পুরস্কার—উইমেন্স প্রাইজ।

নারী লেখকের সাহিত্যকে বিশ্বপাঠকের কাছে উপস্থাপনের লক্ষ্যে ১৯৯৬ সালে এই পুরস্কার প্রবর্তন করা হয়। এ পুরস্কার প্রবর্তিত হওয়ার পেছনে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও সমকালীন বাস্তবতার অভিঘাত রয়েছে। সেটা এই যে সাধারণত দেখা যায়, বড় ও নামী সাহিত্য পুরস্কারের তালিকায় নারী লেখকদের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম। আর সেই অসমতার প্রতিক্রিয়া হিসেবেই এই পুরস্কারের আবির্ভাব। বর্তমানে এটি বিশ্বজুড়ে নারী লেখকদের সাহিত্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এক আন্তর্জাতিক মঞ্চ। উইমেন্স প্রাইজ ট্রাস্টের লক্ষ্য শুধু পুরস্কার দেওয়া নয়, বরং বইয়ের জগতে নারীদের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করা এবং পাঠকের সামনে তাঁদের লেখা তুলে ধরা। প্রতিষ্ঠার পর থেকে শত শত নারী লেখককে এই পুরস্কারের মাধ্যমে নতুন পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে উইমেন্স প্রাইজের অধীনে দুটি বিভাগ রয়েছে। ‘উইমেন্স প্রাইজ ফর ফিকশন’ এবং ‘উইমেন্স প্রাইজ ফর নন-ফিকশন’। ফিকশন বিভাগটি পুরোনো। এটি ইংরেজি ভাষায় রচিত সেরা উপন্যাস বা কথাসাহিত্যকে সম্মান জানায়। অন্যদিকে নন-ফিকশন বিভাগটি চালু হয়েছে সম্প্রতি।

এই পুরস্কারের মাধ্যমে ইতিমধ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বই বিশ্বব্যাপী আলোচনায় এসেছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ম্যাডেলিন মিলারের দ্য সং অব অ্যাকিলিস, বার্নার্ডিন এভারিস্টোর গার্ল, উওম্যান, আদার, কিংবা সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েল ভ্যান ডার ভাউডেনের দ্য সেফকিপ, যা ২০২৫ সালের উইমেন্স প্রাইজ ফর ফিকশন পেয়েছে।

বর্তমানে উইমেন্স প্রাইজের অধীনে দুটি বিভাগ রয়েছে। ‘উইমেন্স প্রাইজ ফর ফিকশন’ এবং ‘উইমেন্স প্রাইজ ফর নন-ফিকশন’। ফিকশন বিভাগটি পুরোনো। এটি ইংরেজি ভাষায় রচিত সেরা উপন্যাস বা কথাসাহিত্যকে সম্মান জানায়। অন্যদিকে নন-ফিকশন বিভাগটি চালু হয়েছে সম্প্রতি। এই বিভাগে ইতিহাস, রাজনীতি, বিজ্ঞান, স্মৃতিকথা, সংস্কৃতি বা সমকালীন বিশ্লেষণধর্মী নানা ধরনের নন-ফিকশন বইকে বিবেচনায় নেওয়া হয়। দুটি বিভাগেই বিচারকেরা মূলত সাহিত্যিক উৎকর্ষ, মৌলিকতা এবং পাঠযোগ্যতা—এই তিন বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করেন।

২০২৫ সালের উইমেন্স প্রাইজ ফর ফিকশন প্রাপ্ত বই ‘দ্য সেফকিপ’
ছবি: উইমেন্সপ্রাইজ.কম

উইমেন্স প্রাইজের পেছনে কাজ করছে উইমেন্স প্রাইজ ট্রাস্ট নামের একটি স্বাধীন অলাভজনক সংস্থা। বইয়ের জগতে নারী লেখকদের আরও দৃশ্যমান করে তোলা তাদের অন্যতম লক্ষ্য। নতুন পাঠকের কাছে ভালো লেখা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই তারা এই তালিকাগুলোকে প্রকাশ করে থাকে। ট্রাস্টটি বইকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন আলোচনা, পাঠ উদ্যোগ এবং সাহিত্যিক কার্যক্রমও পরিচালনা করে থাকে। উইমেন্স প্রাইজ ফর ফিকশন ও উইমেন্স প্রাইজ ফর নন-ফিকশন—দুটি বিভাগেই বিজয়ী লেখককে দেওয়া হয় ৩০ হাজার পাউন্ড পুরস্কার অর্থ। এর সঙ্গে প্রদান করা হয় ‘বেসি’ নামে পরিচিত একটি ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য। প্রতিবছরই লন্ডনে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে এই পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।

২০২৬ সালের উইমেন্স প্রাইজের কার্যক্রম ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। নন-ফিকশন বিভাগের দীর্ঘ তালিকা প্রকাশিত হয়েছে ১১ ফেব্রুয়ারি, আর ৪ মার্চ প্রকাশিত হয়েছে ফিকশন বিভাগের দীর্ঘ তালিকা। প্রতিবছর জমা পড়া অসংখ্য বই থেকে বিচারকেরা ১৬টি বই নিয়ে তৈরি করেন দীর্ঘ তালিকা। এরপর এই তালিকা থেকে ছয়টি বই নিয়ে তৈরি করা হয় সংক্ষিপ্ত তালিকা। ২০২৬ সালের ফিকশন বিভাগের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ হবে ২২ এপ্রিল। নন-ফিকশন বিভাগের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশিত হবে ২৫ মার্চ। আর দুই বিভাগেরই বিজয়ী ঘোষণা করা হবে ১১ জুন লন্ডনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে।

উইমেন্স প্রাইজ ফর ফিকশন ২০২৬ – দীর্ঘ তালিকা

১. গ্লোরিয়া ডোন্ট স্পিক — লুসি অ্যাপস

২. প্যারাডিসো ১৭ — হান্না লিলিথ আসাদি

৩. মডারেশন — এলেইন কাস্তিলো

৪. ফ্ল্যাশলাইট — সুসান চয়

৫. ডমিনিয়ন — অ্যাডি ই কিচেন্স

৬. দ্য বেনিফ্যাক্টরস — ওয়েন্ডি এরস্কিন

৭. দ্য করেসপনডেন্ট — ভার্জিনিয়া ইভান্স

৮. দ্য মার্সি স্টেপ — মার্সিয়া হাচিনসন

৯. দ্য আদার্স — শীনা কালায়িল

১০. কিংফিশার — রোজি কেলি

১১. হার্ট দ্য লাভার — লিলি কিং

১২. অডিশন — কেটি কিতামুরা

১৩. আ গার্ডিয়ান অ্যান্ড আ থিফ — মেঘা মজুমদার

১৪. ওয়াইল্ড ডার্ক শোর — শার্লট ম্যাককনাঘি

১৫. দ্য বেস্ট অব এভরিথিং — কিট ডি ওয়াল

১৬. আ বিস্ট স্লিঙ্কস টুওয়ার্ডস বেইজিং — অ্যালিস ইভলিন ইয়াং

উইমেন্স প্রাইজ ফর নন-ফিকশন ২০২৬ – দীর্ঘ তালিকা

১. ডটার্স অব দ্য ব্যাম্বু গ্রোভ : চায়না’স স্টোলেন চিলড্রেন অ্যান্ড আ স্টোরি অব সেপারেটেড টুইনস — বারবারা ডেমিক

২. দ্য ফাইনেস্ট হোটেল ইন কাবুল: আ পিপলস হিস্ট্রি অব আফগানিস্তান — লাইস ডুসে

৩. ডোন্ট লেট ইট ব্রেক ইউ, হানি: আ মেমোয়ার অ্যাবাউট সেভিং ইয়োরসেলফ — জেনি ইভান্স

৪. আর্ট কিউর: দ্য সায়েন্স অব হাউ দ্য আর্টস ট্রান্সফর্ম আওয়ার হেলথ — ডেইজি ফ্যানকোর্ট

৫. উইথ দ্য ল অন আওয়ার সাইড: হাউ দ্য ল ওয়ার্কস ফর এভরিওয়ান অ্যান্ড হাউ উই ক্যান মেক ইট ওয়ার্ক বেটার — লেডি হেল

৬. টু বি ইয়াং, গিফটেড অ্যান্ড ব্ল্যাক: ক্রিয়েটিভিটি অ্যান্ড রেস ইন দ্য টুয়েন্টি-ফার্স্ট সেঞ্চুরি — কাদিয়াতু কানেহ-মেসন

৭. আর্টিস্টস, সিবলিংস, ভিশনারিজ: দ্য লাইভস অ্যান্ড লাভস অব গওয়েন অ্যান্ড অগাস্টাস জন — জুডিথ ম্যাকরেল

৮. আস্ক মি হাউ ইট ওয়ার্কস: লাভ ইন অ্যান ওপেন ম্যারেজ — দীপা পল

৯. ডেথ অব অ্যান অর্ডিনারি ম্যান — সারাহ পেরি

১০. দ্য জিনিয়াস অব ট্রিজ: হাউ ট্রিজ মাস্টার্ড দ্য এলিমেন্টস অ্যান্ড শেইপড দ্য ওয়ার্ল্ড — হ্যারিয়েট রিক্স

১১. হোটেল এক্সাইল: প্যারিস ইন দ্য শ্যাডো অব ওয়ার — জেন রোগইস্কা

১২. মাদার মেরি কামস টু মি — অরুন্ধতী রায়

১৩. ফাইন্ডিং অ্যালবিয়ন: মিথ, ফোকলোর অ্যান্ড দ্য কোয়েস্ট ফর আ হিডেন ব্রিটেন — জাকিয়া সিউয়েল

১৪. টু এক্সিস্ট অ্যাজ আই অ্যাম: আ ডক্টরস নোটস অন রিকভারি অ্যান্ড র‍্যাডিক্যাল অ্যাকসেপ্টেন্স — গ্রেস স্পেন্স গ্রিন

১৫. নেশন অব স্ট্রেঞ্জার্স: রিবিল্ডিং হোম ইন দ্য টোয়েন্টি-ফার্স্ট সেঞ্চুরি — এজে তেমেলকুরান

১৬. ইনডিগনিটি: আ লাইফ রিইমাজিনড — লেয়া ইপি

সূত্র: উইমেন্সপ্রাইজ.কম