বিশ্বসাহিত্যে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে লেখা অনেক বই প্রকাশিত হয়েছে। ১৯১৪–১৮ সালের ‘গ্রেট ওয়ার’-এর প্রধান লেখকেরা ছিলেন মূলত কবি। অন্যদিকে ১৯৩৯–৪৫ সালের যুদ্ধে আমরা পাই ঔপন্যাসিকদের নাম। এই বিভাজন কেন? কেন প্রথম বিশ্বযুদ্ধ কবিতায় আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ উপন্যাসে ধরা পড়ল?
এর একটি বড় কারণ ১৯২২ সালের পর কবিতার অবস্থান বদলে যাওয়া। সে বছর টি এস এলিয়টের দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড প্রকাশিত হয়। আধুনিক কবিতা তখন থেকেই কঠিন হয়ে ওঠে। যদিও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে কিথ ডগলাস, অ্যালান লুইস, হেনরি রিড কিছু দারুণ কবিতা লিখেছেন। তবে সন্দেহ নেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ছিল ঔপন্যাসিকদের দখলে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে লেখা যে ১৪ উপন্যাস পড়তে পারেন সেগুলো—এভলিন ওয়াহের ‘সোর্ড অব অনার ট্রিলজি’, জোসেফ হেলারের ‘ক্যাচ-২২’, নরম্যান মেইলারের ‘দ্য নেকেড অ্যান্ড দ্য ডেড’, এলিজাবেথ বোয়েনের ‘দ্য হিট অব দ্য ডে’, অ্যান্থনি রোডসের ‘সোর্ড অব বোন’, ভ্যাসিলি গ্রসম্যানের ‘লাইফ অ্যান্ড ফেট’, আরউইন শর ‘দ্য ইয়াং লায়ন্স’, গাই সাজের ‘দ্য ফরগটেন সোলজার’, অলিভিয়া ম্যানিংয়ের ‘দ্য বলকান ট্রিলজি’, লেন ডেইটনের ‘বোম্বার’, জেমস ক্ল্যাভেলের ‘কিং র্যাট’, নিকোলাস মনসাররাতের ‘দ্য ক্রুয়াল সি’, ওয়াল্টার কেম্পোস্কির ‘অল ফর নাথিং’ ও আইরিন নেমিরোভস্কির ‘স্যুট ফ্রাঙ্কেস’।
এই লেখকেরা মূলত নিজেদের জীবনকথাকেই রূপ দিয়েছেন কথাসাহিত্যে।
এভলিন ওয়াহ ১৯৪১ সালে গ্রিসের ক্রিটে আইল্যান্ডের একজন কমান্ডো অফিসার ছিলেন। তাঁর সোর্ড অব অনার ট্রিলজিতে তিনি পরাজয় এবং পরবর্তী সময়ে ভয়াবহভাবে দেশত্যাগের ঘটনা সম্পর্কে লিখেছেন। এলিজাবেথ বোয়েনের দ্য হিট অব দ্য ডে ব্লিটজ একজন নাৎসি গুপ্তচরের কাহিনি।
এইচ এইচ কার্স্ট তাঁর গানার অ্যাশ-এ রাশিয়া ফ্রন্টে থাকা এক সাধারণ জার্মান সেনার প্রতিদিনের ভোগান্তি তুলে ধরেন। নরম্যান মেইলারের দ্য নেকেড অ্যান্ড দ্য ডেড হলো প্রশান্ত মহাসাগরে জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত মার্কিন সেনাদের নির্মম বাস্তবতার চিত্র।
জোসেফ হেলারের ক্যাচ-২২ সম্ভবত নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে মানবসংঘাতকে চিত্রিত করার সেরা উদাহরণ। ইতালিতে অবস্থানরত মার্কিন বিমানবাহিনীর বোমারু স্কোয়াড্রনের জীবন নিয়ে লেখা এই উপন্যাসে নায়ক জন ইয়োসারিয়ান পাগল সাজতে চায়, যেন তাকে আর যুদ্ধমিশনে যেতে না হয়।
সূত্র: সানডে টাইমস
• গ্রন্থনা: রবিউল কমল