ফেসবুকে হুমায়ূন আহমেদের নামে পেজ আছে ১৫৭টি, যার মধ্যে বাংলা নামে আছে ৯৫টি আর ইংরেজি নামে ৬২টি। অন্যদিকে কিংবদন্তি এই লেখকের নামে ফেসবুক গ্রুপ আছে ৯৬২টি! এর মধ্যে বাংলা নামে আছে ৭৫৯টি এবং ইংরেজি নামে ২০৩টি। (ফেসবুকের সার্চ অপশন ব্যবহার করে এই পেজ ও গ্রুপগুলো পাওয়া গেছে। সংখ্যাগুলো সামান্য কমবেশি হতে পারে)।

হুমায়ূনকে নিয়ে সবচেয়ে বড় গ্রুপটির নাম ‘হুমায়ূন আহমেদের উক্তি’। এর সদস্যসংখ্যা ৫ লাখ ৮১ হাজার ২০০। প্রতিদিন এই বিশালসংখ্যক সদস্য হুমায়ূন আহমেদের গল্প, উপন্যাস, নাটক ও চলচ্চিত্র থেকে নেওয়া বিভিন্ন উক্তি শেয়ার করেন। মন্তব্যের ঘরে সেই উক্তি নিয়ে আরও অনেকে আলোচনা করেন। এটি একটি প্রাইভেট গ্রুপ।

হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রুপটিও একটি প্রাইভেট গ্রুপ। নাম শুধুই ‘হুমায়ূন আহমেদ’। সদস্যসংখ্যা ৫ লাখ ৭০ হাজার ৫০০। প্রতিদিন গড়ে ৪৪টি পোস্ট করা হয় এই গ্রুপে।

এরপর ‘হুমায়ূন আহমেদ সমগ্র’ নামে একটি পাবলিক গ্রুপের সন্ধান পাওয়া গেল, যার সদস্য সংখ্যা ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৩৯৫। প্রতিদিন গড়ে এই গ্রুপে ৩৭৭টি পোস্ট করা হয়। নামে হুমায়ূন আহমেদ সমগ্র হলেও গ্রুপটি আসলে বিশ্ব সমগ্র। এখানে ভারতীয় বিজ্ঞানী এ পি জে আবদুল কালামের উক্তি থেকে শুরু করে অনেককে নিয়ে পোস্ট দেওয়া হয়।

তবে বেশির ভাগ গ্রুপেই হুমায়ূন আহমেদ শুধু শিরোনামে টিকে আছেন আর ঝুলে আছেন কাভার ফটোতে। এসব গ্রুপের কর্মকাণ্ডে হুমায়ূন আহমেদের উপস্থিতি খুব সামান্যই। সেখানে আফরান নিশোর নাটকের ক্লিপ থেকে শ্রীলঙ্কার বিক্ষোভ, পদ্মা সেতুর ছবি—সবই শেয়ার করা হতে দেখা যায়।

সেই তুলনায় পেজগুলোর অবস্থা কিছুটা ভালো। হুমায়ূন আহমেদের নামে যা খুশি তাই পোস্ট করা হচ্ছে না অন্তত। জনপ্রিয় এই লেখকের নামে ফেসবুকে সবচেয়ে বড় যে পেজটি পাওয়া গেল, তার নাম ‘হুমায়ূন আহমেদ’। ফলোয়ার সংখ্যা ৪ লাখ ৬১ হাজার। সেখানে হুমায়ূন আহমেদের হিজিবিজি বই থেকে তাঁর মাকে নিয়ে লেখা একটি অংশ পিন পোস্ট করা আছে।

এই পেজে হুমায়ূন আহমেদের বিভিন্ন বই থেকে যেমন লেখা পোস্ট করা হয়, তেমনি পেজের ফলোয়ারদের স্বরচিত গল্প-কবিতাও পোস্ট করা হয়। মন্তব্যের ঘরে সাহিত্য মান, ভালো-মন্দ এসব নিয়ে আলোচনা চলে।

কিন্তু শিরোনামে হুমায়ূনের নাম নেই—এমন সাহিত্যকেন্দ্রিক গ্রুপ ও পেজগুলোতেই হুমায়ূনকে নিয়ে কার্যকর চর্চা চলছে বেশি। যেমন ‘পেন্সিল’, ‘বইপোকাদের আড্ডাখানা’, ‘ক্যানভাস’, ‘ইন্টারন্যাশনাল রিডার সোসাইটি’, ‘প্রতিকথা’, ‘বই বার্তা’, ‘বইরাগ’, ‘বই হাট’, ‘বইপোকা’, ‘বইচারিতা’, ‘হিমু পরিবহন’, ‘বই লাভারস পোলাপান’ ইত্যাদি। এসব গ্রুপে হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্য নিয়ে দারুণভাবে চর্চা এবং হুমায়ূনের বিভিন্ন প্রসঙ্গ ধরে আলোচনা হতে দেখা যায়।

নন্দিত এই লেখকের জন্মদিন-মৃত্যুদিন ঘিরে সেই আলোচনাটা আরও তুঙ্গে ওঠে। গ্রুপে গ্রুপে তাঁর বই নিয়ে হয় রিভিউ প্রতিযোগিতা। বই নিয়ে ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতা হয়, অডিও-ভিডিও রিভিউ প্রতিযোগিতা হয়, হুমায়ূন স্মরণে হয় লাইভ আলোচনা অনুষ্ঠান। এ ছাড়া তাঁর বিপুল পাঠকগোষ্ঠী তো হুমায়ূনকে নিয়ে নিজেদের অনুভূতির কথা লেখেনই। সবাই যে গ্রুপ আর পেজে লেখেন, তা নয়; নিজ নিজ টাইমলাইনেও লেখেন।

এভাবেই ফেসবুকের দুনিয়ায় প্রতিদিন নতুনভাবে জীবন্ত হয়ে ওঠেন হুমায়ূন আহমেদ।

অন্যান্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন