আন্তর্জাতিক সাহিত্যাঙ্গনের চলমান ধারা ও পাঠকদের রুচি বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান। সাম্প্রতিক এই প্রতিবেদনে বিশ্বখ্যাত লেখক, সমালোচক এবং সাধারণ পাঠকদের কাছ থেকে সংগৃহীত মতামতের ভিত্তিতে জানানো হয়েছে ২০২৬ সালের শুরুতে তাঁরা কোন বইগুলো পড়ছেন এবং কোন ধরনের সাহিত্য পাঠকদের বেশি আকর্ষণ করছে।
গত ৩০ জানুয়ারি প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে অংশ নিয়েছেন বুকার পুরস্কারজয়ী লেখক জর্জ সন্ডার্স, এরিন সোমার্সসহ একাধিক সমসাময়িক লেখক ও গার্ডিয়ানের নিয়মিত পাঠক। এতে উঠে এসেছে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং সামাজিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে পাঠকেরা আগের চেয়ে বেশি করে মানবিক, অন্তর্মুখী ও বাস্তবতানির্ভর সাহিত্য বেছে নিচ্ছেন।
গার্ডিয়ানের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসে পাঠকদের মধ্যে বিশেষভাবে জনপ্রিয় ছিল স্মৃতিকথা, প্রবন্ধ সংকলন এবং সাহিত্যিক ফিকশন। বেশির ভাগ পাঠক জানিয়েছেন, তাঁরা এমন বই খুঁজছেন, যা একদিকে মানসিক আশ্রয় দেয়, অন্যদিকে বর্তমান সময়কে গভীরভাবে বুঝতে সাহায্য করে। জলবায়ুসংকট, অভিবাসন, পরিচয় রাজনীতি ও ব্যক্তিগত ক্ষতির মতো বিষয়গুলো বই নির্বাচনে বড় ভূমিকা রাখছে বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়।
লেখক জর্জ সন্ডার্স তাঁর মন্তব্যে বলেন, ‘এই সময়ের পাঠকেরা নৈতিক ও আবেগিক সত্য খুঁজছেন। সাহিত্যের কাছে তাঁদের প্রত্যাশা এখন অনেক বেশি আন্তরিক।’ অন্যদিকে তরুণ পাঠকদের একটি অংশ ঝুঁকছে ছোটগল্প ও পরীক্ষামূলক লেখার দিকে, যেখানে ভাষা ও কাঠামোর নতুনত্ব রয়েছে।
প্রতিবেদনটি আরও জানায়, ডিজিটাল যুগের প্রভাব সত্ত্বেও ছাপা বইয়ের প্রতি আকর্ষণ কমেনি। বরং অনেক পাঠক স্ক্রিন-ক্লান্তি থেকে মুক্তি পেতে কাগজের বইয়ে ফিরছেন। বুক ক্লাব, লাইব্রেরি ও স্বাধীন বইয়ের দোকানগুলোও পাঠাভ্যাস পুনরুজ্জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
• গ্রন্থনা: বোদরুল হেকীম