ফাতিমা ভুট্টোর স্মৃতিকথা: লজ্জা-ভয় জয় করার গল্প

বইয়ের প্রচ্ছদ ও ফাতিমা ভুট্টোছবি: সংগৃহীত

ফাতিমা ভুট্টোর লেখা দ্য আওয়ার অব দ্য উলফ: এ মেমোয়ার বইটি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। এ বইয়ে নিজের সম্পর্ক ও সেখান থেকে বের হয়ে আসার কথা লিখেছেন তিনি। অবশ্য নিজের সম্পর্ক নিয়ে লিখতে বেশ জড়তা কাজ করেছে তাঁর মধ্যে।

সম্প্রতি ফাতিমা ভুট্টো জানান, নতুন স্মৃতিকথা লিখতে চাননি। কারণ, এর মধ্যে লজ্জা, জড়তা, সংকোচ ও ভয় কাজ করছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মনে হয়েছে, বইটা লেখা জরুরি।

ফাতিমা ভুট্টো বলেছেন, যে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন, সেখানে নিয়ন্ত্রণ ছিল বেশি। নিজের সঙ্গে জোর করে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সময় সেই সম্পর্কের মধ্যে ছিলেন। দিনের পর দিন নিজের মধ্যে ভেঙে পড়ছিলেন। ওই সময় তিনি সহায়তা খুঁজছিলেন কারও। ধীরে ধীরে বুঝতে পারেন, নিজেই নিজেকে ঠিক করতে হবে। নিজের জন্য বাঁচতে হবে।

ভুট্টো জানান, বইটি লেখার সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছেন ভিন্ন ভাবনা থেকে। তাঁর মনে হয়েছিল, অন্য নারীদেরও এই গল্পটা জানা দরকার। কারণ, অনেকেই এ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যান। কিন্তু লজ্জা, ভয় ও সংকোচে কাউকে কিছু বলতে পারেন না। এ নীরবতা মানুষকে ক্ষতিকর সম্পর্কের মধ্যে আটকে রাখে।

ফাতিমার ভাষ্য, ‘আমাদের এ বিষয়ে কথা বলতে হবে, যেন মানুষ এমন সম্পর্কে আটকে না থাকে। তারা যেন বুঝতে পারে, নিজের জন্য বেঁচে থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ।’

ফাতিমা ভুট্টোর লেখা স্মৃতিকথা আগে যুক্তরাষ্ট্রে এবং পরে যুক্তরাজ্যে প্রকাশিত হয়। এ বইয়ে তাঁর প্রিয় কুকুর কোকোর কথাও উঠে এসেছে। ভুট্টো মনে করেন, তাঁর জীবনের সবচেয়ে দুর্বল সময়ে কোকোই সঙ্গ ও সান্ত্বনা দিয়েছে। তিনি বলেন, বইটি কুকুর ও মানুষের মধ্যে ভালোবাসার গল্পও বলবে, যেখানে কোনো শর্ত নেই।

এর আগেও ফাতিমা ভুট্টো বলেছিলেন, বইটিতে উদ্বেগ, নিজের পছন্দে গড়ে তোলা পরিবার ও মানসিক আঘাতের পর ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ানোর কথাও উঠে এসেছে। এটি কোনো বানানো গল্প নয়; বরং একটি ক্ষতিকর সম্পর্কে থাকাকালে সেই বাস্তবতাকে চেনা কতটা কঠিন এবং পরে নিজের আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার বর্ণনা উঠে এসেছে গল্পটিতে।

দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া আরেক সাক্ষাৎকারেও ফাতিমা ভুট্টো খোলামেলা কথা বলেছেন। তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, লজ্জা ও সংকোচ কীভাবে মানুষকে নীরব করে রাখে এবং কেন সেই নীরবতা ভাঙা প্রয়োজন।

সূত্র: ডন
গ্রন্থনা: রবিউল কমল