পাণ্ডুলিপিটি নিখোঁজ ছিল এক শতাব্দী

গ্রাফিকস: প্রথম আলো

স্পেনের পুলিশ প্রায় ১০০ বছর ধরে নিখোঁজ থাকা সপ্তদশ শতাব্দীর একটি গুরুত্বপূর্ণ পাণ্ডুলিপি উদ্ধার করেছে। এটি অনলাইনে প্রায় ৭১ হাজার ৯০০ ইউরোয় বিক্রির বিজ্ঞাপন ছিল।

পাণ্ডুলিপিটি ভ্যালেন্সিয়ার রেশমশিল্পের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান কোলেজিও দেল আর্তে মায়োর দে লা সেদা থেকে হারিয়ে গিয়েছিল।

এ পাণ্ডুলিপিতে ১৪৭৯ সালের কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম বা বিধি সংরক্ষিত আছে, যেগুলো ‘ফার্দিনান্দ দ্য ক্যাথলিক’ অনুমোদন দিয়েছিলেন। এসব বিধির মাধ্যমে ভেলভেট তৈরির কাজকে শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ফলে কারিগরেরা বিশেষ মর্যাদা ও কিছু সুবিধাও পান।

পুলিশ জানায়, তারা নিয়মিতভাবে অনলাইনে সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক জিনিসপত্রের বিক্রি নজরদারি করে। সে সময়ই এ পাণ্ডুলিপি তাদের নজরে আসে।

যে ব্যক্তি এটি বিক্রি করছিলেন, তিনি এর ইতিহাস সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। তাঁর বাবা ১৯৭০–এর দশকে এটি সংগ্রহ করেছিলেন। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯০৭ থেকে ১৯০৯ সালের মধ্যে পাণ্ডুলিপিটি হারিয়ে যায় এবং এটি কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিক্রি করা হয়নি।

পাণ্ডুলিপিতে ‘গ্রেমি দে ভেলুতের্স’ নামে ভেলভেট কারিগরদের সংগঠনের নিয়মাবলি রয়েছে। এগুলো ১৪৭৯ সালে অনুমোদিত হয়। এ ছাড়া এতে ১৪৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘সান জেরোনিমো’ ভ্রাতৃসংঘের নিয়মও আছে।

পাণ্ডুলিপিটি সবুজ রঙের বিশেষ চামড়ার (ভেলাম) কাগজে তৈরি। বাইরে একই রঙের ভেলভেট কাপড়ে মোড়ানো এবং ব্রোঞ্জ দিয়ে সাজানো। এতে মোট ২৬টি অধ্যায় আছে।

আইন অনুযায়ী, যেহেতু বর্তমান মালিক অনেক দিন ধরে এটি নিজের কাছে রেখেছেন, তাই পাণ্ডুলিপিটি তাঁর কাছেই থাকবে। তবে এটিকে সরকারি ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং মালিককে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করার নিয়ম মেনে চলতে হবে।

এখন পাণ্ডুলিপিটি ভ্যালেন্সিয়ার রাষ্ট্রীয় আর্কাইভে রাখা আছে। সংস্কৃতি বিভাগের বিশেষজ্ঞরা এটি পরীক্ষা করে দেখবেন।

উল্লেখ্য, এই রেশমশিল্প প্রতিষ্ঠানের আর্কাইভ ইউরোপের সবচেয়ে পুরোনো গিল্ড আর্কাইভগুলোর একটি। এখানে পঞ্চদশ শতাব্দী থেকে শুরু করে কারিগর, শিক্ষানবিশ ও কারখানার নানা তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে।

সূত্র: ইউরো নিউজ

  • গ্রন্থনা: রবিউল কমল