কারাবন্দী ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক নেতা মারওয়ান বারঘুতির লেখার সংগ্রহ নিয়ে এ বছরের নভেম্বরে একটি বই প্রকাশিত হবে। যেখানে বারঘুতির রাজনৈতিক জীবন, কারাবাসের চিঠি, সাক্ষাৎকার এবং ব্যক্তিগত জীবনের গল্প উঠে আসবে।
নামমাত্র যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজায় এখনো ইসরায়েলের আগ্রাসন অব্যাহত আছে। তবু ৬৬ বছর বয়সী এই ব্যক্তিকে অনেকেই ভবিষ্যতের যেকোনো ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের জন্য সেরা নেতা হিসেবে বিবেচনা করেন।
বইটির প্রকাশক জানিয়েছেন, আনব্রোকেন: ইন পারস্যুট অব ফ্রিডম ফর প্যালেস্টাইন এ বছরের ৫ নভেম্বর প্রকাশিত হবে। এটি প্রকাশ করবে পেঙ্গুইন।
বারঘুতি ২০০২ সালে রামাল্লায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি কারাগারে বন্দী আছেন। ওই সময়ে তিনি ফিলিস্তিনি আইন পরিষদের নির্বাচিত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে পাঁচজন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত থাকা ও ‘সন্ত্রাসবাদের’ অভিযোগে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে কারাদণ্ড দেন ইসরায়েলের আদালত। আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারপার্লামেন্টারি ইউনিয়ন সেই সময়ে এ বিচারের সমালোচনা করে বলেছিল, বিচারে জেনেভা কনভেনশনসহ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে। বারঘুতি তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ধারাবাহিকভাবে অস্বীকার করে আসছেন।
বারঘুতি হামাসের প্রতিদ্বন্দ্বী ফাতাহ দলের সদস্য এবং দীর্ঘদিন ধরে দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের পক্ষে কথা বলছেন। অনেকেই মনে করেন, তিনি ফিলিস্তিনিদের জন্য শক্তিশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে আবির্ভূত হতে পারেন। তাই ইসরায়েল তাঁকে মুক্তি দিচ্ছে না।
১৯৫৯ সালে পশ্চিম তীরের কোবার গ্রামে জন্মগ্রহণকারী বারঘুতি ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর ইসরায়েলি সামরিক দখলদারত্বের অধীনে বেড়ে ওঠেন। তিনি কিশোর বয়সে রাজনৈতিক সক্রিয়তার জন্য একাধিকবার গ্রেপ্তার হন। পরবর্তী কয়েক দশক ধরে ফিলিস্তিনি ঐক্যের পক্ষে কথা বলে আসছেন।
আসন্ন বইটিতে বারঘুতির পরিবারের কাছে কারাগার থেকে লেখা ব্যক্তিগত চিঠি, জনসাধারণকে লেখা চিঠিপত্র, প্রেস সাক্ষাৎকার, জনসাধারণের বিবৃতি, ঐতিহাসিক নথি ও ছবি থাকবে। পাশাপাশি তাঁর বই ১০০০ ডেজ ইন সলিটারি কনফাইনমেন্ট থেকে কিছু অংশ সংগ্রহ করা হবে, যা এখন পর্যন্ত কেবল আরবি ভাষায় পাওয়া যায়।
বারঘুতি তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ না করে দীর্ঘ সময় নির্জন কারাগারে কাটিয়েছেন। সাবেক ফিলিস্তিনি বন্দীদের মতে, কারাগারে তাঁকে একাধিক গুরুতর নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে গার্ডিয়ান–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, তিনি তিন বছর ধরে পরিবারের সঙ্গে দেখা করেননি। তাঁর আইনজীবীদেরও তাঁর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটিকেও তাঁর সঙ্গে দেখা করতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইসরায়েল, যা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।
দুই দশকের বেশি সময় ধরে কারাগারে থাকা সত্ত্বেও ধারাবাহিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, বারঘুতি গাজা ও পশ্চিম তীরের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফিলিস্তিনি রাজনীতিবিদ। তাঁকে দলীয় বিভাজনের মধ্যে একজন সম্ভাব্য ঐক্যবদ্ধ নেতা হিসেবে দেখা হয়। অনেকে তাঁকে ‘ফিলিস্তিনের ম্যান্ডেলা’ হিসেবে অভিহিত করেন।
তাঁর মুক্তির দাবিতে লন্ডনসহ ইউরোপের নানা শহর, যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ হয়েছে। সর্বশেষ গত বছরের ডিসেম্বরে বিশ্বের ২০০ জনের বেশি শীর্ষস্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব তাঁর মুক্তির আহ্বান জানিয়ে একটি খোলাচিঠিতে স্বাক্ষর করেছিলেন।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
• গ্রন্থনা: রবিউল কমল