বিশ্বসাহিত্যে বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তা ও মানবিক কল্পনার সংযোগ ঘটানো লেখকদের স্বীকৃতি দিতে যুক্তরাষ্ট্রে ঘোষণা করা হয়েছে ‘বিজ্ঞান-সাহিত্য পুরস্কার-২০২৬’। পরিবেশ, প্রকৃতি, ইতিহাস ও মানব অস্তিত্বকে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে মিলিয়ে তুলে ধরার জন্য তিন লেখককে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
এই পুরস্কারটি ন্যাশনাল বুক ফাউন্ডেশন এবং আলফ্রেড পি. স্লোন ফাউন্ডেশন যৌথভাবে আয়োজন করে থাকে, লক্ষ্য হলো বই ও গল্পের মাধ্যমে বিজ্ঞানের জটিল ধারণাগুলোকে পাঠকের কাছে মানবিক ও সৃজনশীলভাবে উপস্থাপন করা।
আয়োজক প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, এই বছর তৃতীয়বারের মতো এই পুরস্কার অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিজন বিজয়ী পেয়েছেন পূর্বঘোষিত ১০ হাজার মার্কিন ডলার এবং আন্তর্জাতিক প্রকাশনা ও পাঠকমহলে বিশেষ স্বীকৃতি। বিচারকদের মতে, বিজয়ী লেখকদের কাজ আধুনিক পাঠকের কাছে বিজ্ঞানের জটিল ধারণাকে সহজ ও সংবেদনশীল ভাষায় পৌঁছে দিয়েছে।
কবিতা বিভাগে পুরস্কার পেয়েছেন কিম্বারলি ব্লেইজার। তাঁর কাব্যগ্রন্থ ‘এনশিয়েন্ট লাইট’-এ আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবন, নদী, বন ও পরিবেশগত সংকটকে বৈজ্ঞানিক সচেতনতার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ককে নতুনভাবে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করে এই কবিতা সংকলন।
কল্পকাহিনি বিভাগে নির্বাচিত হয়েছেন আনা নর্থ। তাঁর উপন্যাস ‘বগ কুইন’-এ এক ফরেনসিক গবেষক ও দুই হাজার বছর আগের এক ধর্মীয় চরিত্রের কাহিনি পাশাপাশি এগিয়েছে। জীববিজ্ঞান, প্রত্নতত্ত্ব ও মানব ইতিহাসের মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা এই গল্প পাঠকদের মধ্যে কৌতূহল ও আবেগ দুই-ই তৈরি করেছে।
প্রবন্ধ ও নন-ফিকশন বিভাগে পুরস্কার পেয়েছেন প্যাট্রিসিয়া অনোনিউ কাইশিয়ান। তাঁর বই ‘ফরেস্ট ইউফোরিয়া: দ্য অ্যাবাউন্ডিং কুইয়ারনেস অব নেচার’-এ বনজীবন, জীববৈচিত্র্য এবং প্রকৃতির ভেতরে মানুষের পরিচয় ও অনুভূতির বহুমাত্রিক দিক তুলে ধরা হয়েছে।
সূত্র: এপি
• গ্রন্থনা: বোদরুল হেকীম