>বাংলাদেশের সমকালীন উর্দু কবিতার অন্যতম প্রধান প্রতিনিধি কবি আহমদ ইলিয়াস। ১৯৩৪ সালে কলকাতায় জন্ম নেওয়া এই কবি ১৯৫০-এ চলে এসেছিলেন ঢাকায়। সেই থেকে ঢাকাই তাঁর বসতবাটি। মান্টোর ছোট ছোট গল্পের মতো নিস্পৃহতাই ইলিয়াসের কবিতার সবচেয়ে বড় অলংকার। এখানে পত্রস্থ গজলটি অশীতিপর এই কবি আজই লিখেছেন, যেখানে প্রচ্ছন্নভাবে রয়েছে করোনা বাস্তবতার চিহ্ন। 
default-image


আহমদ ইলিয়াস প্রগতিশীল লেখক আন্দোলন আর রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীন রাষ্ট্র হয়ে জন্ম নেওয়ার ইতিহাসের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। এখন পর্যন্ত তাঁর ছয়টি উর্দু কাব্য সংকলন প্রকাশিত হয়েছে, সবগুলোই ঢাকা থেকে।  একদিকে একান্ত নিজস্ব অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা, অন্যদিকে একদা সমগ্র আর আজ খণ্ডিত এক ইতিহাসের বোঝা, দুইয়ের মিথস্ক্রিয়ায় গড়ে ওঠে বাংলাদেশের উর্দু কবি আহমদ ইলিয়াসের কবিতা, এখানকার কবিতায় যা প্রায় এক অনাস্বাদিত পর্ব। এ বছর 'বাংলাদেশের উর্দু কবি আহমদ ইলিয়াস: নির্বাচিত কবিতা' নামে প্রথমা প্রকাশন থেকে আহমদ ইলিয়াসের একটি বই প্রকাশিত হয়েছে। 

এই গীতিকবিতায় ইলিয়াস বর্তমান অতিমারির সময়ে মানুষের টানাপোড়েনকেই বিশেষভাবে দেখাতে চাইছেন বলে মনে হয়। এখানে প্রতি দুই চরণ একটি সম্পূর্ণ কবিতা হিসেবে পড়তে হবে। আর পুরোটা মিলিয়ে তৈরি হবে অন্যতর এক ব্যঞ্জনা। গজলের বৈশিষ্টও এটি। ইলিয়াসের এই পঙ্‌ক্তিমালা সময়ের অনুভবকে পাঠকের মধ্যে সঞ্চারিত করবে বলেই আমাদের বিশ্বাস। উর্দু থেকে কবিতাটি অনুবাদ করেছেন জাভেদ হুসেন

উর্দু কবি আহমদ ইলিয়াসের গজল

শব্দ ঠোঁটেই মরে যাবে ভাবিনি
এমন ঘটনা ঘটে যাবে ভাবিনি

মরুর রোদে একাকী চলব পথ
সঙ্গে চলবে স্মৃতির বৃক্ষ ভাবিনি

যে আয়নাকে আজ করেছি সাফ
সে-ও যে ভেঙে ছড়িয়ে যাবে ভাবিনি

আমার গতি তো থামবে চলতে চলতে
সঙ্গে যে সময়ও যাবে থেমে ভাবিনি

তার হাতে থাকা শব্দ-অহমের ছুরি
নেমে আসবে আমার বুকে ভাবিনি

প্রিয়র শহরে নেই দূঃখ জানার প্রথা
হৃদয় নতুন দুঃখে ভরে যাবে ভাবিনি

সবাই খুঁজেছে এখানে নতুন বাঁচার পথ
তুমিও ইলিয়াস যাবে সে পথে ভাবিনি।

১১ জুন ২০২০, ঢাকা।

অন্য আলো অনলাইনে লেখা পাঠানোর ঠিকানা: info@onnoalo.com

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0