ধ্যানস্থ বিষাদী সূর্য বরাবর

অলংকরণ: মাসুক হেলাল

সারসের ডানার নাম

পতিত বৃক্ষের কাছে দাঁড়িয়ে আছে
অবোধ নীলিমার দানপাত্র
জিজ্ঞাসায় উছলিবে অমৃতদ্রব্যের কারুকাজ—
হে বৃক্ষ, সঁপে গিয়ে তোমার ডাল
কোন মহিমায় মন্ত্রমুগ্ধের মতো!

স্মরিছে তোমায় অথবা
বিচ্ছিন্ন আরও পাতারে?

মৌন ইতিহাস থেকে উঠে আসে
বৃহৎ বিস্ফোরণ
উড়ে যায় বৃহৎকেশীর মন খারাপের মেঘ
রাতের শিশির হয়ে ঝরে ভোরের আঙিনায়।
ধ্যানস্থ বিষাদী সূর্য বরাবর
মধ্যমায় তিলক এঁটে
বিষাদের বিকাল নেমে আসে—
কাঞ্চনের জোড়া পাপড়ি জানত
তারেও ঈর্ষায় গেঁথে রাখবে
এমন বিরহী যক্ষ্মিনী
হাতের বালায় মহাকালের ঘূর্ণি মেপে
উদয়াস্ত এখনো প্রত্যাশায় থাকে
ঝরনার জলবিন্দুগুলোর দূরত্ব দেখে;

ঘোর বিষাদবৃক্ষ ঠায় জবাব না দেয়—
কেন সে এমন একা একা দাঁড়িয়ে!

কতটা ধরতে পারছিলে
এমন নগ্নতারও আড়াল,
আঁচড়নখে বিড়ালির জ্বর
পরদেশির বিরহ—

আমি তো দেখেছি
জলে ভাসা নারীলাশ
অসতীরও ভেসে আসা ঢেউ—

সৌধ রচনা করে দীর্ঘদেহী সারস
পটেনশিয়াল মিনারের আদলে
এমন এমন ব্যবধানে।

যখন রক্ত ঝরছিল
গাবের কষ হয়ে
তোমরা নিশ্চয়ই জানতে
পৃথিবীতে আজ মরে যাবে কেউ।

আর একদিন কোমল রোদ এসে
পা ছুঁয়ে যাবে
মাঘের শেষ রাত্তিরে;
বিনাশের দিনকালে এমন করে রচিত
হবে পৃথিবীর বদনাম

রেইনফরেস্টের স্লেজ

অসম্ভব বেদনার পায়েরা
উড়ে আসে কাঠবাদামের আঙিনায়,
পায়ের ছাপ উল্কার হয়ে ডাকে
অসুখীর পয়ার ছন্দে—
রোদছাপের চোখগুলো জানে
আরও জেগে থাকার বিনিময়েই
রচিত হবে সব বিনিদ্র সময়;

এরপর পৃথিবীর কান্নারা নোনতা হয়
বয়ে যায় শ্বেত চিবুকের জঠরদেশ—
আরও কেমন অসম্ভব বেদনায় জাগে
নতুন চরের মতো রুক্ষ ঠোঁট
আর পাহাড়ের মতো অভিমান।

শীতলবৃষ্টি রেইনফরেস্ট আর বরফগলা ত্বক
অবাধ্য চুলের সমান্তরালে কিছু স্লেজে চলুক মন আঙিনায়;
অসম্ভব বেদনার অসম্ভব কষ্ট হয়ে—

আর তাই শীতের কুয়াশায় আমার কান্না পায়
শ্রাবণ মাসের মেঘের মতো।