শীত ক্রমশ আমাকে অগ্নিকাণ্ডের দীক্ষা দিতে চাইছে

অলংকরণ: মাসুক হেলাল

এই শীত ভূমিকাপ্রধান

জাঁকিয়ে বসেছে শীত

শীত এলেই মনে পড়ে তার কথা
কার কথা?

আপাতত উহ্য রাখি নামধাম
ঠিকানা-ঠিকুজি

এই শীত ভূমিকাপ্রধান
সারকথা পরে হবে

আপাতত ভূমিকাতেই বেঁধে রাখি
হৃৎকথন

সময়-সুযোগ পেলে
হয়তো ঘটবে তার

যথা বিস্তরণ
তবে কথা আর কাজকে যারা

একসুতোয় গাঁথে
তেমন মানুষের বিপ্রতীপে দাঁড়াল সে

তাই শীত আরও জেঁকে বসল
হৃদয়ে, অন্তঃপুরে

দুঁদে মন
না পায় স্থিতি

ঘর-গেরস্তি
ঘুরে মরে আদাড়ে-পাঁদাড়ে!

শীত এল, তার কথা পড়ে মনে, নিরজনে

ভূমিকাতেই বলে রাখি
এই শীত বেঁধে খুব তার বুকে!

এই শীত নিত্য খোঁজে ভুবনডাঙার রোদ

এই হাড়কাঁপানো শীতে চাই মোলায়েম রোদের পোশাক
এই শীত নিত্য খোঁজে ভুবনডাঙার রোদ

ভোরের স্নিগ্ধ রোদে কে দাঁড়িয়ে আছে?
আমি তাকে খুব কাছে পেতে চাই!

কারণ আমার শীতের পোশাক রেখে এসেছি
মন-খারাপ-করা শীতবরফের দেশে!

আচ্ছা, আমি আজ কাকে পেতে চাই?
যাকে পেতে চাই সে কি আমার কম্পমান শরীরে

উষ্ণতার প্রবাহ বইয়ে দিতে পারবে?
পাতাঝরা শীতের কায়কারবার নিয়ে আমার অনেক প্রশ্ন

এসব প্রশ্ন আমি কাকে করি?
উত্তরাদাত্রী কি আমার এসব প্রশ্ন বুকে নিয়ে ঘুমাতে যাবে?

তার বিছানা ও বালিশ কি খুব শীতার্ত?
যদি এর জবাব ‘না’ হয়

তাহলে পত্রহরিৎ বৃক্ষের কাছে আমি কী নালিশ জানাব?
আমার শীত আমার সঙ্গে আজকাল বড্ড কানামাছি খেলে!

আমি বারবার শীতের সঙ্গে হেরে যাই!
জানি না, আমার এই হেরে-যাওয়া দুঃখ বুকে নিয়ে কে ঘুমাতে যায়?

আমি তো তাকেই প্রাণপণ খুঁজছি!
সে কি ফিলিস্তিনের নড়বড়ে তাঁবুতে বসে

আমার কথা ভাবছে?
নাকি ইউক্রেনের বোমাবিধ্বস্ত কোনো নগরে

হন্তদন্ত হয়ে ছুটে বেড়াচ্ছে
যার প্রয়োজন ভারী ওভারকোট ও নিরাপদ আশ্রয়!

আমি এ রকম বিষণ্ন তরুণীর জন্য মনে মনে তৈরি করি
রোদের পোশাক

কারণ বরফাচ্ছাদিত এই সব মানুষের জীবন
আমার নোটবুকে মৃত্যুর চিত্রকল্প হয়ে ফুটে ওঠে!

আমি জীবন ও মৃত্যুকে একদমই আলাদা করতে পারি না!
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও ফার্স্ট লেডি
সিলিয়া ফ্লোরেস জানেন

স্বদেশের মাটি থেকে নিজেদের পা আলগা হয়ে গেলে
দেশের খনিগুলো কেমন অরক্ষিত হয়ে পড়ে!

যেকোনো সময় প্রবল শীত হামলে পড়তে পারে তাদের গায়ে!
ক্ষমতা মানেই তো তীব্র উত্তাপ

কখনো কখনো তা দাবানলকেও ছাড়িয়ে যায়
গাছপালা বনজঙ্গল পুড়িয়ে করে ফেলে ছাইভস্ম!

আবার কখনো এর আঁচ নগরে-বন্দরেও তৈরি করে
গভীরতর শঙ্কা

এই শঙ্কা নিয়ে আমি কোথায় দাঁড়াব?
কার কাছে পৌঁছে দেব ন্যায্য নালিশ?

জাতিসংঘ, তুমি কি কেবল এসব দেখে দেখে যাবে?
আর মিনমিনে স্বরে প্রতিবাদের হাওয়া ছড়াবে?

একবার ইয়েমেনের কথাও ভাবো!
ওখানেও তীব্র শীত ছড়িয়ে পড়েছে;

এই শীতেও বানের জলে ভাসছে
আফগানিস্তানের কোনো কোনো পাহাড়ি অঞ্চল

সিরিয়ার শীতার্ত মানুষের কথাও একটু মাথায় রেখো!
জানি না, আমার প্রিয়তমা কোথায় বসে

বিষণ্ন মনে পড়ছে শীতের কবিতা!
নাকি শীতকেই প্রেমের সমার্থক করে সাজাচ্ছে

কোনো নির্জন চিলেকোঠা!
জানি না, আজ আমার চোখে কেন ভেসে উঠছে
ইতালির ভিসুভিয়াস

তবে কি আবারও শুরু হবে এর অগ্ন্যুৎপাত?
পম্পেই আর হেরকুলেনিয়াম শহরের মতো ধ্বংস করে দেবে

জালেমশাসিত সব কটি ক্ষমতাধর রাষ্ট্রকে?
হয়তো এমনটা হতেই পারে!

এই শীত ক্রমশ আমাকে অগ্নিকাণ্ডের দীক্ষা দিতে চাইছে
আমি কোমল উষ্ণতার জন্য যতই আকুতি জানাচ্ছি

চারপাশ থেকে কেবল ছুটে আসছে তীব্র দাবানল
প্রিয়তমা, এই শীতে ভুবনডাঙায় যদি রোদের পোশাক না-ই দিতে পারো
তাহলে আর যা-ই হোক বরফের পোশাক নিয়ে এসো না!