ঋষভ
প্রাজ্ঞ পথের সন্ধান তুমি পাও—বীজগর্ভ সুখে।
এই ঘনীভূত নটরাজ সন্ধেবেলায়; আধবুড়ো মাস্টার চিঠি রেখে যায় ওই গাছের ছায়ায়। একদিন কেশগন্ধ সকালের শুরু হলো যেখানে। নৈঃশব্দ্যপ্রবণ ঘরের জানালা থেকে তুমিও কি মুখস্থ করেছিলে এই দৃশ্য?
প্রাঞ্জল কোনো পথে—বেলফুলের অস্থি যৌনবতী সংলাপে দ্বিখণ্ড হলো আজ। এই সব কারুকাজ—বয়সের নীলদ্রব কারাগার মাত্র। পুনর্বার সঙ সাজা হলে—একটি লাল বন-মোরগের পিছু নেব আমি।
আহা! ঋষভ—ডুবে যাচ্ছে পয়মন্ত পাখির বিদুর মাতৃভূমি।
বিড়াল
স্বপ্নের শিরা বেয়ে হামাগুড়ি দিচ্ছে কয়েকটি মেঘশিরীষের ফুল—অন্ধকার ঝুঁকে গিয়ে পাতার সঙ্গে বিড়ালের গল্প বলছে। আর মর্গের চাদরে উড়ন্ত ঝুঁটি; কয়েকটি ঘাসফুলের অদ্ভুত লিপিকার।
শোনো—জ্যোৎস্নার টুপি পরা অভিসারী ঘুঘুদের ধূলিপিণ্ড আয়না—রাস্তা পেরোলেই দেখবে একটি স্বপ্ন দীক্ষিত মেধাবী বিড়াল আপেল খাচ্ছে একাকী।
সৌগত পাথর
এই দুপুরে—গলে যাবে সকল হাতের রেখা। ছায়ামগ্ন পারুল ঝরে পড়ে। আর এই আমি—আত্মার বাগানে জড়ো করি সৌগত পাথর।
রাস্তাগুলো লুকিয়েছ কোন গাছের আড়ালে? তোমাকে লক্ষ করে দু–একটি ফুল ফুটুক। তারাও জানুক, ভালোবেসে চলে গেলে—জন্ম দাগের মতো ক্ষতচিহ্ন পড়ে থাকে শুধু।
ডুব
যখন অনন্ত রাত্রিরা উন্মোচিত করে শরীর—গৃহপালিত মাংসের আরতি ডুবে যায় রক্তের চাবি নিয়ে। জলের গভীরে অতসি পাথর নিয়তির গুপ্তচর।
এই তন্ময়তার মায়াবী লন্ঠন—জীর্ণ পাতার মগজে সবুজ আলো ফেলে কোথায় যায়? মেঘের মগজে উন্মোচিত প্রথম শেফালি; যেন কম্পিত পূর্ণিমার পারদে উজ্জ্বল ঋতু—
কে তুমি ওখানে বেহালা বাজাও?
জলের গভীরে প্রমত্ত ঢেউ চুরি হয়ে যায়।
প্রাজ্ঞ জবাফুল
অন্ধপ্রায় শালিকের সরাইখানা থেকে ছিটকে পড়েছি। একটি পিতলের আয়না—লালমুখো অজগরের ভাষা জানত। সন্ধেবেলায় আঙুলের ধ্বনি পেলে নাচ করে তস্কর। পুষ্পচক্র আমাকে শেখাও যৌন উপহাস। পাতাদের চিকন আওয়াজ রৈবী ভাতের থালায় প্রাজ্ঞ জবাফুল।
এই রাত্রিবেলা পাশাপাশি জেগে আছে সাপ ও ত্রিবেণী ময়ূর। জেগে আছি আমি যেন নিয়তির বাগানে ফুল ছিঁড়ছে কাঠের জাদুকর।