লংমার্চ
আলখাল্লা পরা লংমার্চ দূরে মহাসড়ক ধরে
শাঁ শাঁ করে ছুটে যায়,
বউঝিরা লংমার্চ দেখতে আসে,
লংমার্চ কোথায় চলে যায়!
গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই
নেতার প্রমোশনের খবর পড়ি কাগজে,
আবার কত কথা, রাতে সাজানো টক শোতে।
আউশ খেতে কাস্তে মারতে মারতে সলেমান আলীর মনে
কিছু কথা জমে।
তার ইচ্ছে ছিল একদিন লংমার্চে যাবে,
মাটির উর্বর ভাষা শোনাবে অগ্রগামী মিছিলকে।
কবি ও মানুষ
কবির কোনো দোষ নেই,
লিখতে লিখতে একটা পাণ্ডুলিপি দাঁড়িয়ে যায়,
এরপর কবির ভাবনায় অনেক কিছু আসে,
আবার প্রায় কিছুই আসে না,
পাণ্ডুলিপি দাঁড়িয়ে গেছে, এটাই ‘কতা’!
কবিতার খাতার সীমানার ওপারে মানুষ বাস করে,
সেখানে কত ধরনের দ্বন্দ্ব, সামাজিক শ্রেণিবিন্যাস!
কবিতার খাতায় সৃষ্টিশীল অক্ষরদের আঁকিবুঁকি,
আর সীমানার ওপারে মানুষের সংগ্রাম,
এর মধ্যেই পথের ধারে কিছু বুনো ফুল ফুটে থাকে।
নির্জনতার গান
বাগানে বসে আছি,
গতকাল দুটো ফুল পাপড়িগুচ্ছ মেলে ধরেছিল,
দুটো পাখি ছিল, জোড় বেঁধে উড়ে গেল,
সূর্য যাচ্ছে কোনো দূরদেশে
নিয়মিতই সে এসে আবার চলে যায়,
সন্ধ্যার ট্রেন আজ সকাল সকাল ছেড়ে দিয়েছে,
কাঠের পাটাতন থেকে জীবনের আওয়াজ আসছে।
কারাগারে চাঁদ
ঘুরে ঘুরে কারাগারে আলো ফেলে শরতের চাঁদ,
আজ যত বন্দী,
একদিন তারাও চাঁদ দেখেছিল
নারকেলগাছের পাতার ফাঁক দিয়ে,
দুপুরে চার ঘণ্টা নিরপরাধ ঘুম,
তারপর কত বিকেল-সন্ধ্যা গড়িয়ে যায়,
বাইরে জায়গার বড্ড অভাব,
একবার শৃঙ্খলিত হলেই যেন শান্তি,
রেশনিংয়েরও ব্যবস্থা নেই,
কোজাগরী চাঁদ এসে চলে যাক,
হেমন্তে যদি আসে, আসবে।
শালবাগানের গাছেরা
ঢাকা শহরে কত কিছুই যে ঘটে চলেছে,
কর্মতৎপর প্রেস উইং, মুখর আদালতপাড়া,
ডাকসু নির্বাচন, ভিপি প্রার্থীর ‘ভিউ’
ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন, না হলে সর্বনাশ!
পরস্পর কলহের পর উপহার বিনিময়,
এর মধ্যে গরিবের লড়াই,
সবজির দাম কিন্তু এখন কম নয়,
এইসব কত কিছু যে ঢাকা শহরে ঘটে চলেছে,
শালবনের গাছেদের এ নিয়ে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই,
বাতাসের সাথে এদের পাতাদের চুমাচুমি চলছেই।