ইগল-পৃথিবী

ঝড় উঠুক, উঠুক অনিবার্য কোনো নিয়তির মতো

বৈশাখের উন্মত্ত নিশ্বাসে ভেঙে যাক মানুষের অহংকারে গড়া দালান, ধূলিসাৎ হোক ইট-কাঠের সভ্যতার মিথ্যা গৌরব, আছড়ে পড়ুক বৃক্ষেরা—

যেন যুগের পর যুগ জমে থাকা আর্তনাদ

বনভূমি তছনছ হয়ে খুলে দিক তার অন্তর্গত ক্ষত,

ফসলের মাঠে জেগে উঠুক অনাহারের ইতিহাস,

নদী আর সাগর—ফুঁসে উঠুক বিদ্রোহী জনতার মতো,

ঢেউয়ের পর ঢেউয়ে লিখুক প্রলয়ের কবিতা।

মানুষের চোখে জ্বলে উঠুক সেই আগুন—

যে আগুনে পুড়ে যায় মিথ্যা, ভণ্ডামি, প্রতারণা,

যে আগুনে ধ্বংস হয় ধর্মের নামে বিভাজন,

জাতির নামে অহংকার, সভ্যতার নামে নির্মম নিষ্ঠুরতা।

তৃষ্ণার্ত মাটি ফেটে যাক—যেন পৃথিবীর বুকের গোপন ক্রন্দন, পাহাড়-পর্বত কাঁপুক—যেন ইতিহাসের জমে থাকা অপরাধের স্বীকারোক্তি, পথে পথে পড়ে থাকুক মৃত হিংস্র পশুরা—নিস্তব্ধতার এক নিঃশব্দ ঘোষণা,

বাজপাখির ডানা থেমে যাক, শকুনিরা মুখ থুবড়ে পড়ুক নিজেদের লোভের ভারে।

আকাশ ফেটে পড়ুক বজ্রের গর্জনে—যেন সময়ের অগ্নিঘণ্টা বাজে মানুষের অশুদ্ধ আত্মার বিরুদ্ধে।

আসুক বৈশাখ—এক ভীষণ প্রতীকের অবতারে—

তাপ, বজ্র, বৃষ্টি আর ঝড়ের সংমিশ্রণে

এক মহাপ্রলয়ের মহাগান হয়ে।

মানুষে মানুষে এত বিভাজন, ধর্মে ধর্মে হিংসা,

জাতিতে জাতিতে রক্তের রেখা—এত পাপ, এত ছলনা, এত অশান্তি—সভ্যতার ইতিহাসে এমন কালো অধ্যায় হয়তো আর কখনো লেখা হয়নি, হবে না।

ঝড় উঠুক—মহাপ্রলয় আসুক—ধ্বংস শেষের নিস্তব্ধতায় জন্ম নিক নতুন এক পৃথিবী।

যেখানে—প্রতিহিংসা থাকবে না, অহংকার হবে ভস্ম আর সাম্যের পৃথিবী—তার বিস্তৃত ডানায় ধরে রাখবে শান্তির নীল আকাশ।