চমকে উঠছে নীরব সাবার্বিয়া

অলংকরণ: এস এম রাকিবুর রহমান

গৃহস্থালির ফরেনসিক

নিরঙ্কুশ উড়ে যাচ্ছে কিছু ফানুস
কিচেন নাইফ ধার হারাচ্ছে রোজ
ত্যক্ত হয়ে উঠছে চপিং বোর্ড
কাটতে গিয়ে পিছলে যাচ্ছে বলে
পেঁয়াজদেরও কষ্ট হচ্ছে খুব
চোখ দুটোও জ্বলছে বেশি বেশি

হাত হারাচ্ছে মনোযোগ ক্রমশ
পিছলে যাচ্ছে সাবানমাখা বাসন
চমকে উঠছে নীরব সাবার্বিয়া
ডেকে নিশ্চুপ পড়শির পোষা শিৎযু

ভাঙ্গা কাচের টুকরো ছিটকে গিয়ে
খাবারে মিশে করছে খুনের প্ল্যান
নির্বিকার ফেটে লীন বুদ্‌বুদ
কোথাও কোনো প্রমাণ থাকছে না

অনিদ্রা

            যখন ঘুমাই
 প্রাগৈতিহাসিক গাধা বানিয়ে
     কারা হাঁটায় আমাকে
     বেয়ে ওঠায় উচ্চতায়
        পাথরের অরণ্যে
        ফসিলের মাঠে
         মেঘের কাদায়
   চোখ মেলতেই হয়ে উঠি
    সন্তপ্ত ধুলোমাটির স্তূপ
      অসংখ্য সারি সারি
       নিষ্পলক চোখের
            গোরস্তানে

পতন

হাত ফসকে খসে পড়ে চায়ের কাপ
নিরুপায় তাকিয়ে দেখি আর
গতিবিদ্যার অঙ্ক কষি মনে,
গ্যালিলিওকেও মনে পড়ে যায়।
অতি ধীরে নিদারুণ এই ঘটমান বর্তমান
এক অপেক্ষা তৈরি করে, গৃহস্থালির
নীরবতা এই বুঝি ভেঙে চৌচির হবে।

এই অবসরে কোত্থেকে কিনেছি কত দামে,
কী দিয়ে তৈরি হয় কাচ মনে পড়ে যাবে।
কতবার ঠোঁটজোড়া আলতো করে
ছুঁয়ে গেছে ওটা আর মেখেছে
তোমার অন্তরঙ্গ শ্বাস, কত দিন
তাকিয়ে দেখেছে আমাদের যুগল বসবাস।

শুনেছি মৃত্যুর ঠিক আগে
মনে পড়ে এ রকম আজন্মের স্মৃতি
পতন দেখতে দেখতে তাই মৃত্যুহীন
জড়ের অংশ হয়ে মহাকাল দেখি।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস

আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে
জানানো হয়েছে যে
নিউইয়র্ক শহরের পাঁচটি বরোতে আজ
দিনটি থাকবে বেশ
স্মৃতিকাতরতায় মোড়া।

সকাল থেকে হালকা দুঃখের
ছিটেফোঁটা পড়তে পারে
দুপুরে কিছুটা নির্জনতার
গর্জন শোনা যাবে,
সন্ধ্যার দিকে তা তীব্র হয়ে
একাকিত্বের রূপ নিতে পারে।
বিষাদের মৃদু হাওয়া থেকে থেকে বইবে
রাতে কিছুটা বেড়ে গিয়ে তা
কষ্টের ঝড়েও পরিণত হতে পারে।

বাতাসের আর্দ্রতা থাকবে বিরহকাতর
তাপমাত্রা থাকবে শীতল অভিমানে ভরা।
সাবধান থাকতে বলা হচ্ছে সকলকে
বিষণ্নতার ফ্লাশ ফ্লাড থেকে।

মিগেল বন্ধু আমার

মিগেল,
প্রায়ই তুমি থাকো না যেখানে তুমি আছো।
গাড়ি চালিয়ে বহুদূর এসে হঠাৎ বুঝতে পারো
পথের দিকে তাকিয়ে থেকেও এতক্ষণ
কিছুই দেখোনি।
একেকটা সম্পর্ক বদলে যেতে থাকে
পথের দু পাশের মতো।
তুমি অনুপস্থিত।
তারপর হঠাৎ হিসেব করতে বসে
টের পাও একে একে হারিয়েছ
          শৈশব, কৈশোর, পিতা কিংবা স্বজন,
          একজোড়া করুণ প্রতীক্ষাবিভোর চোখ,
          অভিমানি ঠোঁট, নিষ্ঠুর কোনো ভালোবাসার শহর
          কিংবা দূষিত একটা নদী।
হারিয়েছ মৌলিক নাগরিক অধিকার আর
রক্তের প্রতিবাদী সব শ্বেতকণিকা।
          তোমার আবেগ
          কবিতা
          ঘৃণা আর
          প্রেম
আউটডেটেড হয়ে গেছে
বহু বছর আগের ফ্যাশনের মতো।
রবিবারে প্রার্থনালয়ে গিয়ে চেয়ে দ্যাখো নিজের
পরিশ্রমী খসখসে কর্কশ দু হাতের তালুরা
এক হয়ে প্রার্থনা করছে।

বাইরে সাঁজোয়া যান তোমার অপেক্ষায়।
ফেরার কি সময় হলো?
কোথায় ফিরবে তুমি?