চাঁদ ঝলমল করে
জোছ্নারাতে মুখ দেখেছি চাঁদ ঝলমল করে,
শান্ত নদীর ঢেউয়ের মতো রূপটি তোমায় ধরে।
শিউলিভেজা হাওয়ার ডাকে ভাসছে তোমার নাম,
বুকের ভেতর স্বপ্ন এঁকে নিজে হলাম নিলাম।
নদীর জলে চাঁদের ছবি কাঁপছে ধীরে ধীরে,
জোছ্নারাতে মুখ দেখেছি চাঁদ ঝলমল করে।
তুমি এলে রাতের আকাশ তারায় তারায় জ্বলে,
জোছ্নারাতে থেকো পাশে জোনাক যদি বলে।
তোমার ডাকে রাতের পাখি গেয়ে ওঠে নতুন সুরে।
জোছ্নারাতে মুখ দেখেছি চাঁদ ঝলমল করে।
মমি
কাছে যাবে যাবে ভাবি, অগাধ দূরত্বে
সরিয়ে রেখে তোমাকে নক্ষত্রের দিকে;
তুমি দূর আকাশের জ্বলজ্বলে নক্ষত্রের নাম।
তুমি মহাকাশ, তুমি যে মহাপৃথিবী!
কীভাবে অনুভূতির কপাট-জানালা খুলে
হৃদয়ে তুমুল কোলাহল
তুমি বড় হয়ে যাও, আমি স্তব্ধ মমি।
আগোছালো গলিপথে সুর তোলো তুমি
পথে পথে সুরে সুরে বাউল এসরাজ
তুমি গান হয়ে যাও
আমি নীরবে দাঁড়িয়ে থাকি মমি হয়ে।
বৈশাখ
দেখো বৈশাখ জানিয়ে দিয়েছে প্রখর রোদের তাপ
ইচ্ছেরা পুড়ে শুকিয়ে বিরান তোমার–আমার ঠোঁট
পুড়েছে ভীষণ সাধরা মনের আহাজারি খুব মনে।
লাল-সাদা শাড়ি পরেছে নারীরা হাঁটছে দূরের পথে
হাতের ভেতর প্রেমেরই হাত হাওয়া ওড়ায় চুল
হাওয়া ওড়ায় শাড়ির আঁচল ঘামল নারীর মুখ।
মুখের ওপর বাতাস চুমুর অজানা পথের টান
পাইনি তোমার হাতের পরশ ইচ্ছেরা পোড়ে খুব
কত উত্সব হয়েছে বিফল গাইনি প্রেমের গান।
কত বৈশাখ মরেছে কেবল ঠোঁটের তুমুল ক্ষতে।
পুড়েছে ভীষণ সাধরা মনের আহাজারি খুব মনে।
অনেক মানুষ ভিড়ের ভেতর আমি তো কোথাও নেই
ইচ্ছেরা পুড়ে শুকিয়ে বিরান তোমার আমার ঠোঁট।
শিশির ও প্রেম
হেমন্তের দূর্বাভেজা শিশিরে মনে রেখো
চোখজোড়া শিশিরের মতন তাকিয়ে
থাকে শান্ত ভোরে—
বাতাসে জড়ানো স্থির নিশ্বাসে তুমি এক নাম।
মনে রেখো শরতের সাদা কাশফুলে,
তোমার পরশে নাচি কাশফুল হয়ে
তোমার চুলের গন্ধে মাখি ভালোবাসা।
শ্রাবণের এ মেঘলা দিনে রেখো মনে
চোখজোড়া হয়ে যায় অপেক্ষার নদী।
শিউলি ফুলের গন্ধে মনে রেখো তুমি
পড়ে থাকি অবহেলায় শিশিরের ভোরে;
পড়ে থাকি হেমন্তের ঘাসে।
ঘুমহীন সাইরেন
কীভাবে যে কাটে ঘুমহীন রাত, বাজে বিরহের সাইরেন
আমি জানি, আমি জানি সব!
বুকের খনি—স্মৃতির পলিমাটি থেকে উঠে আসে
এই ঘুমহীন রাতে!
দূরের হিজল অন্ধকারে ডানা ঝাপটায় পাখি
শীতের শিশির ঝরে পড়ে চুপচাপ
আমি জানি, আমি জানি সব!
কীভাবে যে কেটে যায় ঘুমহীন রাত, সুনসান কুয়াশায়
কারা ডাকে ইশারায়, কে জাগিয়ে রাখে কাকে আশায়-আশায়
আমি জানি, আমি জানি সব।