দ্বয় ও অদ্বয়
দুই পাশে দুই পাড়ই কেবল, একই স্রোতস্বতী।
ধ্রুবক যেমন বিধান করে চলকের সুগতি।
অদ্বয়, সে দ্বয়ের অপর
রূপ–ঝলমল ভাবের শহর
অদ্বয় হয় চিরদিনই দ্বয়ের পরিণতি
দুই পাশে দুই পাড়ই কেবল, একই স্রোতস্বতী।
সহজনম, সহযাপন
যাপন শেষে সহমরণ
একসঙ্গেই দীর্ঘ ভ্রমণ, নেই কোনো ছেদ–যতি।
দুই পাশে দুই পাড়ই কেবল, একই স্রোতস্বতী।
জ্যান্ত দেহে শান্ত দাফন
দেহপ্রান্তে নতুন কাঁপন...
চলক যে চায় ধ্রুবক হতে—এমনই দুর্মতি!
দুই পাশে দুই পাড় রয়েছে, একই স্রোতস্বতী।
হারানো ও পাওয়া, হর্ষবিষাদ
হারিয়ে ফেলব অভয়নগরে
খুঁজে পাব দূর মনোহরপুরে।
এভাবেই এই জীবন কাটাব
আবার হারাব, ফের খুঁজে পাব
হারানো-পাওয়ার ইতিহাস লেখা আকাশের দূর শীর্ষে
কোথাও তো কিছু হারায় না এই মায়াঘন মহাবিশ্বে।
কী কী হারিয়েছি কবে যে কোথায়
তুমিও জানো না, আমিও তো তা-ই
হারানো ও পাওয়া, হর্ষবিষাদ
কে যে শিকার, কেই–বা নিষাদ!
এ কোন ভাবের ভুবনে ফেললে তোমার এ ভাবশিষ্যে!
কোথাও তো কিছু হারায় না এই মায়াঘন মহাবিশ্বে।
তুমি-আমি আজ কীভাবে কোথায়
মগ্ন রয়েছি কোন ভূমিকায়
বিশ্বছকের কোন এলাকায়, কোন হারানোর দৃশ্যে!
কোথাও তো কিছু হারায় না এই মায়াঘন মহাবিশ্বে।
সর্বনাম
তুমি যদি হও বিশেষ্য, আমি তোমার সর্বনাম
আমার জ্ঞানের, নিবিড় ধ্যানের, তুমিই তো পরিণাম।
পর বটে, তবে, পর নয় ফের—সে-ই তো অপর
সেই অপরের সঙ্গে সমান্তরাল সফর
জনম জনম, জন্মান্তর—একটানা, অবিরাম।
তুমি যদি হও বিশেষ্য, আমি তোমার সর্বনাম।
যখনই লুকাও নামটি তোমার, তখন কী হয়—
তোমার লুকানো নামভূমিকায় করি অভিনয়
পাই যদি খোঁজ লুপ্ত নামের, নামগান গাইতাম
তুমি যদি হও বিশেষ্য, আমি তোমার সর্বনাম।
বিশেষেও তুমি, নির্বিশেষেও সেই একই তুমি
সকল কৃতির, সকল প্রীতির হে উৎসভূমি
সমস্ত পথ ঘুরেফিরে শেষে তোমার ঠিকানাধাম
তুমি যদি হও বিশেষ্য, আমি তোমার সর্বনাম।
যুগলবন্দী
অন্তরঙ্গে কৃষ্ণ-কানাই, বহিরঙ্গে রাধা
স্বচ্ছন্দে চলি বটে, পরচ্ছন্দে বাঁধা।
কেন্দ্র ঘিরে চক্রাকারে
ঘুরতে থাকি চমৎকারে
ছেড়ে গিয়েও যাই না ছেড়ো–কেমনতরো ধাঁধা!
অন্তরঙ্গে কৃষ্ণ-কানাই, বহিরঙ্গে রাধা।
রাই ও কানাই, আশেক-মাশুক—
ভিন্ন, তবু অভিন্ন মুখ
সমস্ত রং মিলেমিশে হয় যে সহজ সাদা
অন্তরঙ্গে কৃষ্ণ-কানাই, বহিরঙ্গে রাধা।
এক অঙ্গেই জীব ও পরম
একসঙ্গেই জিয়ন-মরণ
একক থাকে চিরকালই যুগলরূপে বাঁধা
অন্তরঙ্গে কৃষ্ণ-কানাই, বহিরঙ্গে রাধা।
ভাণ্ড
দেহখানা এই দেহ নয় ঠিক, শুধু সন্দেহ, ঘোর নেশা
আজব ভাণ্ড, কীর্তিকাণ্ড, ভাণ্ডটা খুব পরঘেঁষা।
আগুনকে বশ করছে পবন
পবনকে বশ করে কোনজন?
তরলে বায়ুর শাসন, মণিতে আয়ুর আসন, অন্বেষা...
আজব ভাণ্ড, কীর্তিকাণ্ড, ভাণ্ডটা খুব পরঘেঁষা।
মাটি ও লবণ দুজনেই বশ জলের কাছে
মোম থাকে ভীরু, গলনপ্রবণ, আগুনের আঁচে
মোমে ও মাটিতে, লবণে-পবনে, আগুনে-পানিতে সব মেশা...
আজব ভাণ্ড, কীর্তিকাণ্ড, ভাণ্ডটা খুব পর-ঘেঁষা।
একে তো ভীষণ মাটির তাপ
তার ওপর ফের পবনপ্রতাপ
কোন দিন এই চিলেকোঠা ফেলে কোথা যে পালাই, হারাদিশা...
আজব ভাণ্ড, কীর্তিকাণ্ড, ভাণ্ডটা খুব পরঘেঁষা।