জ্যোতিষ্কজীবন

অলংকরণ: এস এম রাকিবুর রহমান

প্রতি রাতে জ্যোতিষ্করা জানালায় ভিড় করে, ওরা ঘুমাতে দেয় না, কাজ করতে দেয় না। যখন একটা কবিতা লেখা শেষ হয়, ওদের শোনাই। চুপচাপ শুনে যায়, কেউ কোনো কথা বলে না। মাঝেমধ্যে মিটিমিটি হাসে কেবল;

কালপুরুষ রোহিণী শ্রবিষ্ঠা রেবতী আমার ঘরে ঢুকে পড়ে, মনোযোগী শ্রোতার ন্যায় বসে থাকে, মাঝেমধ্যে গলাখাঁকারি দেয়, ভাবখানা এমন, আমরা এসেছি, তবু কথা বলছ না? যখন আসব না, তখন বুঝবে!

মাথায় নতুন কবিতা আসে না, ঘরের মধ্যে পায়চারি করি, আনমনে বসে বসে এদিক–ওদিক তাকাই, অহেতুক কেটে যায় রাত, শেষ রাতে ভোরের আলো উঁকি দেওয়ার মুহূর্তে নতুন কবিতা আসে। সেই কবিতা ওদের শোনাই, দিনের আলো আসার আগে ওরা চলে যায়;

পুষ্যা জ্যোতিষ্ক বড় বেশি চঞ্চলা। যখনই চোখ বন্ধ করে ঘুমানোর চেষ্টা করি, ও এসে কানের কাছে ফিসফিস করে, ‘তোমার বাবার নাম ক্লডিয়াস টলেমি, জন্মের আগে আমাদের বিয়ে দিয়ে গেছেন। শর্ত ছিল একটাই, প্রতি রাতে আমাকে কবিতা শুনিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিতে হবে’;

কৃষকের ছেলে আমি, শাস্ত্র জানি না, কবিতার জমিনে কেবল বীজ বুনে যাই;