ঠোঁট চুম্বন ছাড়া আর কোনো ভাষা শেখেনি

অলংকরণ: এস এম রাকিবুর রহমান

ভাষাবিজ্ঞান

ঠোঁট চুম্বন ছাড়া আর কোনো ভাষা শেখেনি।

যা ঘটার, ঘটে গেছে আগেই। মানুষের মৃত্যু উপভোগ্য ও সমাদৃত। ফলে ভড়কে যাওয়ার অবসর নাই। দূরত্ব পদার্থবিজ্ঞানের প্রহেলিকা। তার ফারাক গোছাতে যাওয়ার মতো বোকামি করতে যাব না। আপনার পথে হেঁটে নিজের কাছেই পৌঁছাতে চাই। তবু এই পরিমিতি জানি, হাত বাড়ালে হাত ধরতে হয়।

এ–ও জানি, চুম্বনের পর কোনো নারী আর অনাত্মীয় থাকে না

হাসান

স্বস্তি ফিরিয়ে দাও। আম্মার অসুস্থতার সময় জীবনের কাছে ছিল এই প্রার্থনা।
যদি কেউ কাফের ভাবে, যখন এই চিন্তা মাথায় আসত, বুঝতাম, কোথাও শান্তি নাই আর।
ঘুম আর নিদ্রার ভেতরেও রয়েছে ফারাক।
‘আম্মা ঘুমাচ্ছেন, আপাতত এইটুকু শান্তির।’
জেগে থেকে তাঁকে পাহারা দিতে দিতে নিজের চোখকে
বলতাম: জেগে থাক, বাপ।
ক্ষণিকের অবহেলাও যেন তাঁকে না পায়।
সিঁদেল চোর পর্যন্ত নিদ্রা কেড়ে নেয়। নিদ্রা কেড়ে নেয় প্রিয় মানুষও।
আম্মার জন্য জেগে থাকা ছিল জান্নাত।
রাতে তাঁর ঘুম ভেঙে গেলে জানতে চাইতেন, সময় কত? আর কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে বলতেন, ‘এখনো ঘুমাস নাই!’
কিন্তু এই জিজ্ঞাসাও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
শুধু বলে গেছেন, একটা বাচ্চা বারবার তাঁর স্বপ্নে এসে হামাগুড়ি দেয়। আম্মার স্বপ্নের শিশু আজ আমার সন্তান।

অভিজ্ঞান

রাত জাগলে এখন কেউ আর বলে না, ‘ঘুমিয়ে যাও।’ অভিজ্ঞতায় জেনেছি, চোখের বিরাম হলে সবুজে মেলে স্থৈর্য; তেমনি পাখিরা উড়ে আসে ঝাঁকে ঝাঁকে—স্থিতির লোভে, শীতের উপদ্রব থেকে বাঁচার নিমিত্তে। যদিও পাহাড়ের তরাইজুড়ে তুরুকসওয়ারি হয়ে মৃত্যু দাঁড়িয়ে থাকে। আর সে নিয়ে আসে শৈত্যপ্রবাহ, আমরাও জেনে যাই : শীত বেড়ে গেলে শয্যাও পরিধেয় হয়ে ওঠে।

আবিষ্কার

যার ঘরে বসার পিঁড়ি পর্যন্ত নেই, সে–ও স্বপ্নে পালঙ্কে ঘুমায়! আজ বিকেলে নদীর তীর ঘেঁষে হাঁটতে হাঁটতে এক জেলের গল্প শুনেছি। মীনগন্ধা গা। তবু তার ঘরে মাছ জোটে না।

পাষাণভার বয়ে চলা মানুষের ভেতর পাথরের পুনর্জন্ম ঘটে;

—শুনতে পাই।

আত্মলীন এই সত্তা। কোনো দিন মানুষের কথা জানতে চাইনি।
তাদের থেকে সুবিধা নিয়েছি অহরহ। বৈপরীত্যে ঠাঁসা লোভী মন। এইটুকু উপলব্ধি নিয়েও বালিশকে কখনো জিজ্ঞেস করিনি, রাতে সে ঘুমায় কি না।

দ্বিধা নয়, স্বীকারোক্তি

ভালো না বেসে আজও কাউকে চুমু খাইনি।

—নিজের সঙ্গে এইটুকু সততা রক্ষা করেছি

অনেক দিন কেটে গেছে।

পাখিদের সঙ্গে কাটিয়েছি অনেক বেলা। ভোরের আলোয় প্রস্ফুটিত দ্বিধা কাটিয়ে যখন মেলে ধরো অপার তোমাকে, নিজেকে অসহায় লাগে; সম্ভাবনাহীন প্রতিটি দিন কত দোদুল্যমান, তবু আমরা উজ্জ্বল, তার অধিক বিভা নিয়ে আসে আমাদের হাসি; পাখিরা জাগার আগে তার সুর ভালোবাসি, তোমার কাছে কেন এসেছি? এমন জিজ্ঞাসার জবাবে বলি, তোমাকে ছাড়া আমার গত্যন্তর নাই

তোমার চুম্বনগুলো ছেলের কপালে তুলে দিয়েছি।

মাঝরাতে ঘুম ভাঙে, পিঠ লেপটে যায় ঘামে; তখনো ভাবি, আমার প্রতিটি মেয়ের নাম রাখব তোমার নামে