ডাক
ডাকতে মন চাইল
ডাকলাম
নাম ধরে ডাকলাম।
ডাকতে মন চাইল
আবার ডাকলাম
যে নামে কেউ ডাকে না।
ডাকতে মন চাইল
ডাকতেই থাকলাম বারবার
সাড়া না পাই
তবু ডেকেই যাই।
শরীরী ভাষা
তুমি দিলে আমি নিলাম
আমি দিলাম তুমি নিলে
লক্ষ্য দুজনের একই
শরীরে শরীর যায় মিলে।
শরীর যদি শরীর চায়
হৃদয় কি তখন হায়
হৃদয় খুঁজে পায়?
তারপরও এই পুরুষ তোমার প্রেমিক হতে চায়।
সোনালি সময়
তির্যক সোনালি রোদ
আরও তীক্ষ্ম নারী অবয়ব
টিকোলো নাকের ডগায়
সোনালি চুম্বন
পুরু ঠোঁটে ভাঁজে ভাঁজে
ঘন আহ্বান।
শাণিত ভুরুর নিচে
শাণ দেওয়া দৃষ্টি।
সূর্যের সেই সোনারঙা আলো
শরীরী বাঁকে এনে দেয়
মহুয়ার ঘ্রাণ।
হতে পারে সেই সূর্য সেই আলো
উদয়ের
হতে পারে সেই সূর্য সেই আলো
অস্তাচলের।
আলোটা সোনালি
হোক সে ষোড়শী-অষ্টাদশী
কিংবা
সূবর্ণজয়ন্তী পেরোনো এক নারী।
মুখ ও মুখোশ
মুখোশ পরা তোমার চোখ এখন অনেক উজ্জ্বল
ভুরু আরও তির্যক। আগে তেমন করে দেখিনি।
মুখোশের কারণে ফোকাস এখন তোমার চোখে
তোমার টিপে। তোমার চুলে
আমি তো পেতে চাই তোমার ঠোঁট, তীব্র চুমু
সে তুমিও বোঝো। বুঝিয়েও দাও মুচকি হাসির চোখে
মুখোশ বাঁচাবে জীবন। এখন মাস্ক তো জরুরি টাস্ক।
তবে কি জানো,
প্রাণ বাঁচে অবাধ শ্বাসে, অবারিত প্রশ্বাসে
ঠোঁটে ঠোঁটে তোমার-আমার গাঢ় স্পর্শে।
জীবাণুমুক্ত চুম্বনে তো প্রাণও মুক্ত হয়ে যায়।
বরইপাতা গরম জলে
বরইপাতা গরম জলে
শুয়াইয়া মশারির তলে...
আমি নিথর শুয়ে আছি
এ গানটা শুনতে পাই না।
পাই না সাদা কাপড়
শুধু কান্না চারিদিকে
কিন্তু আমি তো কান্না চাই না
চাই বরইপাতা গরম জলের গোসল।
আমার স্ত্রী, সন্তানেরা কাঁদছে
কাঁদছে বন্ধুরা
আমার কোনো স্বজন নেই
আছে অনেক পরিচিত মুখ
সবাই ঝাপসা...কিন্তু গলার স্বর পরিচিত-
‘আহা কী ভালো লোক ছিল!’
আগে যারা বলেনি তারাও বলছিল।
হঠাৎ একজন বলে উঠল, কেঁদো না
‘কানলে মুর্দার আজাব হয়’
নিমেষেই এল সাদা কাপড়,
যা আমার অনন্তযাত্রার একমাত্র সঙ্গী।
বরইপাতা গরম জলে...
সেই গান আর শোনা হলো না।
শোনা হবে না...