সন্ধ্যার বিস্তার
এ পথের অর্ধেক আলোয় অন্ধ কিছু কাক ক্রমে উড়ে যায়,
যখন সন্ধ্যা ধীরে পথ থেকে নেমে পথহীনতায় যেতে থাকে
তবু কিছু ছেঁটে ফেলা ঝোপঝাড়ে নাগরিক জোনাকিগুলো
মৃদুভাবে নিশ্বাস ফেলে আর ভাবে
উঠানের ঝোপ ছেড়ে এত দূরে উঠানহীনতায়
উড়ে আসতে হলো তাকে কবে কোন পথে
হয়তো সে আত্মা ছিল; কিন্তু আজ পথহীনতার আহ্বানে,
যখন সন্ধ্যা তারকার আলোয় নিঃসীম অনিদ্রার দিকে হাঁটে,
আর ফিরে ফিরে দেখে ঝোপঝাড়, তখন সে জোনাকি হয়
টের পায় সে কেবল একটি জোনাকি
হয়ে গেছে, যদিও হৃদয়ে গ্রাম, তবু থাকছে শহরের,
বিভিন্ন হৃদয়ের ফাঁকে আর থেমে থেমে জ্বলছে আর নিভছে
ফলে আর মৃত্যুর মতন ঘুম হয় না আমার
মানুষের হয়তো আত্মা নেই; আত্মাহীন মানুষের মৃত্যু হলে,
প্রেতাত্মারা তবু, আত্মার মতন যেন ঘোরে, আর সন্ধ্যাকে,
পথ ছেড়ে পথহীনতায় যেতে দেখে, জোনাকির মতো
ঝোপঝাড়ে গিয়ে বসে, থেকে থেকে ঘুঘুর মতন ডাক দেয়
তখন প্রেতাত্মা ভাবে, মানুষের আত্মা নেই, হয়তো বা
ঘুঘুর তা আছে, হয়তো অনেক মৃত্যুর পরে মানুষের
আত্মা জন্ম নেয়, আর সে সন্ধ্যা হলে পথহীনতার দিকে
নেমে যেতে থাকে; আর একমনে সন্ধ্যাকে দেখে
টের পায় সন্ধ্যার নিঃসীম আত্মা আছে
কোনো ঘুম হয় না আমার
মানুষের আত্মা নেই, জোনাকির আছে, সন্ধ্যার আছে,
সময়ের আছে, এই চিন্তা কোথা থেকে আসে এই বুকে
জানা নাই, যারা বলে চৈতন্য কেবল মানুষের
তাদের মূর্খ মনে হয়, কেননা প্রায়শ আমি দেখি
সন্ধ্যা পথ ছেড়ে নেমে যাচ্ছে পথহীনতায়,
অর্ধেক কাটা পড়া শরীরের জোনাকি জ্বলছে–নিভছে
নিঃসীম কাঁচি হাতে মানুষেরা ঝোপঝাড় আর
সময়কে কাটছে থেকে থেকে; মানুষকে কাটা হলে
শেষ হয়ে যায়, অথচ কর্তিত ঝোপ পুনরায় পূর্ণতার
দিকে যেতে থাকে