ঋক্ষ
খোলা উঠোনে জ্যোৎস্নার শামিয়ানা পাতা।
বাবা হারমোনিয়ামের তার সপ্তকে মানবসংগীত গাইছেন।
মোহাবিষ্ট শ্রোতাদের মতো
নিশ্চুপ হতে আমি পারিনি।
দেখলাম মন্দ্রসপ্তকে পারি গলা দিতে,
সুরের হেরফের লক্ষণীয়!
বাবা গান বন্ধ করে বললেন, ওপরে ওঠা
তেমন কঠিন নয়।
শেকড়ের প্রতি যত্ন
ও সম্মান থাকলেই তা হয়।
খাঁজ
এদিক–ওদিক ছোটাছুটির মন
ফিরে আসে কোণঠাসা বিকেল
আলো মেখে মেঘ নেমেছে গায়
সন্ধ্যা জমে শীতের জানালায়।
বাড়ছে আগুন ছন্নছাড়া মনে
বিষাদঘুমে মিথ্যেগুলো চুপ
আয়না জানে মন ভাঙার খেলা
মোহঘোরে ডাকছে কত শোক।
মরচে ধরা স্মৃতির পালক আজ
ধুলো পড়ে প্রণয়মলাটে
ছিন্নতারে নিষাদ ছুঁয়ে খাঁজ
মনপ্রাচীরের সন্ধ্যে ঘোলাটে।
রেখে গেছ ঝড়ে ডোবা দিন
জেগে আছে পোড়া স্বপ্নের হাঁক
ভোরের চোখে জলোচ্ছ্বাসের দাগ
যুদ্ধ শেষে চিহ্নটুকুই থাক।
বাংলার জীবনানন্দ
চোখে শালিকের হাসি, বুকে জমা রাখা কারুকাজ
বর্ষাকদমের গন্ধ, সিংহলি প্রণয় গড়ে সাজ
রূপসী সীমানা দেখে ধানফুলেরা ঘোরে টানে পাল
আতরের গন্ধ মেখে জেগে ওঠে যে শুভ্র সকাল।
জীবনে আনন্দ পেলে খুড়ে চলে হলুদ প্রহর
হিজলের কোলাহলে জেগে ওঠে বুকের শহর।
ফেরারি স্মৃতির ভিড়ে, শিখে নিই আবিরের নেশা
হারানো শব্দের তীরে ঢেউ করে অভিন্ন দূরাশা।
ঘাসের স্থিতির নীড়ে মেঘ ধরে আরামি কেদার
কত ফুলে জমে পাশা খেলা কোন সুখেতে আবার
সবুজে এসেছি ফিরে দুহাতে ছড়াই কত গন্ধ
সময় ফেরায় কাকে? তিনি বাংলার জীবনানন্দ।
ডানা
ঘুম ভাঙা মেঘ অভিসারে নামে, আয়না দেখেছে মুখ
আঙুল শিখেছে ছোঁয়াছুঁয়ি খেলা প্রথম গানের সুখ।
ভাবনা বোঝাই কুয়াশা নেমেছে সকালের চোখে ঢেউ
শিউলির বনে হেঁটে গেছে আজ হৃদয়কাঁপানো কেউ।
রোদ নামে যার ঠোঁটের জোয়ারে কাশফুল ফোটে চোখে
ইশারা কখনো চঞ্চল হয়ে সীমানা পেরোতে শেখে
চুলগুলো তার ধূপের বাগান হাওয়া ছুঁয়ে নিরালায়
এদিক–ওদিক শোঁকাশুঁকি করে প্রাণ যেন যায় যায়।
হারিয়ে গিয়েছে দ্বিধার জানালা প্রকাশ মেলেছে ডানা
তৃষ্ণা গড়ছে জোছনাপ্রহর কে করবে আজ মানা!