বিভোর পথিক
তোমার চোখেতে তারাপথ খেলা করে
মনেতে সাজানো রঙিন ফানুস গলি
গান ধরে নাও হঠাৎ কেমন স্বরে...
নীরব থেকেও স্বপ্ন বপন করি।
কী জানি কী করে এমন সজীব রেখো
এতটা দহন সহে ফেরা নীল মুখ...
পথে পথে চলো কুড়ায়ে অজানা সাঁকো
ভালোবাসা জানে মৌনতা কত সুখ।
বিভোর পথিক, থেমে যাও ভুলে আজ
ভবঘুরে দিন বাঁচিয়ে রেখো না যেন
থাক না শপথ—বাহানার শত বাজ
মনের বারণ মাদুলিতে হাসে কেন!
ছাতা
আমাদের রোদ আজ ছাতা ভুলে ফেলে গেছে দূরে।
চোখে তার বায়স্কোপি গান।
ঠোঁটে লেগে আছে কার হোমারের সংগ্রহের বুলি?
ঘাটশিলার চোখ বেয়ে নামচে ভ্রমণের আদি মোড়!
দোনাভরা স্বপ্ন নিয়ে মৃণ্ময়ী দেহদানের ঘোর
শেষ শেষ করে থামে;
কিন্তু প্রতীক্ষার গোঁফ টেনে আরও মূলে করে স্থিতি।
নাভিমূল জানে ঝড় আসা ইশারার নোনাবেগ।
ঈশানী হাওয়ায় শিখে
ফুলডুংরির রোদমাখা আদর।
বর্ষণ যদিও রুক্ষ হয়, তবু পরিচয় তার
তৃপ্তিতেই জেগে থাকে।
আমাদের রোদ ছাতা ফেলে কত জেনে গেছে;
মধুমাখা স্থিতি আর দেহমেঘের কী বনিবনা...
সঞ্চয়
হাত শুধু পাতা ছুঁয়ে ভেবে আছে ফুল
মেঘ দাগ টেনে নিজেকে করেছে কূল
চোখ খুঁজে রেখে দেয় ছড়ানো পালক
রোদ পারাবার গিলে নেমে গেছে দেহে
কোনো অজুহাত মানে না রসালো সন্ধ্যা
পাতার পিঠেই জ্বলে আজ শিশু আলো
বারণে মাস্তুল নামে নধরের মূলে
অকারণ ভুলে গেঁথে যায় দেহবাণ
ভ্রমণে সঞ্চয় থাক গিরিখাতে জমা
আগামীর পথ হলো ভ্রমণে রচনা।
মোহ
আভিজাত্যের দেরাজ
খুঁজতে খুঁজতে আমি অতিক্রম করি ইচ্ছামোহ।
যে গ্রহের ছায়াবনে খুদকুঁড়ো ছিটিয়ে
সাজিয়েছি হরিণী সংসার
এখন সেখানে চলে বেজির সন্ন্যাস পালা।
নাগপুত্র, শুনো,
ফণীমনসার প্রতিযোগ বৈভব মানে না,
বিস্তৃত উইয়ের ঢিবি জানে
প্রাচুর্য কখনো দিকপাল হতেই পারে না।
সময় পিতার মতো আকাশকে শাসিয়ে রাখে যেন
জলের সংলাপ চিরস্থায়ী বৃত্তান্ত প্রকাশ করে।
রাতভাষ্যে তীব্র হয় দেহগানের ঋষভ,
শব্দমোহে বেড়ে যায় কবিজন্মের ঋণ।
যুগল
বিবাদী দেয়াল মাথা নিচু করে আছে।
সুড়ঙ্গ ধুয়েছে মন।
ভ্রমণে পরিত্যক্ত মাস্তুল।
শ্বাসের পাহারা দেয় ঠোঁট।
নাড়ির অচিন গতি পেরিয়ে আরও দূরের পথ,
এঁকে যায় মধ্যমান
সন্ধানী পারদ।
তবুও ভষ্মের কাছে প্রশ্ন রাখে সুখ: যা পেলাম তা কী করে হয়েছে অক্ষয়?
সূত্রের মতন টেনে নিয়ে যাবে সুচারু ভবিতব্যের দিকে।
এভাবেই বুঝি চিহ্নিত সত্যের ছাপ বেড়ে ওঠে দিনে দিনে...
আর তুমি বেঁচে থাকো ধারণের মাঝে।
আমাদের বহুকাল এক হয়ে যায়
সিঁড়ির অন্তিম স্রোতে।