অদৃশ্য কণার উপাখ্যান

অলংকরণ: অশোক কর্মকার। গ্রাফিকস: প্রথম আলো

শূন্যতারও আছে গোপন এক অস্থির কর্মশালা
নিস্তব্ধতার ভেতর জেগে থাকে অদৃশ্য কারিগর
নিভৃতে, অলক্ষ্যে জন্ম নেয় আলোর কণাগুলি
অন্ধকারের পাশে এসে দাঁড়ায় তাদের প্রতিবিম্ব।

একটি কণা খুলে দেয় সময়ের গোপন দরজা
প্রতিকণাটি এগিয়ে চলে উজান স্রোত ধরে
তাদের ক্ষণিক মিলনে কেঁপে ওঠে শূন্যের তল
সংঘর্ষ শেষে ঝরে পড়ে বিশুদ্ধ শক্তির ধ্বনি।

ধ্বংস এখানে শেষ কথা নয়, কেবল রূপান্তর
ছাইয়ের ভেতর আবার জেগে ওঠে নতুন বীজ
শক্তির শরীর থেকে জন্ম নেয় যমজ সত্তা।

নবজাতকের চোখে হাসি-ভার্চ্যুয়াল কণা
মহাশূন্যজুড়ে চলে তাদের ক্ষুদ্র যাত্রাপথ…

চোখের আড়ালে লেখা হয় আগমন ও বিদায়
অস্তিত্ব যেন এক অনন্ত ভাঙা–গড়ার নদী…
প্রতিটি বিন্দুতে লুকিয়ে থাকে সৃষ্টির উল্লাস
প্রতিটি বিন্দুতে জেগে থাকে বিলয়ের ছায়া।

শূন্যতা কি কোনো নিস্তরঙ্গ অচিন প্রান্তর?
তারও গভীরে জ্বলে অনামা নক্ষত্রের আগুন
সময়ের বুকে ওঠানামা করে অদেখা তরঙ্গ।

জন্ম ও মৃত্যুর মাঝে বদলে যায় কেবল নাম
শূন্যের হৃদয়ে অনন্তকাল শক্তির উৎসব।