কাঁটাবনে গিয়ে প্লাস্টিকে গড়া কেয়া-কেতকীর ঘ্রাণ
পরাবাস্তবে শুঁকে শুঁকে আমি হয়ে উঠি সপ্রাণ।
আমাকে শোনায় বৃষ্টির গান শহুরে করাতকল,
তবু বারবার অবচেতনেই স্মৃতি করে ঝলমল:
কাল-কবলিত হয়েও আমার ঘটেনি বিস্মরণ:
জলকে বলেছি ‘বারি’ আর সেই বৃষ্টিকে ‘বরিষণ’।
ভুলব কী করে কদমতলার ভেজা সে নীলাম্বরী!
ভুল হতো শুধু ভেতরে কে ছিল—মানবী না মেঘপরি?
শাড়ি টেনেটুনে নিজেকে ঢাকার কত কী যে কৌশল
দেখে দেখে আমি ভেবেছি—সেসব রমণীসুলভ ছল!
ভেজা কেতকীর গন্ধে মাতাল বাতাসের মতো আমি
নিজেও হয়েছি কতটা উতলা—জানে অন্তর্যামী।
রবি বলেছেন: এমন বাদলে সব ‘তারে বলা যায়’;
আমি কাপুরুষ বলতে পারিনি, মরে গেছি লজ্জায়।
নীপবনে ভেজা নীলাম্বরীকে এখনো যাইনি ভুলে—
হলুদ বাতিরা চোখ-ঠারে তাই কদমের মতো ঝুলে