রুহুর ভাঁজে একটা গজল

অলংকরণ: এস এম রাকিবুর রহমান

সমুদ্রের কবিতা ২

অনেক বিপ্লব হইল ক্যালেন্ডারের পাতায়
রক্ত আর জবার সখ্য

দেশপ্রেম আর পলায়ন নিয়া কথা হইল
এইখানে আসি ঢেউয়ের কথাই

প্রাধান্য পাইল, আমাদের বেহুদা জন্মেরই বা
কী দরকার ছিল, কিম্বা মওতেরই বা কী দরকার আছিল!

কেবল আমরা গেছি বাঁচি, বাকিরা গেছে মরি—
এই তো হিসাব।

ইঞ্জিনচালিত নৌকায় চড়ি ছেঁড়াদ্বীপে যাইতে গিয়া
নৌকা হইতে নামি পড়লাম, তীরে বসি, দূরে কেয়াবন

আরও মনে হইতে থাকল
কেনই বা বালির ওপর ফ্লাইং ফিশ, রূপচাঁদা না আঁকি

উটপাখি আঁকছিলাম কাইল
কিংবা মাঝারি একটা মরা প্রবালের ওপর বসি পা দুলাইতে দুলাইতে

কুকুর আর কুকুরছানার চিন্তাহীন লাফালাফি দেখতেই থাকলাম
এতেই কী

দুনিয়ার সাথে পর্দা টানতে পারছি এইখানে আসি!
ফোন আইল জাহাজ ছাড়তে
আজ দুই ঘণ্টা লেট হইবে,

অতএব আরও দুই ঘণ্টা কথা কওয়া যাইবে সমুদ্রের লগে
কিন্তু আমার তো ব্যক্তিগত কোনো কথাই নাই দেখতেছি!

দূরে কোমরে দড়ি বান্ধা লাশ,

টানি টানি কারা যেন ছায়ার মতো বালির ওপর উঠাইতেছে,
আমার কোমরে কি বান্ধা আছে কোনো দড়ি!

যাই নাকি!

খামোখা, ওই দৃশ্যের দর্শক হওয়ার আমার কী দরকার আছে?

সমুদ্রের কবিতা ৩

অনেক প্রকার ডুব তুমি দিয়াছ এ জীবনে

তবু কেন সমুদ্রে ডুবাইতে আসছ?
সমুদ্রে সময়ের শুরু
এই ভাবনা কবে থাকি বদ্ধমূল হইল!

সমুদ্রে গোসল মানে
সময়ের শৈশবে ঘুরি আসার ঘটনা।

অতীত হইল মিথ্যাচারী রাখাল

আমরা তার ভেড়া।
বাতাসে চায়ের ধোঁয়া উড়ি যাইতেছে
এতিম করি চায়ের কাপটারে!

বুঝলাম, তাড়া আছে

ফিরতে হইবে আমাদেরও!

সমুদ্রের কবিতা ১৫

এইখানে দরিয়ার গোঙানি বন্য

এইখানে নর–নারীর দাপানি বন্য
এইখানে আকাশের সীমা বন্য

এইখানে জংধরা মেঘগুলিন বন্য
এইখানে গাঙচিলের গরিমা বন্য

শুধু রাইতের বারবিকিউর

আয়োজনটুকু বাদে!

সমুদ্রের কবিতা ২০

দাঁড়াই আছি জাহাজঘাটে একটা জাহাজ ভিড়বে
হারানো নাবিক বুড়া কাপ্তান কোত্থেকে যে ফিরবে

পায়ের শিকল বাজবে না আর

ভাঙবে না ঘুম গল্প শ্রোতার
ওই জাহাজে রেলিং ধরে থাকবে বসে
একটা তোতা দূর দ্বীপের

গুঁড়িয়ে দিয়ে নিজ আখের
রুহুর ভাঁজে একটা গজল তাও দিবে

জাহাজগুলা নাবিক যারা পাইবে নাম

ফেরত ফের লৌকিকের
মুছবে চুলের নীল কুয়াশা সেই শিপের

দাঁড়াই বসে দিন গুনে

রাত শেষের
প্রত্যুষে

সে জাহাজটা কবে যে
আসবেনে, আসবেনে!

সমুদ্রের কবিতা ৩৩

জানি আপনে অনেক কষ্টে
একটা জ্যান্ত ময়ূরের পালক জোগাড় করছেন

যাতে সমুদ্রের বাতাসে ছাড়তে পারেন।
আপনে বাতাসে ছাড়লে
আপনের কথামতো দেখবেন

বাতাস আপনের কথা রাখবে।
সে রঙিল পালক উড়ায়ে নিয়া
ঢেউয়ের উত্তাল মাতাল চুলে গুঁজি দিবে।

কিন্তু আপনি মন খারাপ করবেন না।
দেখবেন সমুদ্র বারবার তীরে
সেই ময়ূরের পালক বালির লগে

উগরায় দিবার চাইবে।
আপনি যদি চালাক হন আপনি ফেরত নিবেন না।
সে বারবার ফেরত দিতে চাইবে!

আপনি ভুলেও সমুদ্রে গেলে শামুক ঝিনুক কুড়াইবেন না।

ওইগুলা প্রকৃত শামুক ঝিনুক না!
কারণ, সমুদ্রের কাছে কিছুই জমা নাই
শুধু সময়ের মিথ্যা একটা ধারণা ছাড়া!