তোমাকে দেখিনি কোনো দিন,
অনেক দেখেছি।
একটা ঝরা পাতা আটকে গেছে চুলে,
কুয়াশায় মর্গের সামনে দাঁড়ানো অপেক্ষা,
মান্দার ফুল ধরেছ সূর্যাস্তের বিপরীতে,
অদূরে সমুদ্র, পাহাড়ের শীর্ষে মেঘেরা
ভিজিয়ে দিচ্ছিল মুখ
জেনেভা ক্যাম্পের আহত শিশুকে নিয়ে
হাসপাতালে গেছ,
সিঁড়িতে একটা ফড়িং প্রকাশে ফেরার
আকাশ পাচ্ছে না,
পড়ে গেল, তুললে, ক্ষত পাখা, তুমি বিষণ্ন
মানবতা নাকি পুঁজির ধাবন?
মধুর ক্যানটিনে বিতর্কে মেতেছ,
তরমুজের উপরিতলে সবুজ আর কালচে
ঢেউ দেখে,
সেঁজুতিনৌকায় তুমি মহানন্দাজলে
কুকুরের পিঠে উঠে কান ধরে ‘চল ঘোড়া চল’,
এক দলিত শিশু হাসছে—
তুমি ঘোড়সওয়ার নও—তুমিও
রজনীগন্ধা বনে ‘চাঁদের হাসি বাঁধ ভেঙেছে...’
গাইছ গৃহকোণে,
তির-বেঁধা-হৃদয়ে-উল্কি-আঁকা-হাত
গোঁড়ামি-পুস্তক কখনো ধরেনি,
পূর্বভাদ্রপদ তোমার সঙ্গে পদাবলি পড়ে।
কখনো বলিনি কথার শাশ্বতী মুখোমুখি বসে।
বলেছি। বলছি রাত্রিদিন।
শ্রোতা
সামাজিক অসামাজিক পতঙ্গদল,
বেহালার ছেঁড়া তার, না ফেরার পরম্পরারূপ,
বন্ধ জানালা, কাদায় পড়ে থাকা কলম
আর দূরতর বাতিঘর।
নিজের ব্যথার সেবা নিজের যত্নে করি।
কিছু নান্দনিক ক্রোধ আমাকে
সঙ্গশান্তি দিয়েছিল।